পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে সফলতা পেতে হলে নিজেকে বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ, সৎ, দায়িত্বশীল, সাম্প্রতিক বিষয়ে ওয়াকিবহাল, চৌকস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। চৌকস হয়ে উঠতে প্রয়োজন কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা। জানাচ্ছেন বিপুল জামান
যোগাযোগ দক্ষতা
একজন চৌকস ব্যক্তি অপরের সঙ্গে যোগাযোগে দক্ষ হন। সঠিক সময়ে সঠিক কথাটি বলে হৃদয় জয় করে নেন। তিনি জানেন কখন কথা বলতে হবে আর কখন কথা শুনতে হবে। যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কথা বলার সময় মুখে হাসি এবং চোখে চোখ রাখুন। কথোপকথন শুরুর আগে অপরের ব্যস্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত হন। বিতর্কিত বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। ইতিবাচক ও ভালো কাজের প্রশংসা করুন। কোনো বিষয়ে বলার আগে অপরের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনুন। সততা ও ওয়াদা রক্ষা করুন।
ইতিবাচক মনোভাব
ইতিবাচক মনোভাব মানুষকে পরিশ্রম করতে, লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে দেয়। অন্যদিকে নেতিবাচক মনোভাব মানুষকে পেছনে টেনে ধরে আটকে রাখে। তাই ইতিবাচক হন এবং ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন নিজের কৌতূহলকে প্রশ্রয় দিন। বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে আমাদের মন কৌতূহলী হয়ে ওঠে। একে দমিয়ে রাখবেন না। কৌতূহল নিবৃত্তে বইপত্র, ইন্টারনেট ইত্যাদির সাহায্য নিন। এই জ্ঞান আপনাকে চৌকস হিসেবে গড়ে তুলবে। প্রতিদিনের কাজের রুটিন করার অভ্যাস করুন। এতে কাজগুলো সম্পন্ন করা সহজ হবে, কোনো কাজ বাদও পড়বে না। প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার অভ্যাস করুন। হতে পারে প্রতিদিন তিনটি ইংরেজি শব্দ বা কম্পিউটারের কোনো বিষয়।
মস্তিষ্কের সক্ষমতা
আপনি কতটা চৌকস সেটা আপনার মস্তিষ্কের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। বুদ্ধিমত্তা আর বিচক্ষণতা হলো চৌকস হওয়ার উপায়। আর এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রয়োজন মস্তিষ্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি। মস্তিষ্কের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রুবিকস কিউবের পাজল মেলানো, গণিতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা, সুডোকু মেলানো, শব্দজট, ধাঁধার সমাধানের অভ্যাস করুন।
জ্ঞান অর্জন
জ্ঞান মূল্যবান ধন। যে যত বেশি জ্ঞানী সে তত বেশি চৌকস। তাই জ্ঞান অর্জনে বিরত হবেন না। পৃথিবীতে শেখার কোনো শেষ নেই, তাই শেখার কোনো বয়সও নেই। দিনের একটি সময় পড়ার জন্য আলাদা করে রাখুন। পড়তে পারেন বিভিন্ন বিষয়ে। সাহিত্য, বিজ্ঞান, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, আত্মজীবনী কিংবা ভ্রমণ সাহিত্য। বিভিন্ন বিষয়ে বই পড়ার ফলে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা ও শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি পাবে।
জীবনের প্রতি দৃষ্টি
জীবনের প্রতি উদাসীন হয়ে থাকবেন না। জীবনের প্রতি দৃষ্টি দিন। জীবনকে উপভোগ করুন। নিজেকে সময় দিন, ভ্রমণ করুন। নতুন ভাষা শিখুন। পরিবার আপনার জীবনের প্রধান অংশ। পরিবারকে সময় দিন। বন্ধুরা মানসিক আশ্রয়। তাদের সঙ্গে সময় কাটান।
