রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির অমীয় বার্তা নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পশ্চিমাকাশে উদিত হয়েছে পবিত্র রমজানের চাঁদ। স্বাগত ১৪৪২ হিজরির রমজান মাস। প্রতি বছর মাসটি আসে মুমিনকে পরিশুদ্ধ করতে। এই মাসে মহান প্রভু অফুরন্ত রহমত ও শান্তির বারিধারা বর্ষণ করেন। তার নেয়ামতের ভাণ্ডার খুলে দেন। অগণিত বান্দাকে মাফ করে দেন। মুক্তির সুসংবাদ পৌঁছে দেন মুমিনের দুয়ারে দুয়ারে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জন করে। চিরন্তন জীবনের অনন্ত সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করে।
রমজান মুমিনজীবনের অনন্য প্রাপ্তি। পবিত্র রমজানের প্রতিটি মুহূর্তে এত বেশি বরকত লুকিয়ে আছে যে, এই মাসে করা নফল কাজগুলো ফরজ কাজের মর্যাদা পায়, আর ফরজ কাজগুলো সত্তর গুণ অধিক মর্যাদা পায় (বায়হাকি)।
রমজান মাস এলে আকাশের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, সৎ পথে চলার পথ সহজ হয়ে যায়, শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয় (বোখারি ও মুসলিম)। অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে রোজা ঢালস্বরূপ। যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে তার অতীত ও বর্তমানের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। রমজান মুমিনের জন্য কাক্সিক্ষত সফলতা লাভের জোরালো হাতছানি। তবে রমজানের প্রাপ্তি ও সুফল নিশ্চিত হওয়ার পূর্বশর্ত হলো, এ মাসের দাবি যথাযথভাবে আদায় করা।
এ বছর রমজান এমন একটি সময়ে এসেছে যখন গোটা বিশ^ মহামারীর করোনাভাইরাসের ছোবলে বিপর্যস্ত। ফলে কঠোর বিধিনিষেধ ও অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় রোজা রাখছেন মুমিন বান্দারা। মহামারী থেকে বিশ^বাসীর মুক্তি এবং সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি আজ সবার মনে। রোজাদার যখন আল্লাহর এই বিধান পালনের মাধ্যমে নিঃশর্ত আনুগত্য পোষণ করে মহান দরবারে প্রার্থনা জানাবে নিশ্চিতভাবেই স্রষ্টা সেই আহ্বানে সাড়া দেবেন। এজন্য আমরা আশা রাখতে পারি, এই রমজানের অসিলায় করোনার ছোবল থেকে আল্লাহ আমাদের মুক্তি দেবেন। তারাবিসহ পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজে ২০ জনের বেশি মুসল্লির অংশগ্রহণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গত বছরও রমজানের অনেক আনুষ্ঠানিকতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে করোনার কারণে। আল্লাহর ফায়সালার ওপর আসলে কারও করার কিছু নেই। রমজানের ইবাদত আমরা অবশ্যই পালন করব, তবে এর আগে নিজেকে এবং অন্যকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্বও আমাদের ওপর বর্তায়। আসুন, দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমাদের এই ভাইরাসের কবল থেকে চিরতরে মুক্তি দেন।
লেখক : আলেম ও ধর্মীয় নিবন্ধকার
