শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি

আটক ঠেকাতে রং বদল ধাক্কা দেওয়া জাহাজের

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২১, ০১:১০ এএম

নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়লাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে পালিয়ে যাওয়া কার্গো জাহাজটি আটক করেছে কোস্টগার্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া নয়ানগর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে জাহাজটি আটক করা হয়। অবশ্য এসকেএল-৩ নামের জাহাজটির আটক ঠেকাতে দ্রুতই রং বদলে ফেলা হয়েছিল। 

গতকাল কোস্টগার্ড কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘সাবিত আল হাসান’ ডুবির ঘটনার চার দিন পর ঘাতক কার্গো জাহাজ এসকেএল-৩ আটক করা হয়েছে। এ সময় আটক করা হয় জাহাজের ১৪ কর্মচারীকেও। তবে তাদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। কোস্টগার্ড জানায়, জাহাজটির রং বদলে ফেলা হলেও সামনের অংশের বাংলা ও ইংরেজিতে ‘এসকেএল-৩’ লেখা ছিল। 

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজে জাহাজটির বেশিরভাগ অংশে নীল রং থাকলেও বর্তমানে সে নীলের স্থলে ধূসর রং করা হয়েছে। তবে জাহাজটির বিভিন্ন অংশে প্রলেপ দেওয়া ধূসর রঙের মাঝেও আগের নীল রঙের চিহ্ন দেখা যায়। একই সঙ্গে জাহাজের সামনের অংশে নামের নিচে এম-০১-২৬৪৩ লেখাটি ছিল।

গত রবিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জ কয়লাঘাট এলাকায় এসকেএল-৩ নামের কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায় এম এল সাবিত আল হাসান নামে লঞ্চটি। এতে মোট ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে কার্গো জাহাজের চালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানায় মামলা করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে মামলায় কার্গো জাহাজ, এর চালক বা মালিক; কারোই নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এজাহারে নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে মামলার বাদী বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা বাবুলাল বৈদ্যের ভাষ্য, ভিডিও ফুটেজে কোথাও ওই জাহাজের নাম দেখা যায়নি। নিশ্চিত না হওয়ায় অজ্ঞাত কার্গো জাহাজের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তে অভিযুক্ত কার্গো জাহাজের নাম বেরিয়ে আসবে।

তবে ঘটনার পর থেকে পুলিশ, লঞ্চ মালিক সমিতি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় ধাক্কা দেওয়া কার্গোটির নাম এমভি এসকেএল-৩, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর এম-০১-২৬৪৩।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত