করোনা মোকাবিলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি

২১২৫ কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২১, ১০:৫৭ পিএম

করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশকে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। এ অর্থ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা উন্নত করার পাশাপাশি যুবসমাজ, মহিলা এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানসম্পন্ন চাকরি পেতে সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংকের বোর্ডসভায় এ ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। শিগগিরই এ বিষয়ে দুইপক্ষের চুক্তি সই হবে। গতকাল শনিবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

চলমান ‘উন্নয়ন নীতি ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় এই অর্থ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, যার মাধ্যমে করোনায় অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ, নারীসহ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মানসম্মত কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে স্বল্প সুদে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। করোনার সংক্রমণ শুরুর পর গত এক বছরে চলমান কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে এ নিয়ে মোট ৭৫ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীর সবচেয়ে বড় অংশীদার বিশ্বব্যাংক। এরই মধ্যে দুই কিস্তির টাকা ছাড় করেছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বোন বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও কমে গেছে কর্মসংস্থানের গতি, বিশেষ করে উৎপাদনশীল খাতের। কভিড-১৯-এর কারণে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। এর অভিঘাত বেশি পড়েছে গরিব ও নারীদের ওপর।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনার কারণে বাংলাদেশে অনেক লোক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। কাজ হারিয়েছেন শ্রমিকরা। অনানুষ্ঠানিক খাতের অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে।

এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে, যাতে শ্রমিকরা তাদের কাজ ফিরে পান। ফলে তাদের আয়-রোজগারের পথ তৈরি হবে এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার হবে অর্থনীতি।

চলমান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫০ লাখ লোকের চাকরি সুরক্ষা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া দেশটির ব্যবসাবাণিজ্যে গতি বাড়াবে, খরচ কমাবে ও শ্রমবাজার চাঙা করবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালাইন কৌদুয়েল বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীতে সর্বস্তরের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি চাকরিজীবীদের ক্ষয়ক্ষতি এবং নারীদের চাকরির বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় নারীদের চাকরির বাজারে আনার পাশাপাশি শিশুদের জন্য মানসম্পন্ন ডে কেয়ারকে উৎসাহিত করা হবে। এ ছাড়া দেশের বেকার যুবক ও প্রবাসীদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্ত শ্রমবাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত