করোনা প্রতিরোধে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। নতুন কয়েদিদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে। কয়েদিদের জন্য কারাগারের ভেতরে রাখা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও। এ ছাড়া কারা চিকিৎসকদের মাধ্যমে বন্দিদের সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে কয়েদি রয়েছে ৩ হাজার ৪১৮ জন। এখানে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কয়েদি আসে এবং বাইরে যায়। তবে গত কয়েক দিন ধরে এই সংখ্যা কিছুটা কম।
এদিকে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষ এখানকার বন্দিদের সুরক্ষার জন্য সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করছে। গত ৩ এপ্রিল থেকে কারাবন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আত্মীয়-স্বজনদের সংস্পর্শে গিয়ে কোনোভাবেই যাতে কোনো বন্দির কাছে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে না পারে সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, কারাগার খুবই স্পর্শকাতর এলাকা। এখানে সব সময় প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ থাকে। এখানে যাতে করোনার সংক্রমণ না ঘটে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ৩ এপ্রিল থেকে স্বজনদের সঙ্গে বন্দিদের সাক্ষাৎ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন করে যেসব বন্দি আসছে তাদের ১২ দিনের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে। তারা যখন জেল গেটে আসছে তখনই তাদের হাতে-পায়ে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। তাদের পরিধানের কাপড় পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং সেগুলো তাৎক্ষণিক পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর পরই তাদের কারাগারের ভেতরে আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। প্রতিদিন যে কয়জন বন্দি আসছে তাদের আলাদা ঘরে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া এক ওয়ার্ডের বন্দিদের আপাতত অন্য ওয়ার্ডে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
নতুন করে যেসব বন্দি আসছে বা কারাগার থেকে যাদের কোর্টে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের বিষয়ে বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাইরে থেকে এসে কারা ফটক দিয়ে প্রবেশের পর বন্দিদের হাত ধোয়া ও পরিষ্কারের জন্য পানি ও সাবানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারের অভ্যন্তরে ওয়ার্ডে সাবান, হ্যান্ডওয়াশ ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিজন কয়েদির মাস্ক পরা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সিনিয়র জেল সুপার বলেন, যেসব গরিব কয়েদি আছে তাদের মাঝে মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
