টাঙ্গাইলে সন্তান জন্মদানের ৫ দিনের মাথায় হাসপাতালের কেবিন থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকেলে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের দোতলায় ১১ নম্বর কেবিন থেকে রেদওয়ানা ইসলাম নামে ওই নারীর লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, রেদওয়ানাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই রেদওয়ানার স্বামী দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিজান পলাতক রয়েছেন। রেদওয়ানা টাঙ্গাইল জেলা কালচারাল অফিসার ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। আর দেলোয়ার হোসেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ভোলা শাখায় কর্মরত রয়েছেন।
কুমুদিনী হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২২ মার্চ সকালে প্রসব ব্যথা নিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন রেদওয়ানা। সকাল ১০টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। গত শুক্রবার হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে মেয়ে অসুস্থ থাকায় তিনি হাসপাতালের দোতলার ১১ নম্বর কেবিনে থেকে যান। শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের তিনতলায় শিশু ওয়ার্ডে ইনকিউবেটরে রাখা হয়।
গতকাল দুপুর ২টার দিকে রেদওয়ানার মামি খোদেজা বেগম ও শিশুটির পরিচর্যাকারী মর্জিনা বেগম শিশুটিকে মায়ের বুকের দুধ খাইয়ে পুনরায় তিনতলায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এসে কেবিনের দরজার তালা আটকানো দেখেন। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কেউ দরজা না খোলায় কর্তব্যরত নার্সকে তারা বিষয়টি জানান। পরে এক সেবিকা কেবিনটির দরজা অতিরিক্ত চাবি দিয়ে খুলে ভেতরে ঢুকে রেদওয়ানার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন তিনি।
টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার দীপঙ্কর ঘোষ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রেদওয়ানাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার স্বামীকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।
