জামিন ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের মেয়াদ বাড়ল দুই সপ্তাহ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:৫৫ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সাত দিনের ‘লকডাউনের’ মধ্যে ইতিমধ্যে পাওয়া জামিন এবং সব অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের কার্যকারিতা আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে গত রবিবার রাতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। হাইকোর্ট বিভাগ বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব মামলায় ইতিমধ্যে আসামিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেসব মামলার জামিন এবং সকল প্রকার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলোর কার্যকারিতা আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে মর্মে গণ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মহামারীর এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত অধস্তন আদালতের প্রায় সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রত্যেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

চার ভার্চুয়াল বেঞ্চ গঠন : ‘লকডাউনের’ মধ্যে সীমিত পরিসরে এবং জরুরি বিষয়ে হাইকোর্টের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারটি ভার্চুয়াল বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এর মধ্যে তিনটি দ্বৈত ও একটি একক বেঞ্চ রয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতির এক নির্দেশনায় বলা হয়, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ জরুরি রিট মোশন, বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের দ্বৈত বেঞ্চ জরুরি সব দেওয়ানি মোশন এবং বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের দ্বৈত বেঞ্চ জরুরি ফৌজদারি মোশন গ্রহণ করবেন। এছাড়া বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি সংক্রান্ত আবেদনপত্র শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন।

বেঞ্চ বাড়ানোর দাবিতে আইনজীবীদের মানববন্ধন : হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ বাড়াতে মানববন্ধন করেছেন উচ্চ আদালতের বেশ কয়েকজন আইনজীবী। গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে এ মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় আইনজীবীরা অন্তত ৩৫টি ভার্চুয়াল আদালত চালু রাখার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোমতাজউদ্দিন আহমদ মেহেদী বলেন, ‘এর আগে করোনাকালীন ৩৫টি ভার্চুয়াল ও ১৮টি নিয়মিত আদালত চালু ছিল। এর মানে ৩৫টি ভার্চুয়াল আদালত চালানোর মতো সক্ষমতা হাইকোর্টের রয়েছে। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম লকডাউনের এ সময়ে মাত্র চারটি ভার্চুয়াল আদালত চলবে। এতে করে আমাদের আশঙ্কা অনেক আইনজীবী মামলার শুনানি করতে পারবেন না। তাই আমাদের দাবি ৩৫টি ভার্চুয়াল আদালত চালু করা হোক। যাতে আইনজীবীরা মামলা পরিচালনার সুযোগ পান।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত