আজ থেকেই অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে বাস-ট্রেন

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২১, ০১:৩০ এএম

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করার পর আজ বুধবার থেকে অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে গত মঙ্গলবার থেকেই বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেনের ধারণক্ষমতার অর্ধেক টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। তাতে ট্রেনের ভাড়া না বাড়লেও নগর পরিবহনের বাসের ভাড়া এখনকার তুলনায় ৬০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় গত সোমবার সব ধরনের জনসমাগম সীমিত করাসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে সরকার। সেখানে বলা হয়, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং ধারণ ক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

ওই নির্দেশনা পাওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়। সেখানেই আসন খালি রাখা ও ভাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন বিআরটিএ পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) সরওয়ার আলম। গত মঙ্গলবার তিনি বলেন, মালিক পরিবহন সমিতি সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেটি সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। গত বছরের প্রসঙ্গ টেনে এই কর্মকর্তা বলেন, এর আগে গত বছরের ১ জুন থেকে যেভাবে গণপরিবহনে যাত্রী বহন করা হয়েছিল, কাল থেকে সেভাবেই চলবে। বাসের অর্ধেক আসন খালি থাকবে, ভাড়া বাড়বে ৬০ শতাংশ। ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি যৌক্তিক কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয় তো সরকারের উচ্চ মহল থেকে সিদ্ধান্ত হয়ে আসে। তিনি এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কোনো গণপরিবহনে ৫০ শতাংশের অধিক যাত্রী বহন করলে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাল থেকেই তো কার্যকর হচ্ছে, প্রথম দিকে সচেতনতার জন্য তাদের বলা হয়েছে। পরে বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। 

আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আগামীকাল থেকে দেশের সব গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নেওয়া সাপেক্ষে ৬০ পারসেন্ট ভাড়া বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভাড়া পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।

তিনি বলেন, অর্ধেক আসন খালি রাখার পাশাপাশি গণপরিবহনে সবার মাস্ক পরা এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। গণপরিবহনের মালিক-শ্রমিকদের এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কাদের বলেন, জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব অফিস ও কারখানা অর্ধেক জনবল দিয়ে পরিচালনা করুন; উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, জনসমাগম সীমিত করুন। 

এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, মঙ্গলবার থেকেই ট্রেনের আসন সংখ্যার অর্ধেক ফাঁকা রেখে টিকিট বিক্রি শুরু করেছেন তারা।

তিনি বলেন, আমাদের সব ট্রেনে যে কয়টি আসন আছে, তার অর্ধেক টিকিট বিক্রি হবে। এখন থেকে আর ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট বিক্রি করব না। তবে ট্রেনে ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি বলে তিনি জানান। কতদিন এমন ব্যবস্থা থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতদূর জানি যে, প্রথমে দুই সপ্তাহ। পরবর্তী নির্দেশনা আসা পর্যন্ত এ নিয়ম মেনে চলা হবে বলে জানান। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এর আগে গত বছরের ৩১ মে একই নিয়ম চালু করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। তখনো ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হচ্ছিল, তবে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে ১৬ সেপ্টেম্বর আবার সব আসনে যাত্রী বহন শুরু হয় ট্রেনে।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত ৩০ নভেম্বরের পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। কিন্তু মার্চের শুরু থেকেই দেশে উদ্বেগজনক হারে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে দৈনিক রোগী শনাক্ত ৩০০-৪০০ জনের মধ্যে ছিল, সেখানে গত এক মাসে সেই সংখ্যা বেড়ে এ যাবৎ সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা মহামারী শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ। তাতে দেশে শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে; মৃত্যু হয়েছে মোট ৮ হাজার ৯৪৯ জনের। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে শনাক্ত হার তিন শতাংশের নিচে থাকলেও গতকাল পর্যন্ত তা বেড়ে প্রায় ১৯ শতাংশে পৌঁছেছে। গত দুদিন দেশে ৪৫ জন করে করোনা রোগী মারা গেছে। এক মাস ধরে এই ঊর্ধ্বগতিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যে সংক্রমণ ঠেকাতে গণপরিবহনে ফের অর্ধেক যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত সোমবারে দেশের ২৯টি জেলাকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বিবেচনায় ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফেনী ও চাঁদপুর রয়েছে এই ২৯ জেলার মধ্যে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত