হাইপোগ্লাইসেমিয়া থেকে রক্ষা পেতে

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪৫ পিএম

হাইপোগ্লাইসেমিয়া অর্থ রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমাণ হঠাৎ কমে যাওয়া। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ করে যারা ইনসুলিন বা ওষুধ সেবন করেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা। এ ছাড়া কারও লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসার, এড্রেনাল গ্রন্থির সমস্যা, ইনসুলিনোমা বা ফিওক্রোমোসাইটোমা নামক টিউমারের উপস্থিতি বা কোনো ওষুধের প্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে। গ্লুকোজ হলো আমাদের জীবনীশক্তি, যা প্রতিটি কোষে শক্তি সরবরাহ করে। এই গ্লুকোজ বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে গেলে এক এক করে বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রম কমে যেতে থাকে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের একমাত্র জ্বালানি হচ্ছে গ্লুুকোজ। সে কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দীর্ঘ সময় চললে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

লক্ষণ  : যদি কারও রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ প্রতি লিটার চার মিলিমোলের কম হয়ে যায়, তবে তার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়েছে বলা যায়। কিছু উপসর্গের মাধ্যমে রোগী নিজেই এটা বুঝতে পারেন, যেমন রক্তে গ্লুকোজ কমে যেতে থাকলে হাত বা শরীর কাঁপা, বুক ধড়ফড়, ঘামতে থাকা, অস্থির লাগা, মেজাজ খারাপ হওয়া, চোখ ঝাপসা হয়ে আসা, মাথাব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ শুরু হয়। যদি দ্রুত গ্লুকোজ না গ্রহণ করা হয় তবে মস্তিষ্কে শর্করা ক্রমশ কমে যেতে থাকে এবং রোগী অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন, অর্ধচেতন এমনকি অচেতন হয়ে পড়েন। কখনো খিঁচুনিও শুরু হয়ে যায়।

কেন হয় : ঠিক সময়মতো খাবার না খাওয়া, পরিমাণে খুব কম খাওয়া, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইনসুলিন বা ওষুধ সেবন করা, ইনসুলিন নিয়ে খাবার খেতে ভুলে যাওয়া, হঠাৎ কোনো দিন অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কায়িক শ্রম করে ফেলা ইত্যাদি কারণে এমনটা হতে পারে। যেসব ডায়াবেটিস রোগীর কিডনি বা যকৃতের জটিলতা আছে কিংবা যারা অ্যালকোহল সেবন করেন তাদেরও ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর স্নায়ু অকার্যকর ও অনুভূতি শক্তি ভোঁতা হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়া সত্ত্বেও কোনো লক্ষণ নাও বুঝতে পারেন। আবার অনেকের ঘুমের মধ্যেই রক্তে শর্করা কমে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়তে পারেন। উভয়ই বেশ বিপজ্জনক।

করণীয় : হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ বুঝলে দ্রুত গ্লুকোমিটারে রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবু হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়েছে ধরে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ১০-১৫ গ্রাম পরিমাণ গ্লুকোজ খেয়ে নিতে হবে। একটা চকলেট, মিষ্টি, চিনি মেশানো জুস ইত্যাদি খেলেও চলবে। কিন্তু যদি এমন হয় যে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জন্য রোগী অর্ধচেতন বা অচেতন হয়ে পড়েছেন তবে জোর করে চিনির পানি পান করানো যাবে না। সে ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে শিরাপথে গ্লুকোজ দিতে হতে পারে।

এ সমস্যা এড়াতে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামে শৃঙ্খলা আনতে হবে। দিনে অন্তত ছয়বার খাবার গ্রহণ এবং ঘুমের আগে হালকা স্ন্যাক্সজাতীয় কিছু খাওয়া উচিত। বারবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া ঘটলে ইনসুলিন বা ওষুধের মাত্রা কমাতে হবে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কিডনি বা যকৃতের টেস্ট করা উচিত বছরে অন্তত একবার। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা সব সময়ই সঙ্গে কয়েকটি চকলেট বা কিছুটা চিনি কাগজে মুড়ে পকেটে রাখতে পারেন। এতে তাৎক্ষণিক সমস্যা এড়ানো সহজ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত