হেফাজতের কর্মকান্ড সমর্থন করি না : জাফরুল্লাহ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:৫৪ এএম

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যখন আগুন জ¦লছে তখন হেফাজত নেতা মামুনুল হক আনন্দ ভ্রমণ করছেন। হেফাজতের কর্মকান্ড কোনোভাবেই সমর্থন করি না। তবে তাদের মিটিং-মিছিল করাটাকে সমর্থন করি। এটা তাদের মৌলিক অধিকার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় ‘তৃতীয় পক্ষের’ ইন্ধন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেজর হায়দার মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ এসব কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তান্ডবস্থল সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য ঢাকা থেকে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট দল গত ৩ এপ্রিল সেখানে সফর করে। ওই ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ তুলে ধরার লক্ষ্যে ওই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘মামুনুল হক জঘন্য ব্যক্তি। রোম যখন পুড়ছিল তখন নিরো বাঁশি বাজাচ্ছিল। আর এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুড়ছে আর তিনি তখন ফুর্তি করতে গেছেন রিসোর্টে। ফুর্তি করেন আপত্তি নাই, কিন্তু ন্যায্য বউ নিয়ে যান।’ এ সময় সঙ্গে থাকা নারী তার প্রকৃত স্ত্রী কি না তারও প্রমাণ দিতে বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের এ সংগঠক।

তিনি আরও বলেন, ‘হেফাজতের সহিংসতায় তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন ছিল। আমরা ১৪ সদস্যের একটি দল ঘটনার স্থান পরিদর্শন করি। সেখানে স্থানীয় জনগণ, আওয়ামী লীগ, পুলিশ ও হেফাজতের বক্তব্য শুনেছি ও দেখেছি। শুনে ও দেখে এটিই আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এ হামলার সঙ্গে তৃতীয় রাষ্ট্রের ইন্ধন রয়েছে।’

সহিংসতায় ‘আমলাদেরও ইন্ধন’ ছিল বলে উল্লেখ করে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘রাজনীতি এখন আমলা ও ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের করতে দিন। সেখানকার এমপি একজন আমলা। তার কোনো রাজনৈতিক কর্মী নেই। তার রয়েছে পুলিশ ও হেলমেট বাহিনী।’

সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকী সবার পক্ষ থেকে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এগুলো হলো নিহত-আহতদের তালিকা প্রকাশ করে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও সঠিক বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বায়তুল মোকাররম থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা হিসেবে ২০ হাজারের অধিক মানুষের নামে যে মামলা দেওয়া হয়েছে সেসব মামলার নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফত, রাষ্ট্রচিন্তার অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত