গত কয়েক দিনে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্তপ্ত পরিবেশে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। সাকিব আল হাসানের একটি ওয়েবে সাক্ষাৎকারের পর মাশরাফী হয়ে ওঠেন আরও খোলামেলা। অভিযোগ করেছেন, ক্রিকেট বোর্ড তাকে অবজ্ঞা করেছে। বলেছেন, টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়াটাও যে স্বেচ্ছায় ছিল না। সবশেষ ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকবাজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ২০ বছরের ক্যারিয়ার শেষে বোর্ডের কাছ থেকে আরও সম্মান আশা করেছিলেন। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে দেওয়া হলো দেশ রূপান্তর পাঠকদের জন্য সম্প্রতি আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে একেক নির্বাচক একেক রকম মন্তব্য করেছেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে নিচ্ছেন?
মাশরাফী : এটা সত্যি দুঃখজনক, ২০ বছর দেশের হয়ে খেলার পর আমি আরও ভালো কিছু আশা করেছিলাম। উইন্ডিজের বিপক্ষে দল ঘোষণার সময় (প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন) নান্নু ভাই বলেছেন আমার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এটা সত্য নয়। সব দেখে বুঝলাম মানুষ এক পক্ষের কথা শুনছে এবং তাদের কাছে বার্তাটাও ভুল যাচ্ছে। আমি নান্নু ও সুমন (হাবিবুল বাশার) ভাইকে বলেছি এখন আমি কিছু বলছি না কিন্তু মিডিয়া আমাকে জিজ্ঞাস করলে কোনো একদিন আমি সত্যিটা বলব। তারা বলছেন, আমার ফিটনেস ভালো নয়। কিন্তু আমি কোনো ফিটনেস টেস্টে হেরেছি কিনা তাদের কাছে এর ডাটা আছে, প্রমাণ আছে।
তাহলে কি মনে করেন আপনার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে?
মাশরাফী : আমার মনে হয় বিষয়টি অপেশাদারভাবে হয়েছে। ২০১৭ সালে যখন টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেই, তখন আমি ভালো ফর্মে ছিলাম। আপনাদের বোঝা উচিত ছিল আমি কখন থামব তা আমিই ভালো বুঝি। আবার ওয়ানডেতেও অবসর নেওয়ার ব্যাপারে আমাকে সরাসরি কেউ বলেনি। বিশ্বকাপের স্মৃতি নিয়ে অবসর নিতে চাইনি। ওরা বলতে পারত যে উইন্ডিজ সিরিজটা খেলে অবসর নাও। কোনো ক্রিকেটারকে যদি অবসর নিতে বলা হয় তবে তা একপক্ষ থেকে হতে পারে না। আমার সঙ্গে এটাই হচ্ছে। তবে ২০২০ জিম্বাবুয়ে সিরিজে আমাকে অবসর নেওয়ার কথা বলা হয়। আমি পাপন ভাইকে (নাজমুল হাসান পাপন) বলেছিলাম আমি বিপিএল খেলি এরপর জানাব। তিনি রাজি হয়েছেন। কিন্তু এরপর তারা আমার কাছে আর কিছু জানতে চাননি।
সংসদ সদস্য হওয়াতেই কি এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন?
মাশরাফী : যদি এটাই হয়, তবে আমার বলার কিছু নেই। যখন আমি খেলি তখন একজন খেলোয়াড়। কিন্তু যদি রাজনীতি এখানে টেনে আনা হয় তবে সেটা খুবই দুঃখজনক হবে। আসলে আমাকে নিয়ে কী করবে সে ব্যাপারে বোর্ড কখনই নিশ্চিত ছিল না। বিষয়টা অপেশাদারিত্ব মনে হয়।
বিশ্বকাপের সময় দুজন বোর্ড পরিচালক আপনাকে থামানোর পথ পেয়েছেন বলেছিলেন। এই গুঞ্জনের ব্যাপারে কী বলবেন?
মাশরাফী : এটা আমি বিশ্বাসই করিনি। কিন্তু বুঝতে পারলাম, আমার সঙ্গেই এমনটা হচ্ছে, তাহলে বাকিদের সঙ্গে কী হতে পারে। ওই সময়ে আমাদের দু’জন বোর্ড পরিচালক ইংল্যান্ডে থাকা অবস্থায় কয়েকটি টিভি চ্যানেলকে বলেছিলেন মাশরাফী খারাপ খেলছে, এখনই ওকে থামানোর সুযোগ, নেগেটিভ রিপোর্ট করেন। আমি তাদের নাম বলব না কিন্তু আমি সব জানি। ওই মিডিয়া কোনো রিপোর্ট করেনি, কিন্তু তারা বিষয়টি দলের কয়েকজনকে জানায়। ওই ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে কথা বলে। তারা ভয়ে ছিল তাদের সঙ্গেও না এমন হয়।
ডমিঙ্গো আপনাকে এক কাপ কফির অফার করেছিল?
মাশরাফী : হ্যাঁ, এখনই সেই নিমন্ত্রণের অপেক্ষায় আছি।
পাকিস্তান সফরের আগে অনুশীলনে গিয়েছিলাম, তখন সে জিজ্ঞাস করে তোমার পরিকল্পনা কী। আমি বলি তোমারটা আগে বলো এরপর আমি বলব। সে পাকিস্তান থেকে ফিরে এক কাপ কফির অফার করে আমাকে। কিন্তু এখনো সে ফোন দেয়নি।
আপনি কি মনে করছেন যে আপনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে?
মাশরাফী : আমাকে যখন বাদ দেওয়া হলো তখনই আমি বুঝে যাই দলে ফেরা কঠিন। এরপর আমার বয়স এখন ৩৮। আমি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলব। পেশাদারিত্ব কী তা দেখাব যা বিসিবি দেখায়নি। আমি কোড অব কন্ডাক্টের কারণে কখনই বোর্ডের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি, নাহলে মুখ বন্ধ রাখতাম না।
