অ্যাসিডিটির প্রতিকার

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ১২:৪৭ এএম

পেটের যেকোনো সমস্যাকেই গ্যাস্ট্রিকের বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বলে মনে করা উচিত নয়। এতে সঠিক রোগের ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কেউ কেউ বাজার কিংবা ফার্মেসি থেকে গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট কিনে নিয়ে আসেন আর না বুঝে সেগুলো সেবন করেন। এতে নিজের অজান্তেই শরীরের অনেক ক্ষতি করে ফেলি, যা বুঝতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়।

অ্যাসিডিটির উপসর্গ

* পেটের বামপাশে ব্যথা * বুক জ্বালাপোড়া * খাবারে অরুচি * পেট জ্বালাপোড়া * পেট ফেঁপে থাকা * মাথা ঘোরানো * বমি বমি ভাব * অল্প খাবারের পর পেট ভরে গেছে মনে হওয়া। গ্যাস্ট্রিক আলসারের সবচেয়ে অপরিচিত উপসর্গ হচ্ছে খাবার খাওয়ার চাহিদা বেড়ে যাওয়া।

কারণ

অনিয়মিত খাবার গ্যাস্ট্রাইটিসের অন্যতম কারণ। খাবার অনিয়মিত খেলে কিংবা দুই বেলার খাবারের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি থাকলে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ক্ষরণ বেড়ে গিয়ে গ্যাস্ট্রাইটিস হয়ে যায়। তাই নিয়মিত খাবার গ্রহণ করা, সময়ের ব্যবধান ঠিক রাখা, কোনো বেলা না খেয়ে থাকা পরিহার করা এসব বিধি মেনে জীবনযাপন করতে পারলে খুব সহজেই এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

ভাজা-পোড়া খাবার

গ্যাস্ট্রাইটিস রোগের আরও একটি বিশেষ কারণ হলো তেলে ভাজা খাবার কিংবা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খাওয়া। তেলের খাবার হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ক্ষরণ বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। অনেকেই তেলে ভাজা খাবার খুব পছন্দ করেন। কেউ কেউ খুব বেশি ভাজা-পোড়া খাবার খেয়ে থাকেন। বাড়িতে কিংবা বাইরে এসব খাবার খাওয়া কখনোই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এসব খাবার অতিরিক্ত খেলে খুব দ্রুতই যে কেউ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে বাইরে, খোলাবাজারে, রাস্তায় এসব ভাজা-পোড়া খাবার ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে। যারা সচেতন

থাকতে চান তারা এসব খাবার এড়িয়ে যাবেন এবং সেই সঙ্গে চেষ্টা করবেন বাড়িতেও ভাজা-পোড়া খাবার না খাওয়ার অভ্যাস করা। কারণ এটি শুধু গ্যাস্ট্রাইটিসই নয়, শরীরের নানা রকম রোগের কারণ হতে পারে।

প্রতিকার

* নিয়মিত খাবার খান, বেশি বেশি পানি পান করুন। * রাতে খাবারে পর ২০-৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করে ঘুমাতে যান। * সকালে ইসবগুলের ভুসি ভিজিয়ে পান করুন। এতে করে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিউট্রালাইজড হয়ে যাবে। * সকালে খালি পেটে ২ গ্লাস পানি পান করুন। * দিনে ১৩০ গ্রামের বেশি মাংস খাবেন না। * তেলে ভাজা ও তৈলাক্ত খাবার পরিহার করুন। * একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

গ্যাস্ট্রাইটিসের জন্য চিকিৎসা

* প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরি শ্রেণির মেডিসিনগুলো অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দিতে ভূমিকা রাখে। সেসব ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে। * অ্যান্টাসিড শ্রেণির ড্রাগসমূহ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে পারেন। * ঐ. ঢ়ুষড়ৎর ডায়াগনোসিস হলে ট্রিপল থেরাপি দেওয়া হয়। * বমি বমি ভাব থাকলে উড়সঢ়বৎরফড়হ ব্যবহার হয়। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসক রোগীকে প্রয়োজনীয় ড্রাগ দিয়ে চিকিৎসা দেবেন। নিজ থেকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের নাম করে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত