শিশুর স্থূলতা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪৫ পিএম

প্রতিটি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির জন্য পরিমিত পরিমাণে সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। শিশুর বৃদ্ধি অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যের অভাবে যেমন শিশু অপুষ্টির শিকার হতে পারে ঠিক তেমনি অতিরিক্ত খাবার এবং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পুষ্টি শিশুকে স্থূলাকার বানিয়ে তোলে যা শিশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমাদের সমাজে ইদানীং অপুষ্ট শিশুর তুলনায় স্থূলাকার শিশুই বেশি দেখা যায়। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে বিশ্বব্যাপী শতকরা ১৮ শতাংশ শিশুই স্থূল। যদিও এ ব্যাপারটা নিয়ে আমরা একদমই চিন্তিত হই না বরং বাচ্চা একটু মোটা হলেই আমরা বেশি খুশি হয়ে থাকি। এখানে বাচ্চাদের স্থূলতার কিছু কারণ, প্রতিকার এবং স্থূলতা বাচ্চার কী কী ক্ষতি করতে পারে তা তুলে ধরা হলো :

বাচ্চার স্থূলতা কী?

বাচ্চা যদি বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি করে এটিকেই স্থূলতা বলা হয়। স্থূলতা বলতে গেলে বাচ্চার বিএমআই পরিমাপ করতে হয়। বাচ্চার বিএমআই (কেজি/মি.২) চার্টে ফেলে তার বয়স অনুযায়ী যদি ৮৫ পারসেন্টাইলের বেশি থাকে তাহলে সেই বাচ্চাকে ওভারওয়েট বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ওজনের ধরা হয়।

আবার বিএমআই ৯৫ পারসেন্টাইলের ওপরে গেলে তখন বাচ্চাটিকে স্থূল বাচ্চা হিসেবে গণ্য করা হয়।

কারণ

চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ।

কম পরিমাণে শারীরিক পরিশ্রম।

ইনডোর গেমসের প্রভাব।

অতিরিক্ত ইন্টারনেট এবং মোবাইলের প্রতি আসক্তি।

এছাড়া হরমোনাল কোনো সমস্যা থাকলে যেমন হাইপোথাইরয়ডিজম, কুশিং সিন্ড্রম ইত্যাদিতেও বাচ্চা স্থূল হতে পারে।

ক্ষতিকর প্রভাব

স্থূল বাচ্চারা বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকে।

স্থূল বাচ্চাদের হাই ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভারসহ অন্যান্য জটিল রোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

অতিরিক্ত ওজনের বাচ্চারা মানসিকভাবেও অনেক বিপর্যস্ত থাকে। তারা কারও সঙ্গে ঠিকমতো মিশতে পারে না, কথা বলতে লজ্জা বোধ করে যা তার মানসিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এছাড়া এসব বাচ্চার হার্টের রোগ, স্ট্রোক, হাড় ক্ষয়সহ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

প্রতিকার

বাচ্চাকে তার ক্যালরি অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে সুষম খাদ্য দিতে হবে।

বাচ্চাকে বাসায় তৈরি টাটকা খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

ফাস্টফুড, জাংকফুড বা বাহিরের বেকারি ফুড সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে।

বাচ্চাকে প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে হাঁটার অভ্যাস করাতে হবে।

বাচ্চার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে খেলাধুলা এবং দৌড়াদৌড়ির ব্যাবস্থা করতে হবে।

টিভি, ইন্টারনেট দেখার ব্যাপারে বাচ্চাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। টিভি দেখার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে।

বাচ্চা বেশি স্থূল হয়ে গেলে একজন ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ মতো ডায়েট  চার্ট অনুযায়ী খাবার-দাবার দিতে হবে।

হরমোনাল কোনো সমস্যা থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত