প্রথমে ডেভন কনওয়ে এরপর অভিষিক্ত উইল ইয়াংয়ের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে বাংলাদেশের বোলাররা। পরে ইশ সোধির ঘূর্ণিমায়ায় নাস্তানাবুদ হয়ে ব্যাটসম্যানরাও ফিরেছেন লড়াই না করে। ফল যা হওয়ার তাই। প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৬৬ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ ম্যাচে এর চেয়ে বড় হার আছে বাংলাদেশের আর একটি। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কলকাতায় ৭৫ রানে হেরেছিল টাইগাররা।
হ্যামিল্টনে গতকাল নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টিম সাউদি টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। নির্ধারিত ওভারে ৩ উইকেটে ২১০ রানের বড় স্কোর গড়ে স্বাগতিকরা। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে একবারই দুইশ করেছিল নিউজিল্যান্ড। সেটা ২০১৩ সালে মিরপুরে। সেই ম্যাচে ২০৫ তাড়া করতে নেমে ১৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২৯ বলে ৫০ করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। গতকাল হ্যামিল্টনে তাকে দলে রাখা হয়নি। রান তাড়ায় ৮ ওভারে ৫৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। আফিফ হোসেন ও সাইফউদ্দিনের ৪৫ ও ৩৪ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৪৪ করতে পারে।
করোনা প্রটোকলের কারণে ওয়ানডে দলে সদস্যদের সঙ্গে ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড গিয়ে একমাসেরও বেশি সময় বসেছিলেন নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদরা। গতকাল তাদের খেলার সুযোগ আসে। এরমধ্যে শরিফুল ৪ ওভার বল করে ৫০ রানে উইকেটশূন্য থাকেন। নাসুম ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বলে উইকেট নেওয়াসহ ৩০ রানে নেন দুই উইকেট। নাঈম লকি ফার্গুসনের বলে ১৮ বলে ২৭ রান করে এলবিডাব্লিউ হন। এরপরের গল্পটা আসা-যাওয়ার। লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ আর মোহাম্মদ মিঠুন ফিরেছেন যথাক্রমে ৪, ৫, ৪ ও ১১ রানে। লেগ স্পিনার ইশ সোধির বলই বুঝতে পারেননি তারা। প্রথমে লিটন আউট হন ৫ বলে ৪ রান করে টিম সাউদির বলে ইশ সোধির হাতে ক্যাচ দিয়ে। এরপর সৌম্য আউট হন সোধির বল আগে খেলে ফেলায়। বোলারের হাতে উঠে যায় ক্যাচ। সোধির অফস্টাম্পের বাইরে পড়া সোজা বল মিঠুনের ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে আছড়ে পড়ে। প্রায় একই ভাবে আউট হন ১১ রান করা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও। এমন বিপর্যয়ের মাঝে আফিফ হোসেন একা দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি ৩৩ বলে ৪৫ রান করেন। ৫টি বাউন্ডারি আর একটি ছক্কা মেরেছেন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৫৬ বলে ৬৩ রানের একটা জুটি গড়েন। সাইফউদ্দিন ৩৪ বলে ৩৪ করে অপরাজিত ছিলেন। তার ৩ বাউন্ডারি ও এক ছক্কার কারণে বাংলাদেশ দেড়শোর কাছে যেতে পেরেছিল। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন সোধি। ফার্গুসন নেন ২ উইকেট। সাউদি ও হামিশ বেনেট একটি করে উইকেট নেন।
ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ওভারেই চমকে দেন অভিষিক্ত নাসুম আহমেদ। প্রথম ওভারেই আউট করেন ফিন অ্যালেনকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে সাড়া ফেলে দেওয়া এই ব্যাটসম্যান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করলেন ‘গোল্ডেন ডাক’ দিয়ে। এরপর মার্টিন গাপটিল ও কনওয়ে ৫২ রান যোগ করেন। পাওয়ার প্লেতে স্বাগতিকদের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৪৮ রান। শততম টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা গাপটিল ২ ছক্কা ও ৩ চারে ২৬ বলে ৩৫ রান করার পর নাসুমের দ্বিতীয় শিকার হন। এরপর ঝড় তোলেন ডেভন কনওয়ে। তার সঙ্গে যোগ দেন অভিষিক্ত ইয়াং। ৩২ বলে জুটি তোলে পঞ্চাশ। ৫৮ বলে তারা করেন একশ রান। প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি মারছিলেন। মোস্তাফিজ, সাইফ, শরিফুলরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। ৩৭ বলে ফিফটি করেন কনওয়ে। ইয়াং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ফিফটি পান ২৮ বলে। ৩০ বলে চার ছক্কা ও দুই চারে ৫৩ রান করা ইয়াংকে ফেরান শেখ মাহেদী হাসান। ৫২ বলে ১১ চার ও ৩ ছক্কায় কনওয়ে অপরাজিত থাকেন ৯২ রানে। অন্য প্রান্তে গ্লেন ফিলিপস ১০ বলে ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি হবে আগামীকাল মঙ্গলবার, নেপিয়ারে।
