ব্রাজিলকে টপকে সংক্রমণে দ্বিতীয় ভারত

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:৩২ এএম

করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যায় ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ মহামারী আক্রান্ত দেশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত। গতকাল সোমবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে রেকর্ড এক লাখ ৬৮ হাজার ৯১২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে টানা ছয় দিন দেশটিতে এক লাখের বেশি রোগী মিলল। আর এতেই ব্রাজিলকে টপকে দ্বিতীয় শীর্ষ সংক্রমণের দেশ এখন ভারত।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়াল্ডোমিটারসের হিসাবে নতুন এই রোগীদের নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। আর ব্রাজিলের মোট শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি।

তিন কোটি ১২ লাখেরও বেশি আক্রান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষে আছে।

গত রবিবার মহামারীতে ভারতে আরও ৯০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, এতে মৃতের মোট সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার ১৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর পর ভারত চতুর্থ স্থানে আছে।

মহামারীতে আক্রান্ত ভারতীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে মহারাষ্ট্র শীর্ষে আছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটিতে ৬৩ হাজার ২৯৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত ও ৩৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সোমবার সকালে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহেই স্থানীয় সরকার রাজ্যটিতে সর্বাত্মক লকডাউন জারি করতে পারে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের পর শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যায় শীর্ষে থাকা অপর রাজ্যগুলো হলো কেরালা, কর্নাটক, তামিলনাড়– ও অন্ধ্র প্রদেশ।

মহামারীতে পর্যুদস্ত হওয়ার পরও ভারতে এখনো নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে লোকজন ভিড় করছেন। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হরিদ্বারে গঙ্গা নদীর তীরে কুম্ভমেলায় ইতিমধ্যে সারা দেশ থেকে লাখ লাখ লোক এসে জড়ো হয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় মেলায় কভিড-১৯ জনিত বিধিনিষেধের স্পষ্ট লংঘন হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন।

মহামারী পরিস্থিতি দিন দিন আরও নাজুক হয়ে উঠলেও খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই লাখ লাখ লোক তাদের নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিচ্ছে।

এদিকে বিশ্বে সংক্রমণ-মৃত্যুর দিক থেকে এখনো শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৮ জন মারা গেছেন। এছাড়া শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ ১৫ হাজার ১৭৯ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ৪৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯২ জন।

তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গেলেও মৃত্যুর দিক থেকে এখনো দুইয়ে রয়েছে ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ২৩ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৩৭ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬৪ জন।

সংক্রমণের তালিকায় চতুর্থ স্থানে ফ্রান্স, পঞ্চম স্থানে রাশিয়া, ষষ্ঠ স্থানে যুক্তরাজ্য, সপ্তম স্থানে তুরস্ক, অষ্টম স্থানে ইতালি, নবম স্থানে স্পেন এবং দশম স্থানে রয়েছে জার্মানি।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

করোনা প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। ওই বছরেরই ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত