আজ দেশের মোট ৫৯টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ঢালিউডের তরুণ দুই শিল্পী শান্ত খান ও প্রার্থনা ফারদিন দীঘি অভিনীত চলচ্চিত্র ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’। করোনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হলে মুক্তি পাওয়া এটিই প্রথম সিনেমা। সবচেয়ে ভালো দিক হলো এ মুভির জন্য দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ২০টি প্রেক্ষাগৃহ চালু হচ্ছে। গত ২৫ মার্চ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্রটি। মুভিটির পরিচালক ও প্রযোজক সেলিম খান বলেছেন, ‘দেশে এখন চালু হলের সংখ্যা ৫০টির মতো। হল মালিকরা অপেক্ষায় আছেন ঈদের জন্য। তবে সুখবর হলো, জাতির জনককে নিয়ে তৈরি এ সিনেমার জন্য বন্ধ থাকা ২০টি প্রেক্ষাগৃহ চালু হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৯টি হলে মুক্তি পাচ্ছে মুভিটি।’বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে সিনেমাগুলো হচ্ছে তার মধ্যে এটি বেশ আলাদা। কারণ এখানে পরিণত বয়সের বঙ্গবন্ধুর চেয়ে তার শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যকে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখানো হবে। বঙ্গবন্ধুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শান্ত খান। তিনি বললেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির পিতা। এমন একজন মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছি, তার ব্যাপারে আর কী বলব। তিনি সবার মনের মধ্যে আছেন। এমন একটি কালজয়ী চরিত্রে কাজের সুযোগ পাওয়াটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। জীবনে হয়তো আরও অনেক কিছু পাব, কিন্তু এ প্রাপ্তির চেয়ে বড় কিছুই হতে পারে না।’ শান্ত আরও বলেন, ‘এ সিনেমা দিয়েই আমার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু আমি খুব নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম। তাই নিজেকে একটু ঝালিয়ে নিতে প্রেমচোর ও বিক্ষোভ মুভি দুটি করেছি। ক্যামেরাভীতি কাটাতে এবং অভিনয়ে নিজের খামতিগুলো খুঁজে পেতে এ মুভিগুলো কাজ করেছে। এরপর বঙ্গবন্ধু চরিত্র নিয়ে অনুশীলন শুরু করি। মুভিটি করতে মাত্র এক মাস সময় লেগেছে। কিন্তু তার আগে লম্বা সময় ধরে চরিত্রটি নিয়ে কাজ করেছি। শ্যুটিংয়ের সময় রাতে টেনশনে ঘুমাতে পারতাম না। তাকে নিয়ে প্রচার বই পড়েছি, তার ভিডিও দেখে আয়ত্ত করার চেষ্টা করেছি হাঁটাচলা, কথাবার্তার ধরন। আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। মুভিটি আজ থেকে দর্শকের সামনে উন্মুক্ত, বাকিটা তারাই বলবেন।’
দুদিন আগেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এ মুভির প্রিমিয়ার শো হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শান্ত খান। দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল জানতে চাইলে বলছিলেন, ‘এই দিনটি আমার আজীবন মনে থাকবে। অনেক কষ্টের সিনেমাটি দর্শক দেখে আমার যে প্রশংসা করেছেন তা আমার আগামী দিনের চলার অনুপ্রেরণা। তবে আমার হাত-পা কাঁপছে ভয়ে। মুভিটি সারা দেশের দর্শকের কেমন লাগবে সেটি ভেবে। আবার আনন্দও লাগছে। কারণ আমি বঙ্গবন্ধুর মতো মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছি।’
মুভির নায়িকা দীঘি এখন মুম্বাইয়ে শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত ‘বঙ্গবন্ধু’ সিনেমার শেষ লটের শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত। মজার বিষয় হলো, দুটি সিনেমাতেই তিনি বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। মুম্বাই থেকে দীঘি বললেন, ‘আমাকে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের জন্য আরও বেশ কিছুদিন মুম্বাই থাকতে হবে। এজন্য খুব মন খারাপ। কারণ নিজের একটি ভালো মুভির মুক্তির সময় উপস্থিত থাকতে পারলাম না। প্রিমিয়ার শোতেও থাকা হলো না। তবে দেশে ফিরে আমার প্রথম কাজ হবে মুভিটি হলে গিয়ে দেখা। দারুণ একটি মুভি হয়েছে। এর পুরো টিমকে আমার পক্ষ থেকে অভিনন্দন। আমি এই মুভিটি নিয়ে সত্যিই আশাবাদী। সবাইকে অনুরোধ করব হলে গিয়ে মুভিটি দেখতে। দেখে জানাবেন আমার অভিনীত প্রথম মুভিটি কেমন হলো। সেটা জানার জন্যও আমি এক্সাইটেড।’
প্রযোজক সেলিম খান জানান, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তৈরি সিনেমাটি সারা দেশে দেখানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এতে অনেক হল মালিকই সাড়া দিয়েছেন। ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ মুভিটির উপদেষ্টা পরিচালক হিসেবে আছেন শামীম আহমেদ রনী। সিনেমার অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, জিয়াউল হাসান কিসলু, শিবা শানুসহ অনেকে।
