ডিসিসিআইর আলোচনা সভা

ব্যবসা পরিচালনা সূচক উন্নয়নে বিচারব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ১২:৫৭ এএম

পৃথিবীর অনেক দেশ বাণিজ্যবিষয়ক আইনি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সংশ্লিষ্ট আইনের যথাযথ প্রয়োগ, কোর্ট কার্যক্রমের অটোমেশন, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের প্রবর্তন, বিশেষায়িত বাণিজ্যিক কোর্ট চালু ও এডিআর কার্যক্রম সম্প্রসারণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে বাণিজ্যবিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রায় চার বছর সময় লেগে যায়। তাই ব্যবসা পরিচালনা সূচকে উন্নতি করতে বিচারব্যবস্থা সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা : ব্যবসা পরিচালন সূচকে অন্যতম অনুষঙ্গ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এমন অভিমত তুলে ধরেন তারা। ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার।

সালমান এফ রহমান বলেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকার কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। আগামীতে তা অব্যাহত থাকবে। বিডার ওএসএস সেবা পুরোদমে চালু হলে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জিডিপিতে করের অবদান খুবই কম। করের আওতা যত বাড়ানো যাবে, ততই করের হার কমানো সম্ভব হবে। এটি আমাদের ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় কমাতে অবদান রাখবে। গত অর্থবছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রায় ৫৫ হাজার নতুন করদাতাকে করের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।

দেশের বন্দরগুলোর সক্ষমতা সম্প্রতি বেড়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও উন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বে টার্মিনাল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কক্সবাজার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলযোগাযোগসহ পদ্মা সেতুর মতো সরকারের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে, জানান তিনি। সালমান এফ রহমান বলেন, আগামীতে বৈশি^ক প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় সরকার মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বারোপসহ বিশেষ বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এ সময় মামলা পরিচালনার দীর্ঘসূত্রতা নিরসনকল্পে ‘মামলার সময় ব্যবস্থাপনা’ উন্নয়নে গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। বলেন, সরকার অনেক সময় বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সত্ত্বেও ব্যাংক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে তা যথাসময়ে না পৌঁছানোয় জরিপের সময় কম পয়েন্ট পেতে হয়। এতে সংস্কার করেও তেমন লাভ হয় না। এ জন্য যেকোনো সংস্কারের সংবাদ দ্রুত ব্যবসায়ীসহ সব স্তরে যেন সবাই প্রচার করে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার জানান, বাণিজ্য বিরোধবিষয়ক মামলা পরিচালনায় ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ই-ফাইলিং, প্রমাণাদি সংরক্ষণে ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হবে। ফলে এ ধরনের বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান দেউলিয়াত্ব আইন-১৯৯৭ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তি সহজ করার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে ‘কমার্শিয়াল কোর্ট’ ও কমার্শিয়াল অ্যাপিলেড কোর্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্যবিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রায় চার বছর লেগে যায়। তবে পৃথিবীর অনেক দেশ এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতা কমাত আইন প্রয়োগ, কোর্ট কার্যক্রমের অটোমেশন, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের প্রবর্তন, বিশেষায়িত বাণিজ্যিক কোর্ট চালুকরণ ও এডিআর কার্যক্রমের সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ সময় প্রতিযোগিতার সক্ষমতার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন চেম্বারের সভাপতি। বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে বেশি হারে এডিআর ব্যবহারকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগী সক্ষমতায় উন্নতি প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাত্তার অ্যান্ড কোংয়ের প্রধান মো. সামির সাত্তার। তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তির সময়সীমা কমানোর লক্ষ্যে ‘সিভিল প্রসিডিউর কোড (সিপিসি)’-এর সংস্কার জরুরি। সেই সঙ্গে মামলার ক্ষেত্রে ই-ফাইলিং প্রক্রিয়া ও কোর্ট ফি প্রদানে ই-পেমেন্টব্যবস্থার প্রবর্তন, ইলেকট্রনিক কেইস ম্যানেজমেন্ট প্রভৃতি চালু করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা পরিচালন সূচকে দেউলিয়ার বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে লক্ষ্যে একটি রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক গঠন করা যেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত