‘লকডাউনের’ ভীতি কাটিয়ে লেনদেনে মনোযোগী হতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা। ‘লকডাউনে’ পুঁজিবাজার এক সপ্তাহ বন্ধ থাকবে এমন নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে শেষ দিনে কম দরে শেয়ার কেনার সুযোগ নিয়েছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সরকারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ায় ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের লেনদেন চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল ক্রয়চাপ বেড়ে গিয়ে সূচকে উত্থান দেখা দিয়েছে। বেড়েছে কেনাবেচা হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দর। লেনদেনের পরিমাণও খানিকটা বেড়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া প্রায় ৬৬ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৭০ পয়েন্ট। কেনাবেচার পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে সামান্য বেড়ে ৫০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধারার ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
গত সোমবার সরকারি নির্দেশনায় সর্বাত্মক ‘লকডাউনের’ অংশ হিসেবে ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে পুঁজিবাজারের লেনদেনও এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর ফলে টানা বন্ধের আগে গতকাল শেষ কার্যদিবস মনে করে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ শেয়ার কিনে নেয়। এ ছাড়া বন্ধের মধ্যে শেয়ার বিক্রির অর্থ উত্তোলন সম্ভব না থাকায় বিক্রিচাপও কম ছিল। যদিও লেনদেন শুরুতে শেয়ার বিক্রি বেশি থাকায় সূচক কিছুটা কমে যায়। তবে মাত্র ১০ মিনিটেই সূচক পুনরুদ্ধার করে বড় উত্থানের দিকে এগিয়ে যায় বাজার।
গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৪৭টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ২২৮টির, কমেছে ৬৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৫৬টির। লেনদেন হয়েছে ৫১১ কোটি টাকা। দিনশেষে সূচক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে ৫২৫৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়। গতকাল প্রায় সব খাতের বাজার মূলধন বাড়লেও সবচেয়ে বেশি বেড়েছে প্রকৌশল, সিমেন্ট, এনবিএফআই, বীমা, টেলিযোগাযোগ, বিবিধ, সেবা ও নির্মাণ খাতের।
