করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে আক্রান্তদের জন্য আজ শনিবার থেকে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু করছে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতাল। ফলে বাসাবাড়িতে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবেন বাসিন্দারা।
হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বলছে, ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। সেবাটি সঠিকভাবে দিতে চারটি হটলাইন নম্বর রয়েছে (০১৭৯১৬০৫০২২, ০১৮৮৪৪৯৪৯৪২, ০১৯৩৩৮৫০৯৬০ ও ০১৯৪১২০৭০১০)। এসব নম্বরে কল দিলে রোগীর বাসায় ছুটে যাবে ভ্রাম্যমাণ করোনা ইউনিট।
এ বিষয়ে মা ও শিশু হাসপাতালের ট্রেজারার রেজাউল করিম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে এত বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে যে, হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের হাসপাতালেরও একই অবস্থা। শয্যা খালি না থাকায় কাউকে ভর্তি করতে পারছি না। দুর্যোগময় এ পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় শনিবার থেকে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় ভ্রাম্যমাণ কার্যক্রম চালু করছি। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ সেবা দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে কল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রোগীর বাসায় ছুটে যাবে ভ্রাম্যমাণ করোনা ইউনিট। ওই অ্যাম্বুলেন্সেই থাকবে পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন, অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। রোগীকে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দেওয়া হবে। আর রোগীর অবস্থার অবনতির আশঙ্কা থাকলে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হবে।’
গত বছর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে জুনের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল আইসোলেশনসহ আইসিইউ ওয়ার্ড চালু করে। পরে করোনা রোগীদের শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১০০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু রয়েছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৫৬৮ জন। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৩৮৮ জন করে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবারও জেলায় শনাক্তের হার ছিল ২০।
এদিকে ভ্রাম্যমাণ করোনা চিকিৎসাসেবার প্রশংসা করেছেন কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, ‘সক্ষমতা অনুযায়ী কিছু লোককে হলেও তারা চিকিৎসা দিতে পারবে। এতে অনেকে উপকৃত হবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা খুবই জরুরি।’
