‘টেস্ট দল হিসেবেও আমরা ভালো করব’

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ০১:৩২ এএম

টেস্ট ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন বুকে নিয়ে এগিয়ে চলা। কিন্তু স্বপ্নপূরণটা যে এত দ্রুত হয়ে যাবে ভাবেননি জাহানারা আলম। প্রত্যাশার আগেই প্রাপ্তিযোগে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত নারী ক্রিকেটের পোস্টার গার্ল। তবে নিজেদের দায়িত্বের দিকটাই এখন বড় করে দেখছেন তিনি। দেশ রূপান্তরকে দেওয়া তার একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সাদা-পোশাকে যাত্রার আগে নিজেদের করণীয় দিকগুলোও।

টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির অনুভূতি জানতে চাই প্রথমে।

জাহানারা আলম : আলহামদুলিল্লাহ, আসলেই আমি অনেক খুশি। ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার আগে অন্তত টেস্ট খেলে যেন অবসরে যেতে পারি, এ রকম একটা স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। এ জন্য আমি আরও বেশি খুশি। ইনশাআল্লাহ, টেস্ট দল হিসেবেও আমরা ভালো করব।

কিন্তু হঠাৎ করেই এই খবরটা এসেছে। এত দ্রুত টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার কথা নিশ্চয়ই ভাবেননি?

জাহানারা : ২০১৮ ও ২০২০ এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন আইসিসি আমাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিয়েছিল, কীভাবে নারী ক্রিকেটের উন্নতি হবে তা নিয়ে। আমরা কী কী চাই, বা কী কী করলে এটা আরও বেশি ফোকাস পাবে, এসব জানতে চেয়েছিল। তখন আমরা উপস্থাপন করেছিলাম যে আমরা টেস্ট খেলতে চাই। তারা বলেছিল, ঘরোয়া ক্রিকেট যদি তোমরা করতে পার, আমাদের আপত্তি নেই। আমরা ব্যবস্থা করে দেব। কিন্তু এরপর তো করোনাই এলো। বলতে পারেন দু’বছরের মধ্যে যে সুখবরটা পাব এটা আশা করিনি, এটা অপ্রত্যাশিতই। টেস্ট ক্রিকেট এমন একটা খেলা যা খেলতে পারা মানে ক্রিকেট ক্যারিয়ারে পূর্ণতা পাওয়া। আমি মুখিয়ে ছিলাম খেলার জন্য। এটা পাওয়ার পর আমি খুব খুশি যে পরিপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে অবসরে যেতে পারব। আইসিসিকে ধন্যবাদ। যদিও আমরা পূর্ণ সদস্য দেশ হওয়ার পরও অপেক্ষার পর টেস্ট মর্যাদা পেয়েছি। কিন্তু টেস্ট মর্যাদা তো টেস্ট মর্যাদাই।

‘অপ্রত্যাশিত’ এই প্রাপ্তিতে প্রস্তুতির ব্যাপারটাও আসছে। বাংলাদেশের মেয়েরা আসলে টেস্টের জন্য কতটা তৈরি এখন?

জাহানারা : ক্রিকেট বোর্ড করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে উদ্যোগ নিয়েছিল দুই দিনের ম্যাচ খেলার জন্য। প্রস্তুতি আমাদের মোটামুটি ছিল। যেহেতু ওটা থেমে যায়, এখন ইনশাআল্লাহ আমরা ধাপে ধাপে আবারও এগোব সেদিকে। যেহেতু আইসিসির পুরোপুরি নির্দেশনা আমরা হাতে পাইনি যে রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন কী হবে, ফিকশ্চার কী হবে। এগুলো সবকিছু পাওয়ার পর হয়তো আমরা ওভাবে সামনে এগুবো। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমরা ভালোভাবে তৈরি হয়ে সামনে এগোতে চাই। আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামার আগে অবশ্যই আমরা ঘরোয়া পর্যায়ে তৈরি হতে চাই। ভালো ভালো ম্যাচ খেলতে চাই। নিজেদের ভালোভাবে ঝালিয়ে নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারফর্ম করতে চাই এবং আমার বিশ্বাস আমরা ভালো করতে পারব।

পুরুষদের ক্রিকেটেও টেস্ট মর্যাদার সময় সেভাবে অবকাঠামো ছিল না। আর সে কারণেই ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো টেস্টে বাংলাদেশ সেভাবে সবার দৃষ্টি কাড়তে পারেনি। নারীদের যাত্রাটাও তো তেমনই হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?

জাহানারা : পুরুষ বলেন বা নারীদের ক্রিকেট, ভালোভাবে তৈরি হয়ে না গেলে আসলেই লড়াই করা মুশকিল। সেটা যে কোনো ফরম্যাটেই হোক। টেস্ট ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেখানে আপনাকে প্রপার স্কিলফুল হতে হবে, না হলে আপনি লম্বা সময় টিকে থাকতে পারবেন না। কারণ এটা ২০ বা ৫০ ওভারের খেলা না। এখানে বোলিং, ফিল্ডিং বা ব্যাটিং আপনাকে অনেক বেশি ফিট থাকতে হবে। সেই সঙ্গে প্রপার স্কিলফুল হতে হবে। এই দিকটা যদি চিন্তা করা হয়, আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে যারা আছে, আমাদের এর মধ্যে একটা বয়সভিত্তিক দল (অনূর্ধ্ব-১৭) তৈরি হচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দল, ইমার্জিং দল তৈরি হয়ে আছে। জাতীয় দল আছে। চারটা দল আমি ধরে নিতে পারি মেয়েদের ক্রিকেটে তৈরি হয়ে আছে বা হওয়ার পর্যায়ে আছে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ায় তৃণমূল থেকে এখন যে মেয়েরা উঠে আসবে, তারা টেস্ট ক্রিকেটারদের সংস্পর্শে আসবে। সেই মানসিকতা নিয়ে তারা তৈরি হবে। ওরা যদি ফিটনেস লেভেল, স্কিল লেভেল এসব দিকে তৈরি হয়ে আসে বা সেভাবে এগোয়, তাহলে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ দল ভালো কিছু পেতে যাচ্ছে। আর আমরা এই প্রজন্ম যদি টেস্ট ক্রিকেটে খেলে একটা ভিত তৈরি করে দিয়ে যেতে পারি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম পৃথিবীর অন্যান্য বড় টেস্ট খেলুড়ে দেশের মতো লিড করবে বলে আমার বিশ্বাস।

অবকাঠামোর প্রসঙ্গে যদি আসি। একটা টেস্ট দল হিসেবে অন্তত মেয়েরা আলাদা মাঠ তো দাবি করতেই পারে

জাহানারা : আসলে আমি একটু অন্যভাবে চিন্তা করি। আমাদের আলাদা ভেন্যু বা মাঠের দাবি নেই। আমার কথা হচ্ছে যতটুকু পাচ্ছি এইটুকুর মধ্যে যদি আমি নিজেকে তৈরি করে দেশের জয়ে অবদান রাখতে পারি, সেটা আলহামদুলিল্লাহ। একটা উদাহরণ দিই। আমাদের ইমার্জিং দলের সঙ্গে খেলা কাল (আজ) থেকে চালু হচ্ছে। এটার জন্য কিন্তু আমরা ফোর স্টার হোটেলে থেকে, বড় মাঠ ব্যবহার করে তৈরি হয়ে মাঠে নামছি। এখানে কিন্তু আলাদা ভেন্যুর কোনো প্রশ্নই থাকে না। আমরা যথেষ্ট ভালো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি। আমি মনে করি না আমাদের আলাদা কিছুর প্রয়োজন আছে। যেটুকু পাচ্ছি, এর মধ্য থেকে আমরা কতটুকু ফিড ব্যাক বাংলাদেশকে দিতে পাচ্ছি এটাই হচ্ছে মুখ্য বিষয়।

এখন বাংলাদেশ তিন ফরম্যাটে খেলবে। তিন ফরম্যাটে মানিয়ে নেওয়া ব্যাপারও তো আসবে

জাহানারা : আন্তর্জাতিকভাবেও কিন্তু মেয়েদের টেস্ট ক্রিকেট অনেক কম হয়। আমরা যে কয়টা ম্যাচ পাব, সেগুলো আমরা খেলার চেষ্টা করব। আমাদের মধ্য থেকে একেকজন কিন্তু একেক রকম স্কিলের। এটা বাই বর্ন বা বাই মেকানিক্যালি কেউ টি-টোয়েন্টির জন্য ভালো, কেউ ওয়ানডের জন্য। টিম তৈরি হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আমার বিশ্বাস যে আমরা ভালো করব।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন?

জাহানারা : এটা তো অনেক বড় সম্মানের জায়গা। কার না স্বপ্ন থাকে। যদি ভাগ্যে থাকে নসিবে থাকে। নসিবের ওপরই ছেড়ে দিলাম। স্বপ্ন তো সবারই থাকে, এটা অনেক গর্বের বিষয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত