নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ৭৬৮ জনের নামে তিনটি মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে সোনারগাঁ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি এবং স্থানীয় সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে অন্য মামলাটি করেন।
গতকাল বুধবার সাংবাদিকের মামলায় উপজেলার ভাটিকান্দি গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে মোস্তফাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। তবে বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।
তিনটি মামলার মধ্যে একটি মামলাতে মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা ও রয়্যাল রিসোর্ট ভাঙচুরের ঘটনায় ৪১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৩০০ জনকে আসামি করে এ মামলাটি করেন সোনারগাঁ থানার এসআই আরিফ হাওলাদার। মামুনুল হক ছাড়াও মামলাটিতে সোনারগাঁ পৌরসভা জাতীয় পার্টির সভাপতি এম এ জামান, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, হেফাজতে নেতা ইকবাল হোসেনসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়।
এসআই আরিফ যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও একটি মামলা করেন। এ মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ ও ৩০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
অপর মামলাটি করেন হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের হামলায় আহত এসএ টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান। মামলাটিতে ১৫ জনের নাম উল্লেখ ও ৭০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
গত ৩ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার রয়্যাল রিসোর্টে হেফাজতে ইসলাম নেতা মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা রিসোর্টে এসে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে মামুনুল হককে নিয়ে যায়।
একই দিন রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শ্বশুরবাড়ি এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ সোহাগ রনির বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়।
ওই ঘটনার দুদিন পর গত সোমবার হেফাজতের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর ও তাকে লাঞ্ছিত করে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার তবিবুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে একটি মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু হয়েছে।
