ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ভারতীয় ঋণে কেনা হবে ১ হাজার ৩১টি যন্ত্রপাতি ও যানবাহন। এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ২৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারত থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ২০৭ কোটি টাকা। তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট বা এলওসির আওতায় এ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প প্রস্তাব ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবের ওপর মূল্যায়ন কমিটির সভাও (পিইসি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি বছরই এর কাজ শেষ করতে চায় ডিএনসিসি।
ঋণের শর্ত অনুসারে প্রকল্পে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে ন্যূনতম ৬৫ শতাংশ ও অন্যান্য প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা ভারত থেকে আনতে হবে। এ হিসাবে আলোচ্য প্রকল্পের প্রায় সব যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ভারত থেকে আসবে।
ডিএসসিসির প্রকল্প প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৩ টনের ৩০টি কনটেইনার বক্সসহ কনটেইনার ক্যারিয়ার বাবদ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, একই ধরনের ৫ টনের ৮০টি বাহনের জন্য চাওয়া হয়েছে ৪৮ কোটি টাকা, ৬ টনের ২৫টির জন্য চাওয়া হয়েছে ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ৪০টি ৩ টন কম্পেক্টর কিনতে ১৬ কোটি টাকা, ৯০টি তিন টনের খোলা ট্রাক (ট্রিপিং সিস্টেম) বাবদ ২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ২০টি ৫ টনের খোলা ট্রাক (ট্রিপিং সিস্টেম) বাবদ ৯ কোটি টাকা, ১০টি ২০ টন ডাম্প ট্রাক বাবদ ৭ কোটি টাকা এবং ২৫ টনের আরও ১০টি ট্রাকের জন্য সাড়ে ৭ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ২টি করে বিটুমিন ডিস্ট্রিবিউটর, রেডি মিক্স ক্যারিয়ার ও রেকারও কেনা হবে। ফিল্ড সুপারভিশনের জন্য কেনা হবে ৫০টি মোটরসাইকেল। এজন্য ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবনায় অন্য যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি বহনের গাড়ি, ট্রিলার, ট্রাক্টর, পেভার মেশিন ও বিভিন্ন রকমের রোড রোলার। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আনা হবে ২৭ সিটের ২টি, ৪০ সিটের ৪টি ও ৫২ সিটের ১০টি বাস। কর্মকর্তাদের জন্য কেনা হবে ২টি জিপ, বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, ফিল্ড সুপারভাইজারদের জন্য ২টি পিকআপ কেনা হবে। প্রকল্পের আওতায় আরও কিছু যানবাহন কেনার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৩ টনের কন্টেইনার ক্যারিয়ার বক্স ৯০াট, ৫ টনের ৩০০টি এবং ৬ টনের ২২৫টি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩১টি যন্ত্রপাতি ও যানবাহন কেনা হবে।
ডিএসসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের নাগরিক সেবার মান ও সিটি করপোরেশনের সুবিধা বাড়াতে এসব যন্ত্রপাতি কেনা জরুরি।
পকিল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পের আওতায় ৩৭৫টি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ২২৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। কিন্তু এই ব্যয় কীসের ওপর ভিত্তি করে ধরা হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হবে। প্রকল্পে ৩টি জিপ, ৫টি ডাবল কেবিন পিকআপ, ৫টি মাইক্রোবাস ও ৫০টি ভারতীয় ব্রান্ডের মোটরসাইকেল কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলোর সংখ্যা হ্রাসের নির্দেশনা দেওয়া হবে। সার্বিক বিবেচনায় প্রকল্পটির মেয়াদকাল বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ভারতীয় ঋণ ২০৭ কোটি টাকা, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৮৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ও ডিএসসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
প্রস্তাবনায় ডিএসসিসি বলছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করা সিটি করপোরেশনের অন্যতম প্রধান কাজ। বর্তমানে ডিএসসিসি এলাকায় প্রতিদিন ৩৫ হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়, যার মধ্যে ১৮০০-২০০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। অবশিষ্ট অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলা হচ্ছে। ডিএসসিসির বিদ্যমান যানবাহনগুলোর বয়স ১৬-৩২ বছর। বর্তমানে ২৪৮টি যানবাহন রয়েছে, এর মধ্যে ১৭৬টি পুরনো। এগুলোর বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষমতা দিন দিন কমছে। এই যানবাহনগুলোর প্রতিস্থাপন ও কিছু যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। ডিএসসিসিতে আগে ৫৭টি ওয়ার্ড ছিল, এখন নতুন ১৮টি যুক্ত হয়েছে। বিদ্যমান সক্ষমতায় এই পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব নয়। এজন্য ভারতীয় ঋণে যানবাহন ক্রয়ের এই প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
