৭৪৩ কোটি টাকার আরেকটি নতুন প্রকল্প পাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ও বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রাক-বাস টার্মিনাল নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এই অর্থের মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ৭০৬ কোটি টাকা। বাকি ৩৭ কোটি টাকা সিটি করপোরেশন নিজ তহবিল থেকে ব্যয় করবে। পরিকল্পনা কমিশনে এ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবের ওপর মূল্যায়ন কমিটির সভাও হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ এর কাজ শেষ করতে চায় সিটি করপোরেশন। সভার কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৬০০ টন কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু সঠিকভাবে তা ডাম্পিং করা হচ্ছে না। অন্যদিকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে করতে চাই। এত বেশি পরিমাণ বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে আলাদা জমির প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন হওয়ার পর এখন পর্যন্ত গাজীপুরে পরিকল্পিতভাবে কোনো বাস-ট্রাক টার্মিনাল গড়ে ওঠেনি। এ কারণে নগরীতে যানজট লেগেই থাকে। বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণে ৮টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, বর্জ্য সংগ্রহ করে ইনসিনারেশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জমি অধিগ্রহণ, বাস-ট্রাক টার্মিনাল স্থাপনের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধাদি প্রদান এবং যানজট কমানো।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ১০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। জমি ক্রয় বাবদ ব্যয় হবে ৭০৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় হবে ২৫ কোটি টাকা। প্রস্তাবনায় একটি জিপ গাড়ি ক্রয় বাবদ ৬৫ লাখ টাকা, দুটি ফটোকপি মেশিন ক্রয় বাবদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা, দুটি ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর কিনতে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত হয়েছে। এই সিটির আয়তন ৩২৯ দশমিক ৫৩ বর্গকিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে এটি দেশের সর্ববৃহৎ সিটি করপোরেশন। গাজীপুর, টঙ্গি পৌরসভাসহ মোট ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে সিটি করপোরেশন গঠিত হয়েছে।
