দেশীয় চলচ্চিত্র শোচনীয় অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছেই। এরই মধ্যে লকডাউন ঘোষণার পর থেকে নাটক-সিনেমার শ্যুটিং চলা না চলা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন সংশ্লিষ্টরা। সংগঠনগুলোর বক্তব্যেও ছিল বেশ ঢিলেঢালা ভাব। অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় নাটকের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে একটি যৌথ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়, লকডাউন চলাকালে (৫-১১ এপ্রিল) নাটকের শ্যুটিং করতে হবে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। অবশ্যই সেটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং শিল্পী-কুশলী-নির্মাতাদের যৌথ সম্মতিতে হতে হবে। অভিনয়শিল্পী সংঘ সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়ংকররূপে ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। এমতাবস্থায় স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক নিরাপত্তা উপেক্ষা করা সুবিবেচনাপ্রসূত হবে না। তাই সংশ্লিষ্ট সব শিল্পী-কলাকুশলীদের এই ৭ দিন জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরুরি শ্যুটিং করবেন তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আন্তঃসংগঠনের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ শেষ করে নিরাপদে গৃহে অবস্থান করুন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো শিল্পী-কলাকুশলীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্যুটিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে জোর করা যাবে না। এবং শ্যুটিং শুরু ও শেষ করতে হবে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে।’
লকডাউনে সিনেমা হল বন্ধের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনও নির্দেশনা না পাওয়ায় সিনেমা হল খোলা রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে হল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সিনেমা হল বন্ধ করা হবে কিনা সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই লকডাউনে হলে ছবি প্রদর্শন করা হবে বলে জানান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন। তবে চলচ্চিত্র বিষয়ক অন্যান্য সংগঠন থেকে শ্যুটিংয়ের ব্যাপারে এখনো কোনো সমন্বিত সিদ্ধান্ত আসেনি।
এমন সিদ্ধান্তহীন পরিস্থিতিতে লকডাউন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন পরীমনি ও তার ‘মুখোশ’ টিম। ঘোষণা এলো, চলমান শ্যুটিং প্যাকআপের। ইফতেখার শুভ পরিচালিত সরকারি অনুদান পাওয়া এই ছবির কাজ চলছিল দ্রুতলয়ে। সম্প্রতি বইমেলা, পদ্মারচর, এফডিসি হয়ে দেশের বিভিন্ন লোকেশনে চলছিল ছবির শ্যুটিং। যা স্থগিত করা হলো গত ৩ এপ্রিল বিএফডিসিতে শ্যুটিংয়ের মধ্য দিয়ে। নির্মাতা ইফতেখার শুভ বলেন, ‘সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে শ্যুটিং স্থগিত করেছি আমরা। লকডাউন শিথিল হলে রোজার ঈদের পর বাকি শ্যুটিং সম্পন্ন করব। আমাদের মূলত অল্প ক’টি দৃশ্য আর গানের শ্যুটিং বাকি আছে। এক সপ্তাহ সময় পেলে এটিও শেষ করতে পারতাম। কারণ, খুব গতি নিয়ে আমরা এবারের কাজটি করছিলাম। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে গতকাল রাতে সবাই মিলে প্যাকআপের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, আগে বাঁচা জরুরি।’ ‘মুখোশ’-এ পরীর বিপরীতে আছেন রোশান। আরও অভিনয় করছেন মোশাররফ করিম, ইরেশ যাকের, প্রাণ রায় প্রমুখ। ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে কোরবানির ঈদে।
পাবনায় শাকিব খান শ্যুটিং করছিলেন ‘অন্তরাত্মা’ ছবির। যদিও চোখে আঘাতের কারণে তার ছবির শ্যুটিং বন্ধ। কিন্তু ছবির পরিচালক বলেন, ‘হিরোর আঘাত খুব গুরুতর নয়। আমরা দু একদিনের মধ্যে আবার শ্যুটিং শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু লকডাউনের জন্য সব স্থগিত করে ঢাকা ফিরছি।’
উত্তরবঙ্গে দামাল ছবির শ্যুটিং করছিলেন নির্মাতা রায়হান রাফী। তিনি বলেন, ‘লকডাউন হলে তো কিছু করার নেই। এটা জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কষ্ট না পেয়ে মন থেকে মেনে নিয়েছি। এজন্য ছবির কাজ আপাতত বন্ধ আছে।’
ঢাকাতেই চিত্রনায়ক রোশান আর চিত্রনায়িকা বুবলি চোখ ছবির শ্যুটিং করছিলেন। রোশান বলেন, ‘আমরা বেশ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছিলাম। ভেবেছিলাম টানা শ্যুটিং করে ছবিটি পোস্ট প্রোডাকশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এখন তো আর কাজ করা সম্ভব নয়।’
চিত্রনায়ক নীরব আর মডেল-অভিনেত্রী মিথিলা কাজ করছিলেন অনন্য মামুনের ‘অমানুষ’ ছবির। তাদের ছবির কাজও স্থগিত হয়েছে। নীরব বলেন, ‘আবারও ঘরবন্দি জীবন। চেষ্টা করব এই সময়টুকুতে ঘরের মধ্যে থেকেই সৃষ্টিশীল কিছু করার।’
