মন্ত্রিসভা বৈঠক

পরিস্থিতি দেখে বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ০১:৪০ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা, আগামী বৃহস্পতিবার সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় গতকাল সকাল থেকে সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে, যা আগামী ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

কঠোর বিধিনিষেধে সচিবালয়সহ সরকারি দপ্তর খোলা রয়েছে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘দরকারি কাজ চালানোর জন্য যতটুকু দরকার সরকারি অফিসে ততটুকুই জনবল রয়েছে। সাত দিন পর কী অবস্থা হয় তা দেখব। বৃহস্পতিবার আমরা রিভিউ করব।’

গতকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজও স্থান করে নেয়, যা আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে দ্বিতীয় ডোজ শুরু হবে কী হবে নাএ নিয়ে দোটানা ছিল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। প্রথম ডোজ কাল (আজ) শেষ হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত যে মজুদ রয়েছে তাতে অসুবিধা হবে না। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজ দিতে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ছাড় (রিবেট) দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। কিন্তু মন্ত্রিসভা বলেছে, যে পরিমাণ রিবেট দেওয়া হবে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করবে খুচরা মূল্যে সেই পরিমাণ প্রভাব যাতে পড়ে।

ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এ সময় তিনি কঠোর বিধিনিষেধে রাজধানীতে পরিবহন ব্যবস্থা, অমর একুশে গ্রন্থমেলা, সরকারি অফিসে উপস্থিতি এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন।  

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রাজধানীতে চলাচল করা বিভিন্ন ধরনের গাড়ি গণপরিবহন নয় জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মকর্তাদের আনা-নেওয়ার জন্য অফিসের সঙ্গে যারা চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, শুধু সেই গাড়িগুলো ব্যবহার হচ্ছে।’

লকডাউনেও রাজধানীতে গাড়ি চলতে দেখা গেছে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে গণপরিবহন নেই। বিভিন্ন অফিস তাদের প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা এনে সীমিত পরিসরে তাদের প্রয়োজন অনুসারে অফিস পরিচালনা করবে, সে ক্ষেত্রে এই পরিবহনগুলো তারা নিজেরা ব্যবস্থা করেছে, এগুলো গণপরিবহন নয়।

গতকাল সকালে দূরপাল্লার গাড়িও ছেড়ে গেছে এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যদি সেটি হয় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও কেন বইমেলা খোলা রাখা হচ্ছে জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘গণপরিবহন চলছে না কিন্তু রিকশা চলছে। রিকশার ওপর আমাদের কোনো বিধিনিষেধ নেই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিকশা কিন্তু অন্যান্য যানের চাইতে অনেক নিরাপদ। রিকশাওয়ালা এবং যাত্রীর মধ্যে দূরত্ব থাকে, এ জন্য সেটি কিন্তু খুব কম ঝুঁকিপূর্ণ। বইমেলা স্বাস্থ্যবিধি মেনে করবেন, কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারিতে রাখবে, সেক্ষেত্রে কেউ যাতে এখানে বেড়াতে না আসে। বই কেনার উদ্দেশ্যেই আসবেন। এটাকে অন্যভাবে বা বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বা ঘুরে বেড়ানো এ রকম কোনো সুযোগ এখানে থাকবে না। অত্যন্ত কঠোরতা রাখা হবে। স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মেনে তারা তাদের বইটি কিনে আবার গন্তব্যে ফিরে যাবেন। সেভাবেই কর্তৃপক্ষ দায়দায়িত্ব নিয়েছে, আমরাও সেটি মনিটরিং করব।’

বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাবেন উৎসব-নববর্ষ-বিজয় দিবস ভাতা

খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ হাজার টাকা হারে বছরে দুটি উৎসব ভাতা এবং একই সঙ্গে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া খেতাবপ্রাপ্ত, যুদ্ধাহত ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে জীবিতদের মহান বিজয় দিবস ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

এজন্য খেতাবপ্রাপ্ত, যুদ্ধাহত ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে উৎসব ভাতা প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ সিদ্ধান্তের ফলে সব শ্রেণির বীর মুক্তিযোদ্ধা উৎসব, নববর্ষ ও বিজয় দিবস ভাতার আওতায় আসবেন। মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বর্তমানে ৫ হাজার ২২২ জন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মাত্রাভেদে চারটি শ্রেণিতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকা  থেকে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা, ৯৫২ জন মৃত-যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে মাসিক ২৫ হাজার টাকা, ৫ হাজার ৮১৬ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের মাসিক ৩০ হাজার টাকা হারে সম্মানি ভাতা এবং বছরে ১০ হাজার টাকা হারে দুটি উৎসব ভাতা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা বাংলা নববর্ষ ভাতা এবং জীবিত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান বিজয় দিবস ভাতা পাচ্ছেন না।

তিনি আরও জানান, সাত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারকে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা হারে, ৬৮ বীরউত্তম পরিবারকে মাসিক ২৫ হাজার টাকা হারে, ১৭৫ বীরবিক্রম পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা হারে এবং ৪২৬ বীরপ্রতীক পরিবারকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা হারে সম্মানি ভাতা  দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা কোনো উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা এবং খেতাবপ্রাপ্ত জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় দিবস ভাতা পান না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, বর্তমানে সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ১২ হাজার টাকা হারে সম্মানি ভাতার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা হারে দুটি উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা এবং জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান বিজয় দিবস ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত