হেফাজতের তান্ডব

গ্রেপ্তারের পর ৭ দিনের রিমান্ডে আজিজুল হক

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০১:৪৬ এএম

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে পর গতকাল সোমবার সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। একই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর কমিটির সহসভাপতি মুফতি ইলিয়াস হামিদিকে র‌্যাব আটক করেছে বলেও জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা মাহমুদ। তবে র‌্যাবের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করেননি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে ৩ এপ্রিল হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় সোনারগাঁর মোগরাপাড়া জামে মসজিদের ইমামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

আজিজুল হক ইসলামাবাদী গত রবিবার হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে চট্টগ্রামের বাসায় ফেরার পথে ‘নিখোঁজ’ হন। গতকাল সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসলামাবাদীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে তার ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়। আজিজুল হক হেফাজতের মুখপাত্র ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একজন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) আসাদুজ্জামান রিপন জানান, গত রবিবার সন্ধ্যায় আজিজুলকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল তাকে আদালতে পাঠানো হয়। ২০১৩ সালের ৬ মে পল্টন থানায় করা নাশকতার একটি মামলায় আজিজুলকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

গত রবিবার হাটহাজারীতে বৈঠক শেষে আজিজুল হককে আটক করা হয়েছিল বলে দাবি করেন সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী। হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ও সহকারী প্রচার সম্পাদক এনামুল হাসান ফারুকী বলেছেন, রবিবার সভা শেষে চট্টগ্রামের হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ডে আজিজুল হক গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানেই তাকে সর্বশেষ দেখা গেছে। এরপর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনার পর হেফাজতে ইসলামের কোনো শীর্ষ পর্যায়ের নেতার গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

অন্যদিকে ইলিয়াস হামিদিকে আটকের দাবি করে তার ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা মাহমুদ জানান, গত রবিবার হাটহাজারী মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর থেকে তাকে আটক করা হয়। মাহমুদ বলেন, ‘হাটহাজারী থেকে ফেরার পথে রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে র‌্যাবের একটি দল সাদাপোশাকে মুফতি ইলিয়াসের ভাড়া করা গাড়ির গতি রোধ করে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তবে আমরা যে কজন গাড়িতে ছিলাম তাদের র‌্যাব আটক করেনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইলিয়াস হামিদি নামে কাউকে আটকের তথ্য আমাদের কাছে অফিশিয়ালি নেই।’ তবে র‌্যাব সদর দপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর একজন কর্মকর্তা হামিদির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোনারগাঁর মহিউদ্দিন খাঁসহ আটক ৪ : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সোনারগাঁ শাখার আমির ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন খাঁ ও সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ইকবাল হোসেনসহ হেফাজতের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। গতকাল সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী।

তিনি জানান, রবিবার দুপুরে রাজধানীর জুরাইন এলাকার একটি মসজিদ থেকে মাওলানা মহিউদ্দিন খাঁ, মাওলানা ইকবাল হোসেন, মাওলানা শাজাহান শিবলী ও হাফেজ মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা সবাই মামলার জামিনসংক্রান্ত বিষয়ে এক মাওলানার সঙ্গে কথা বলতে জুরাইন মসজিদে যান। এর কিছুক্ষণ পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই মসজিদ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

মামুনুল হক ৩ এপ্রিল তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে অবস্থান করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা তাকে অবরুদ্ধ করে। পরে হেফাজতের কর্মীরা মামুনুলকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে সোনারগাঁজুড়ে তান্ডব চালায়। ওই ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় তিনটি মামলা হয়েছে।

ওই সব মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, রয়েল রিসোর্টে মামুনুলকে অবরুদ্ধ করার জেরে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন খাঁ ও মাওলানা ইকবালের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পথচারী ও সংবাদকর্মীসহ ১৫ জন আহত হন। সড়কে টায়ার ফেলে তাতে আগুন জ¦ালিয়ে অবরোধ করা হয়। ভাঙচুর চালানো হয়েছে যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম নান্নুর রেস্তোরাঁ ও উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ আরও কয়েকটি দোকান।

এ ছাড়া সোনারগাঁ থানার এসআই ইয়াউর রহমান বাদী হয়ে মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরিফ হাওলাদার বাদী হয়ে মামুনুল হকসহ ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও একটি মামলা করেন।

অপর মামলায় স্থানীয় সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি ও ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত