জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভারত সরকারের দেওয়া গান্ধী শান্তি পুরস্কার তার ছোট মেয়ে শেখ রেহানার হাতে তুলে দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান মঞ্চে বড় বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে নরেন্দ্র মোদির হাত থেকে পুরস্কার নেন শেখ রেহানা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গান্ধী শান্তি পুরস্কার দিতে পেরেছি। এটি ভারতের জন্য গর্বের।’
২০২০ সালের জন্য গত ১৯ মার্চ এ পুরস্কারের জন্য বঙ্গবন্ধুর নাম ঘোষণা করে ভারত সরকার। এ পুরস্কারের জন্য বিচারকমণ্ডলীর প্রধান ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মহাত্মা গান্ধী যে অহিংসার পথ দেখিয়ে গেছেন, একই ধরনের পথে বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরে অসামান্য অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধুকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।’
ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর বছর ১৯৯৫ সাল থেকে দেশটির সরকার প্রতি বছর ‘গান্ধী শান্তি পুরস্কার’ দিয়ে আসছে। গান্ধীর অহিংস নীতি পালন এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এ পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি রুপিসহ মানপত্র ও ঐতিহ্যপূর্ণ হস্তশিল্প সামগ্রী দেওয়া হয়। অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, তানজানিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস নায়ার গান্ধী শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন।
