বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞায় আদালতের অনুমতি

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের লিভ টু আপিল

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২১, ০২:০৩ এএম

সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার এ লিভ টু আপিল করা হয়। দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে জানান, আটটি গ্রাউন্ডে হাইকোর্টের ওই রায়টি স্থগিত ও বাতিল চাওয়া হয়েছে। আদালত খুললে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এর ওপর শুনানি হবে।

নরসিংদীর আতাউর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সংক্রান্ত চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল এবং চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রুলের ওপর ১৬ মার্চ রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে দুদকের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার চিঠি অবৈধ ঘোষণা করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায় অনুযায়ী, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি প্রণয়ন প্রয়োজন। যতক্ষণ পর্যন্ত না সেটি হচ্ছে ততক্ষণ কারও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতির প্রয়োজন। গত ৪ এপ্রিল এ বিষয়ে প্রকাশিত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, নাগরিকের চলাফেরার সাংবিধানিক অধিকার কোনো ব্যক্তি বা কর্র্তৃপক্ষের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ বা বারিত করা অসাংবিধানিক। সরকার কিংবা রাষ্ট্রের অন্য কোনো কর্র্তৃপক্ষ বা সংস্থা শুধু ‘খেয়ালি ইচ্ছার’ বশবর্তী হয়ে দেশের কোনো নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে বা নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে না। এ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে হলে আইন নির্ধারিত নিয়মে বা পদ্ধতিতে করতে হবে।

সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করতে গত বছর ২৪ আগস্ট রিট আবেদনকারী আতাউর রহমানকে নোটিস দেয় দুদক। ওই বছরের ২২ অক্টোবর সম্পদের বিবরণী দাখিল করলেও অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় তিনি যাতে বিদেশ যেতে না পারেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ২০ ডিসেম্বর ইমিগ্রেশন পুলিশ সুপারকে (এয়ারপোর্ট) চিঠি দেয় দুদক। এ চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আতাউর রহমান। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ওই চিঠির বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘দুদক যা করে আইন এবং বিধি মোতাবেক করে। দুদক সন্দেহভাজন কারও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার জন্য অনুরোধ করলেও সেটি নিয়মের মধ্য থেকেই করে। এখন কারও বিদেশযাত্রায় আদালতের অনুমতি নেওয়া অনেক সময়সাপেক্ষ। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ত্যাগ করতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে নাগরিকের কতিপয় বিধিনিষেধের কথা বলা আছে। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ে সেটির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এসব নানা যুক্তিতে আমরা হাইকোর্টের রায়টি বাতিল চেয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত