সীমিত পরিসরে পাহাড়ে ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০১:৫৪ এএম

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব ‘বৈসাবি’ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে তিনদিনব্যাপী উৎসবটির উদযাপন শুরু হয়। তবে বৈসাবিকে ঘিরে বিগত বছরের মতো এবার পাহাড়ি পাড়া-পল্লীতে উৎসবের আমেজ নেই। নেই ঐতিহ্যবাহী কোনো খেলাধুলার আয়োজনও। মহামারী করোনার সংক্রমণ বিবেচনায় এ বছর বৈসাবি উদযাপনে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি। গত বছরও একই কারণে কোনো উৎসব হয়নি। তারপরও ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে যার মতো করে পারিবারিকভাবে উৎসবটি পালন করছেন পাহাড়িরা।

জানা যায়, উৎসবপ্রিয় পাহাড়িরা সারা বছর মেতে থাকেন নানা অনুষ্ঠানে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় বর্ষবিদায়ের এই উৎসব। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরারা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গরা বিষু, অহমিয়ারা বিহু এভাবে তারা ভিন্ন ভিন্ন নামে আলাদা ভাবে পালন করে এই উৎসব। উৎসবের প্রথম দিনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে পাহাড়িরা ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে সেই ফুল দিয়ে ঘর সাজায়। এদিন নদীর পানিতে ফুল ভাসিয়ে পুরনো বছরের দুঃখ-বেদনাকে যেন ভাসিয়ে দিয়ে নতুন দিনের সম্ভাবনার আলো জ্বালায় তরুণ-তরুণীরা। একে বলা হয় ফুলবিজু।

রাঙ্গামাটি শহরের রাজবনবিহারের পূর্বঘাটে কর্ণফুলী নদীতে গতকাল ফুলবিজুর দিন সকালে ফুল ভাসায় চাকমা তরুণীরা। করোনার কারণে আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানিতে ফুল ভাসায় তারা। বিজু, সাংগ্রাই, সাংক্রান, সাংক্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু-২০২১ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, ‘অন্যান্য বছর আমরা উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশে এই উৎসব পালন করি। কিন্তু করোনার প্রভাব ও সরকারি নির্দেশনায় জনসমাবেশ হবে এমন অনুষ্ঠান আমরা স্থগিত করছি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যে যার অবস্থান থেকে ঘরোয়া পরিবেশে উৎসব পালনের প্রস্তুতি চলছে।’

খাগড়াছড়িতে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে বৈসাবি উৎসব পালন শুরু হয়। গতকাল ভোরে চাকমা শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সীরা ফুল সংগ্রহ করে চেঙ্গীনদী ও বিভিন্ন ছড়া-খালে ফুল দিয়ে উপগুপ্ত বুদ্ধের উদ্দেশ্যে পূজা করেন। এ বছর ফুলবিজুর প্রধানতম প্রার্থনা ছিল করোনাভাইরাস থেকে মুক্তিলাভ। এ ছাড়াও পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরে ভালো কিছু প্রত্যাশার কথা জানায় পাহাড়িরা।

এ ছাড়া একই জেলার দীঘিনালা উপজেলায় বৈসাবি উদযাপন উপলক্ষে গতকাল মাইনী নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে তিনদিনের উদযাপন শুরু হয়। এদিন উপজেলার মাইনী নদী, বিভিন্ন ছড়া ও খালে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবটির সূচনা হয়। করোনার সংক্রমণ বিবেচনায় সেখানেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে উৎসব পালন করে পাহাড়িরা। প্রতিবেদনটি তৈরিতে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত