মিয়ানমারের জনগণ গত ফেব্রুয়ারি থেকেই সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। প্রতিদিনই জান্তার হাতে বিক্ষোভকারীরা মারা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের সেনাশাসকদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অথচ এসবে যেন কোনো মাথাব্যথাই নেই জান্তা সরকারের। তাদের মতে, ‘মিয়ানমারে তো কোনো অভ্যুত্থানই হয়নি।’
সম্প্রতি মিয়ানমারে গিয়েছিল সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একটি দল। গত ৩১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন ও রাজধানী নেপিদোতে ছিলেন তারা। সেখানে কথা বলেছেন জান্তা সরকারের মুখপাত্র এবং সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে।
সফরের আগে মিয়ানমার জান্তা আশ্বস্ত করেছিল, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে খবর সংগ্রহ করতে দেওয়া হবে। তবে যাওয়ার পর তারা ইয়াঙ্গুনের কোনো হোটেলে থাকতে চাইলেও তাদের নিয়ে যাওয়া হয় দেয়ালঘেরা একটি সামরিক এলাকায়। এরপর খুব সীমিত পরিসরে এবং কড়া নিয়ন্ত্রণের মধ্যে জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পান তারা।
নেপিদোতে সিএনএনের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেজর জেনারেল জ মিন তুন। প্রায় এক ঘণ্টার সেই কথোপকথনে জান্তা সরকারের এ মুখপাত্র জোরগলায় দাবি করেন, সামরিক জেনারেলরা একটি ‘জালিয়াতি’র নির্বাচন তদন্ত করার মাধ্যমে দেশটিকে ‘রক্ষা করছেন’। তার মতে, রাজপথে বিক্ষোভকালে যে ৬০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তার পুরো দোষই ‘দাঙ্গাবাজ’ বিক্ষোভকারীদের।
জান্তা সরকারের মুখপাত্র সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সু চির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগে মামলা চলার কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে ঘুষগ্রহণ, অবৈধভাবে ওয়াকিটকি আমদানি, করোনাবিধি লঙ্ঘনের মতো অভিযোগও রয়েছে। তবে গণতন্ত্রপন্থি এ নেতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ দেশের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন। এর জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের সাজা হতে পারে তার।
সাক্ষাৎকারে এটি স্পষ্ট যে, মিয়ানমার জান্তা বিশ্বকে বিশ্বাস করাতে চায়, তারা একটি ‘বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দেশ’ গড়ার লক্ষ্যে আইন ও সংবিধানের সীমারেখা মেনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারীদের রক্তে ভেজা রাজপথ সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণ করছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শিশুদের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে চাইলে সেনা মুখপাত্র জ মিন তুন দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা শিশুদের সামনের সারিতে ব্যবহার করায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, কিছু জায়গায় তারা শিশুদের সহিংস দাঙ্গায় যোগ দিতে উসকানি দিচ্ছে... এ কারণে নিরাপত্তা বাহিনী চড়াও হলে তারা আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। জান্তা মুখপাত্রের কথায়, শিশুদের গুলি করার কোনো কারণ নেই। এটি শুধু ‘সন্ত্রাসীরা’ আমাদের খারাপ দেখানোর জন্য করছে।
ইয়াঙ্গুনে সিএনএন টিমের সঙ্গে কথা বলার পরপরই ১১ জনকে আটক করেছিল মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। পরে অবশ্য আটজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছিল জ মিন তুনের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর ভয় ছিল ওরা অন্যদের উসকানি দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করতে পারে। এজন্যই তাদের আটক করা হয়। সিএনএন জানতে পেরেছে, ছাড়া পাওয়া ওই আটজন এখন পালিয়ে রয়েছেন। তাদের আবারও আটক করার আশঙ্কা রয়েছে।
