প্রায় আট হাজার ক্রীড়াবিদের মহামিলন ভাঙল। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে নিভে গেল মশাল। বাংলাদেশ আনসারের শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল করোনা মহামারীর সঙ্গে লড়াই করে ১০ দিন ধরে চলা বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসের। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি গেমসের আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
করোনা মহামারীর জন্য সমাপনী অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত আকারে আয়োজন করে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। মাঠে দর্শক প্রবেশ নিষেধ ছিল। কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল না। মাঠে স্থাপিত দুটি বড় জায়ান্ট স্ত্রিনে দেখানো হয় অতিথিদের বক্তব্যের ভিজুয়াল।
অতিথিদের বক্তব্য রাখেন ভার্চুয়ালি। প্রথমে বক্তব্য রাখেন বিওএর সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। এরপর বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। সবশেষে অর্থমন্ত্রী। এরপর গত ৯ দিনে ৩১টি ডিসিপ্লনে গেমসে অংশ নেওয়া ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়াশৈলীর বিভিন্ন খ-চিত্র। এরপর শুরু হয় লেজার শো। এরপর পায়রোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চিত্রপট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতা যুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর পরিবার ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি। সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে বিউগলে করুণ সুর বেজে বেজে ওঠে। নিভে যায় মশাল। আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে রাজধানীর রাতের আকাশ।
শেষ স্বর্ণ ক্রিকেটে
নারী দলের স্বর্ণ জয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল নবম বাংলাদেশ গেমস। শেষ হলো পুরুষ ক্রিকেটে জাহাঙ্গীরাবাদ সেন্ট্রাল জোনের শ্রেষ্ঠত্বের মধ্য দিয়ে। গতকাল বরিশালের শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামে রান উৎসবের ফাইনালে বরেন্দ্র নর্থ জোনকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে নর্থজোন। দুই দলেই সেঞ্চুরি করেছেন একজন করে। নাঈম আহমেদের সেঞ্চুরিতে আগে ব্যাট করে নর্থ জোন ৬ উইকেটে ২৭০ রান তোলে। জবাবে জিসান আলমের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে প্রায় ১০ ওভার হাতে রেখেই ৩ উইকেটে ২৭৩ তোলে সেন্ট্রাল জোন। এতে রুপা উঠেছে নর্থ জোনের হাতে। আর চট্টলা ইস্ট জোন জিতেছে ব্রোঞ্জ।
৭ রানে নর্থ জোন প্রথম উইকেট হারালেও বিপথে যায়নি। দ্বিতীয় উইকেটে নাঈম আহমেদ ও মিনহাজুল হাসান ১৫৮ রানের জুটি গড়েন। মিনহাজুল ৬৫ রান করে আউট হলেও নাঈম সেঞ্চুরি তুলে নেন। নাঈমের ১২৯ বলে ১২৮ রানের ইনিংসে ছিল ১৩ চার ও ১ ছক্কা। এছাড়া আরাফাত ইসলাম ৩৮, ইমন আলী অপরাজিত ১১ করেন। সেন্ট্রাল জোনের শাহরিয়ার আলম ৩টি, রেজওয়ান হোসেন, খালিদ সাইফুল্লাহ, আমির হোসেন ১টি করে উইকেট নেন।
জবাবে রেজওয়ান হোসেন ও জিসান আলমের ১৩০ রানের উদ্বোধনী জুটিতেই জয়ের পথ তৈরি করে ফেলে সেন্ট্রাল জোন। রেজওয়ান ৩৫ করে থামেন। জিসান দলীয় ২৫০ রানে থামেন। ১১৯ বলে ১৬৯ রানের ইনিংস খেলেন জিসান। তার ব্যাট থেকে আসে ২০ চার ও ৮ ছক্কা। ১৬৯ রানের মধ্যে ১২৮-ই করেন বাউন্ডারিতে। দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরাও হন জিসান। এছাড়া আমির হোসেন অপরাজিত ৪৬ করেন। নর্থ জোনের নাঈম আহমেদ, রাফিউজ্জামান রাফি ও জাকারিয়া ইসলাম ১টি করে উইকেট নেন।
সোনিয়ার ৮ স্বর্ণ
এবারের গেমসে ৮টি স্বর্ণ জিতে সেরা অ্যাথলেট হয়েছে সাঁতারু সোনিয়া আক্তার টুম্পা। এই ৮ স্বর্ণের পাঁচটি ব্যক্তিগত এবং তিনটি রিলে ইভেন্টে। এছাড়াও এবার তিনটি রুপা জিতেছেন সোনিয়া। তাতে তার মোট পদক সংখ্যা ১১টি। বিকেএসপি হয়ে নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়া সোনিয়া বলেছেন, ‘অনেকদিন পর এতগুলো ইভেন্ট করলাম। মাঝে আমার অনুশীলনের ঘাটতি ছিল। জুনাইনাও ভালো করছিল। এ কারণে ইভেন্ট কমিয়ে দিয়েছিলাম। কারণ ফিটনেস সর্বোচ্চ পর্যায়ে না থাকা অবস্থায় বেশি ইভেন্ট করলে আমার সংস্থা নৌবাহিনী বঞ্চিত হতো, আমারও ইনজুরিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকত। এ বছর স্বল্প সময় অনুশীলন হলেও কঠোর পরিশ্রম করেছি। ভাবিনি এত ভালো হবে। আসলে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছি। পুলে তার প্রতিফলন ঘটায় আমি অনেক খুশি।’
