গুজব ছড়িয়ে ফরিদপুরের সালথায় সহিংসতার ঘটনায় ৪ হাজারেরও বেশি লোককে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে সহিংসতার ঘটনার তদন্তে পৃথক দুটি কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। দুই কমিটিকেই তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে ওই ঘটনায় আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিরান মোল্লা নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা এর সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন। তারা জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।
গত সোমবার পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত ও জনৈক দুই মাওলানাকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়িয়ে হামলা চালানো হয় ফরিদপুরের সালথার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও কর্মকর্তাদের বাসভবনে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকার অবস্থা এখনো থমথমে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। করা হয়েছে মামলাও। মামলার বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলার এজাহারভুক্ত ১৩ আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনমামলার এজাহারভুক্ত আসামি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের গোপালিয়া গ্রামের কারি ইনছুর শেখের ছেলে মো. নুরু শেখ (১৮), বিনোকদিয়া গ্রামের করিম কাজীর ছেলে মো. সজিব কাজী (১৯), ইউসুফদিয়া গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বরের ছেলে রাব্বি মাতুব্বর (১৯), মিনাজদিয়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মোঃ ইউনুস মাতুব্বর (৬০), গোপালিয়া গ্রামের সালাম মোল্যার ছেলে আমির মোল্যা (৩০)।
এছাড়া ফুকরা গ্রামের সুলতান শেখের ছেলে আবুল কালাম শেখ (৩৫), রিপন শেখ (৩২), ইসরাইল মোল্যার ছেলে ইলিয়াস মোল্যা (২৭), চিলারকান্দা গ্রামের খালেক শেখের ছেলে শহিদুল শেখ (৩২), পিসনাইল গ্রামের গ্রামের ঝিলু ফকিরের ছেলে মো. রুবেল ফকির (২৫), সোনাপুর গ্রামের মিজানুর শেখের ছেলে মো. রাকিবুল ইসলাম (১৮) ও বিনোকদিয়া গ্রামের আইয়ুব মোল্যার ছেলে মো. সাইফুল ইসলামকে (১৮) আটক করা হয়েছে।
