করোনা নিয়ন্ত্রণে কার্লোসের মানচিত্র

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫৭ পিএম

পানামার আদিবাসীদের নিয়ে মানচিত্র তৈরি করেন কার্লোস ডোভিয়াজা। এর মাধ্যমে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা অনেক আদিবাসীর খোঁজ মেলে যাদের কাছে করোনার সময় কোনো সাহায্য পৌঁছায়নি। মানচিত্রের মাধ্যমে তাদের কাছে খাদ্য ও সুরক্ষাবস্তু পৌঁছানো সম্ভব হয়। কার্লোসের তৈরি করা মানচিত্র নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

কার্লোস ডোভিয়াজা ও তার মানচিত্র

উত্তর আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণাংশের রাষ্ট্রের নাম পানামা। মহামারীতে এ এলাকায় আক্রান্ত হয়েছিল অসংখ্য মানুষ। গত বসন্তে পানামায় কভিড-১৯ প্রকোপ ছড়ানো শুরু করলে অন্যদের মতো মৃত্যুভয় গ্রাস করে ২৬ বছর বয়সী কার্লোস ডোভিয়াজাকে। কার্লোস আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছেলে। নিজের জন্য যতটা তিনি চিন্তিত ছিলেন, তার চেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছিলেন তার এলাকার মানুষদের সংক্রমণ নিয়ে। কারণ আদিবাসীদের মধ্যে শহরের মতো সচেতনতা নেই। সরাসরি কীভাবে এই মহামারীর গ্রাস থেকে নিজেদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে ভাবতে শুরু করলেন কার্লোস। কিন্তু বুঝতে পারছিলেন না কীভাবে কাজ করলে মানুষকে সত্যিকারের সহযোগিতা করা যায়। তিনি পেশায় একজন মানচিত্রকর হওয়ায় এ নিয়েই ভাবতে শুরু করলেন কিছু করা যায় কি না। তার মনে বিশ্বাস ছিল তিনি পারবেন। কারণ মানচিত্র তৈরি করা তার জন্য কঠিন কোনো কাজ ছিল না। কার্লোস বলেন, ‘ভাবলাম, যে কাজটি আমি সবচেয়ে ভালো পারি সেটির মাধ্যমে কেন একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারব না? একজন আদিবাসী হয়ে আদিবাসীদের জন্য এই কঠিন পরিস্থিতিতে এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না।’

মানচিত্র তৈরি করা খুব সহজ কাজ নয়। এই পেশা বেছে নেওয়ার জন্য কার্লোস তথাকথিত পথে হাঁটেননি। আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় কলেজে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়ে মাঝপথে পড়া ছেড়ে দিতে হয়। তাই ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওঠা হয়নি তার। কিন্তু মানচিত্র বিষয়ে তার ভীষণ আগ্রহ ছিল। জানতেন মানচিত্রের শক্তি সম্পর্কে। অ্যাকাডেমিক লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেলেও নিজ থেকেই মানচিত্র নিয়ে লেখাপড়া শুরু করলেন। বাড়ালেন এ বিষয়ে দক্ষতা। আদিবাসীদের জন্য বিভিন্ন জমি বিষয়ক ও নানা ইস্যু নিয়ে বানাতে শুরু করলেন মানচিত্র। কার্লোস বলেন, ‘ডাটা সম্পর্কে সব কিছু আমি শিখে নিয়েছিলাম। আমি জানতাম, শব্দের চেয়ে মানচিত্রের শক্তি অনেক বেশি’।

কার্লোস বড় হয়েছেন পানামার বিদ্যুৎবিহীন গ্রাম এল সালতোতে। ক্রান্তীয় বনের একদম মাঝে এই গ্রামের অবস্থান। এই গ্রামে আদিবাসীদের বসবাস সবচেয়ে বেশি। কার্লোসের পরিবার বুঝতে পেরেছিল এভাবে গ্রামে থাকলে ছেলেকে বেশিদূর লেখাপড়া করাতে পারবেন না। তাই ২০০৮ সালে তারা কার্লোসের উন্নত লেখাপড়ার জন্য চলে আসেন পানামায়। কিন্তু এখানে এসেও যে ছেলের জন্য উন্নত ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন এমন নয়।

পানামা শহরে দেশটির পুরো জনসংখ্যার তুলনায় মাত্র ১২ শতাংশ জনগণের বাস। স্থানীয় চার লাখ পানামানিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যে কার্লোসের পরিবার ছিল একটি। কার্লোস যতদিনে এখানে আসেন ততদিনে এখানকার মানুষরা ইতিমধ্যেই নানা রোগে ভুগছিল। পরিষ্কার পানি ও স্বাস্থ্যের যতেœর অভাবে এবং দরিদ্রতার হার বেশি হওয়ায় তাদের মধ্যে বিভিন্ন রোগের হার সব সময়ই বেশি ছিল। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পানামার আদিবাসী এলাকার ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। এসব কারণই মহামারীর শুরু থেকে কার্লোসকে বেশি ভাবাচ্ছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মহামারীতে এই সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত এলে কোনোভাবেই এদের বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। মৃত্যুর হার ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। ‘আমরা বরাবরই সুবিধাবঞ্চিত ছিলাম। জানতাম এবার প্রস্তুতি না নিলে আরও খারাপের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হবে। সেজন্য প্রস্তুতও ছিলাম।’ 

কার্লোসের ধারণা সত্যি হয়ে যায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে। তাদের এলাকার আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে দ্রুত সংক্রমণ ছড়ায়। বিভিন্ন গ্রামের প্রধান ব্যক্তিরা গ্রাম থেকে কারও বের হওয়া অথবা গ্রামে কারও প্রবেশ একদম নিষিদ্ধ করে দেন। সংক্রমণের ভয় কমলেও সমস্যা দেখা দেয় খাবার সংগ্রহ নিয়ে। দ্রুত সেসব গ্রামে খাবারের পরিমাণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা জিনিস যেমন ওষুধ, সুরক্ষাপণ্য, সাবান ইত্যাদির সংখ্যা কমে আসতে থাকে।

মানচিত্রের শক্তি

আদিবাসীদের মহামারীর অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য কার্লোস একটি অনলাইন মানচিত্র তৈরি করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিদিন প্রতি জেলার সঙ্গে আদিবাসী এলাকায় করোনায় আক্রান্ত মানুষের যে তথ্য দেওয়া হয় সেসব তথ্য মানচিত্রে আপডেট করে দেন কার্লোস। গত বছরের মে মাসে তিনি এটি তৈরি করেছিলেন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান রেইনফরেস্ট ফাউন্ডেশনের সাহায্যে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোন সম্প্রদায়ে কোন জিনিস প্রয়োজন, কীভাবে বিভিন্ন গ্রামে যাওয়া যায় এবং তারা ছাড়াও আর কোন কোন সংস্থা করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কাজ করছে এসব বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।

২০১৫ সাল থেকে কার্লোস দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতেন। বিশেষ করে আদিবাসী এলাকাগুলোতে মানচিত্র বানিয়ে ঘুরতে বেশি ভালো লাগত তার। কখনো কখনো ড্রোনের ব্যবহারও করেছেন। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়ায় ‘জিও ইন্ডিজেনা’ নামে একটি দাতব্য সংস্থাও চালু করেন তিনি। এই সংস্থায় কাজ করার জন্য তিনি তরুণদের জিপিএস ব্যবহার শিখিয়েছেন। কীভাবে স্মার্টফোনে মানচিত্রের সাহায্যে এলাকা খুঁজে বের করা যায় সেসব নিয়েও তাদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইবাল শেফ অথবা কিং-এর মতো যেসব আদিবাসী সম্প্রদায় আছে তাদের দলনেতারা প্রায়ই নিজেদের এলাকায় জমিসংক্রান্ত নানা কাজে কার্লোসের বানানো মানচিত্র ব্যবহার করেন। আদিবাসী এলাকায় ভূখ- নিয়ে বিরোধ খুব সাধারণ ঘটনা। পানামায় যেসব আদিবাসীর জমি আছে তাদের অনেককেই প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজে বা আরও গাছ লাগানোর জন্য কৃষক ও অবৈধ বা ভাড়াটে গু-াদের দিয়ে ভয় দেখানো বা শাসানো হয়। সাধারণ সময়ে এটি নিয়মিত হয়। বাদ যায়নি মহামারীর সময়েও। এসব সমস্যা সমাধানে মানচিত্রটি দারুণ কার্যকর।

আদিবাসীদের বেঁচে থাকা  

পানামায় বেশ কয়েকটি আদিবাসী সম্প্রদায় আছে। সবগুলো সম্প্রদায়ের কথা পানামার অফিশিয়াল মানচিত্রে উল্লেখ করা নেই। পানামানিয়ান সরকার অফিশিয়ালি সাতটি ভূখ-কে আদিবাসীদের জন্য নির্ধারিত বলে উল্লেখ করলেও এসব এলাকার বাইরে অনেক এলাকাতেই আদিবাসীরা থাকে। কার্লোস তার মানচিত্রে এমন ৩৮টি আদিবাসী অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেন। তথাকথিত ‘সংরক্ষিত ভূমি’ বলে যেসব জায়গা আছে সেখানকার অধিবাসীদের তাদের জায়গার ওপর কোনো অধিকার নেই। যার কারণে অনেকেই অবৈধভাবে এসব জায়গাকে নিজেদের বলে দাবি করেছে। কার্লোস এ জায়গাগুলো সম্পর্কে জানতেন কারণ এসব সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়ে তাদের অঞ্চলের মানচিত্র তৈরির জন্য তিনি সহায়তা করেছেন।

উত্তর-পূর্ব পানামার উপজাতি নদীর তীরে খ- খ- কয়েকটি গ্রাম আছে। এসব গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। এই মানুষদের দলকে বলা হয় নাসো। এই মানচিত্রের মাধ্যমে নাসোদের অবস্থানের বিস্তারিত তথ্য সবাইকে জানানো সম্ভব হয়েছে। তাদের অবস্থান এতটাই দূরে অবস্থিত যে, এই অঞ্চলের সবচেয়ে কাছের ছোট শহর চাঙ্গুইনোলাতে পৌঁছাতে হলেও নৌকায় করে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। পানামার অনেকেই এই নাসোদের সম্পর্কে জানে না। ৫০ বছর ধরে আইনি যুদ্ধ চলার পর গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তাদের সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

নাসো দলের দলনেতা রেনাল্ডো সান্তানা বলেন, ‘লকডাউনের কারণে আমাদের সম্প্রদায়কে ক্ষুধা আর ওষুধের অভাবে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। আমরা আমাদের শস্য বিক্রি করার জন্য অথবা সবজি কেনার জন্য কাছের কোনো শহরে যেতে পারিনি। অসুস্থ হলে সঠিক কোনো চিকিৎসা পাইনি। আমাদের এখানে একজন বয়স্ক নারী যখন কভিডে সংক্রমিত হলেন তখন বাহির থেকে সাহায্য পাওয়ার কোনো অবস্থা ছিল না। মোবাইল দিয়ে কল করে যেন একটি অ্যাম্বুলেন্স আনা যায় সেজন্য পাহাড়ের ওপর উঠে আমি নেটওয়ার্ক খুঁজছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত সেই অ্যাম্বুলেন্স কখনো আসেনি। সেই নারীর ভাগ্য ভালো ছিল। তিনি সেরে উঠেছিলেন।’

অন্যদের জন্য চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের প্রতি যতœ নিতে পারেননি সান্তানা। ১৫ ঘণ্টা নৌকা ও বাসে চড়ে সম্প্রদায়ের কারও জন্য সাহায্য চাইতে তাকে শহরে যেতে হয়েছে শুধু একটি সাহায্যের জন্য। সান্তানার জন্য কার্লোসের মানচিত্র আশীর্বাদস্বরূপ। অনেকেই এখন তাদের অবস্থান জানেন। ‘সরকারি হিসাব বাদ দিলেও, আমাদের এলাকার সবচেয়ে কাছের যে শহর তারাও আমাদের সম্পর্কে জানত না। আমরা কোথায় থাকি, কী খাই, কীভাবে বেঁচে আছি সেসব নিয়ে কেউ কখনো ভাবেনি। লকডাউনে গ্রাম থেকে বের হলে অথবা খাবার-ওষুধ কিনতে শহরে গেলে সেখানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ অফিসারদের মানচিত্রে আমাদের অবস্থানের স্ক্রিনশট দেখাতাম। মানচিত্র দেখে তারা আমাদের গ্রামের সীমানা ও অবস্থান চিহ্নিত করতে পারতেন। এই মানচিত্র দেখিয়েই তাদের আমরা জানাতাম, আমরা অদৃশ্য নই। আমরা আছি।’ 

নাসো জাতিরাই একমাত্র নয় যারা এই মহামারীতে কষ্ট করেছে। একটি জরিপ অনুযায়ী, গত এপ্রিলে ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামস জানায়, কলম্বিয়ার সীমান্তের একদম সঙ্গেই দারিয়েন নামক এলাকায় ২০ জন পানামানিয়ান আদিবাসী সংস্থার খোঁজ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ১৬ জনই খাবার ও ওষুধের অভাবে খুব কষ্ট পাচ্ছিল। বিভিন্ন সম্প্রদায় থেকে পানি, স্বাস্থ্য সুরক্ষার পণ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও যানবাহনের জন্য ডিজেল চেয়ে আর্জি জানানো হয়। তাদের পক্ষে হাসপাতাল পর্যন্ত যাওয়ার অবস্থাও ছিল না।

অ্যারিমা নামে একটি আদিবাসী গ্রাম মহামারীতে আর্থিকভাবে খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই গ্রামের জনসংখ্যা মাত্র ছয় হাজার। প্যান-আমেরিকান হাইওয়েতে এই আদিবাসীদের অবস্থান। বেশিরভাগ পরিবারই তাদের শস্য ও ছোট ছোট দোকানে হাতে বানানো নানা জিনিস বিক্রি করে পরিবারের খরচ চালাত। সরকার যখন বাধ্যতামূলক লকডাউন ঘোষণা করে তখন তাদের সবকিছু বন্ধ করে দিতে হয়। এ ঘটনার পর মাত্র এক মাসের মধ্যে করোনায় ৯৮ জন সংক্রমিত হন এবং মারা যান তিন জন। অ্যারিমাসহ এমবেরা ও উনান নামে আরও আদিবাসী সম্প্রদায় ছিল, যাদের জনসংখ্যা সব মিলিয়ে চার হাজার। এরা প্রায় ৪৩টি গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকত। উনান সম্প্রদায়ের প্রধান এলিবার্দো মেমব্যাশে বলেন, ‘আমরা ক্ষুধায় অনেক কষ্ট করেছি। লকডাউনে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা খুব অল্প সহায়তা পেয়েছিলাম। আমাদের মাংস, লবণ, তেল, এমনকি আগুন জ্বালানোর জন্য ম্যাচও ছিল না।’

দাতব্য সংস্থা ও সহায়তা

গত বছর, কার্লোসের বানানো এই মানচিত্র জাতিসংঘের মতো সংস্থাসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার জন্য সহায়ক ছিল। পানামার ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ক্ষুদ্র অনুদান প্রোগ্রামের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর বেত্রিজ স্মিত বলেন, ‘এই মানচিত্রে শুধু কভিড-১৯ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় তা নয়। বরং যেসব এলাকায় সংকট চলছে সেখানকার কাঠামোগত বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এক কথায়, মানচিত্রটিকে আদর্শ হিসেবেই মানতে হয়’। এই সংগঠন থেকে দূরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নানা ধরনের সাহায্য পাঠানো হচ্ছে। সবচেয়ে সহজ হয়েছে করোনা সংক্রমণের অবস্থা বুঝে বিভিন্ন এলাকায় সাহায্য পাঠানো।

অ্যারিমা সম্প্রদায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কার্লোসের বানানো মানচিত্র দেখে অন্যান্য আদিবাসী গ্রামে যতটুকু সম্ভব সাহায্য পাঠাবে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাহায্যে প্রয়োজন বুঝে অনেক পরিমাণে কলা ও মিষ্টি আলু পৌঁছে দিয়েছিল তারা। মানুষকে সাহায্য করার জন্য এই মানচিত্র অনেক অবদান রেখেছে। এই কথা স্বীকার করেন পানামার ইউএনডিপি’র হেড অব সলুউশন ম্যাপিং ও গ্লোবাল ব্রিগেডসের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের ম্যানেজার আনিবাল কার্ডেনাস মসকুয়েরা। ‘এই ম্যাপের সাহায্যে দারিয়েনের আদিবাসী সম্প্রদায় সম্পর্কে আমি জানতে পারি। কারা কোন সংস্থা থেকে সাহায্য পাচ্ছে, কতটুকু পাচ্ছে এমনকি কোন সম্প্রদায় খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সেটাও জানা যায়।’  

তুসেভস অ্যারিয়েলস নামক প্রতিষ্ঠানের কো-ফাউন্ডার নিনা তুসেভ। আদিবাসী সম্প্রদায়কে ড্রোনের মাধ্যমে মানচিত্র দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে অন্য আদিবাসীদের জায়গা সম্পর্কে জানার জন্য ট্রেনিং দেন তিনি। তিনি কার্লোসের মানচিত্রের শক্তিশালী দিক সম্পর্কে বলেন, ‘অল্প শিক্ষিত আদিবাসীরা চাইলেই যে মানচিত্র ব্যবহারের গুরুত্ব বুঝতে পারবেন সে বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন কার্লোস।’

কার্লোস বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি গত আগস্টের মতো এখনো ততটা খারাপ নয়। মানচিত্রের লাল চিহ্নগুলো বুঝাচ্ছে কভিড কতটা কমছে। তাদের গ্রাম এখন আর লকডাউনে নেই। সঙ্গে ভ্যাকসিন দেওয়াও শুরু হয়েছে। জানুয়ারিতে এক দিনে সর্বোচ্চ চার হাজার সংক্রমণের ঘটনা থেকে বর্তমানে সংখ্যা অনেক কমে এসেছে।’ তবে এতেই ক্ষান্ত হতে চান না কার্লোস। সংখ্যা যত কমই হোক তিনি নিয়মিত তথ্য আপডেট রাখতে চান। মানুষের জন্য পরিস্থিতি বোঝা আরও সহজ করতে চান। ‘বয়স্ক থেকে শুরু করে তরুণ অনেক মানুষকে আমরা হারিয়েছি। এই ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়। সংক্রমণ সংখ্যা কমে আসায় অনেকেই মাস্ক পরা বন্ধ করে দিয়েছে। জানি না সামনের পরিস্থিতি কেমন হবে। তবে চেষ্টা করছি এখনো মানুষকে বোঝানোর। অন্তত আর কাউকে যেন আপন মানুষ না হারাতে হয়।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত