সংক্রমণ এড়াতে খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যবিধি

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১২:০৬ এএম

করোনা সংক্রমণের এ সময়ে সবচেয়ে বেশি দরকার শরীরের ইমিউনিটি তৈরি করা। শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক থাকলে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। নিয়ম মেনে এ সময়ের করণীয় জানালেন তাসলিমা নীলু

স্বাস্থ্যবিধি

 করোনা থেকে বাঁচতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস অব্যাহত রাখতে হবে। হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

 দেহে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। ঘরে বসে যোগ ব্যায়াম করতে পারেন। ঘরের কাজ করুন ও হাঁটুন। সুযোগ থাকলে ছাদে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করুন। নিয়ম করে অন্তত আধা ঘণ্টা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। সকালে সূর্যের আলো শরীরে লাগানোর চেষ্টা করুন।

খাবার

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার বেশি কার্যকর। যেমন উজ্জ্বল রঙের ফল, গাজর, পালং শাক, আম ও ডাল। ভিটামিন-‘এ’ যেমন গাজর, পালং শাক, মিষ্টি আলু, মিষ্টিকুমড়া, জাম্বুরা, ডিম, কলিজা, দুধজাতীয় খাবার। ভিটামিন-ই-সমৃদ্ধ খাবার কাঠবাদাম, চীনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, বাদাম তেল, বিচিজাতীয় ও ভেজিটেবল অয়েল, জলপাইয়ের আচার ও সবুজ শাকসবজি। ভিটামিন-সি আছে আমলকী, লেবু, কমলা, কাঁচা মরিচ ও করলায়।

 উদ্ভিজ্জ খাবারে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভালো থাকে। বিশেষত বেগুনি, লাল, কমলা ও হলুদ রঙের শাকসবজি এবং ফল খাওয়া প্রয়োজন। এগুলোর মধ্যে করলা, বিট, ব্রোকলি, গাজর, টমেটো, মিষ্টি আলু, ক্যাপসিকাম ও ফুলকপি। যেকোনো শাকই খাওয়া যাবে। ফলের মধ্যে কমলালেবু, পেঁপে, আঙুর, আম, কিউই, আনার, তরমুজ, বেরি, জলপাই ও আনারস। এ ছাড়া শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বিচিজাতীয় খাবার, লাল চাল, আটা, বাদাম, দই, গ্রিন-টি, লাল চা, সামুদ্রিক মাছ, দুধ, ডিম, মুরগির মাংস খেতে হবে। সব খাবারই অতিরিক্ত তাপে বা দীর্ঘ সময় সেদ্ধ করে রান্না করতে হবে।

 করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কিছু খাবার বাদ দিতে হবে। এসব খাবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। কার্বনেটেড ড্রিংকস, বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, তামাক, সাদাপাতা, খয়ের, ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম, চিনি কিংবা চিনিযুক্ত খাবার যত দূর সম্ভব না খাওয়াই ভালো।

বাজারে

অনলাইনে কাঁচাবাজার করতে পারেন। বাজারে যেতে চাইলে সপ্তাহে এক দিন যান। বাজার করতে যাওয়ার সময় মাস্ক পরবেন। চেষ্টা করুন হাতে গ্লাভস পরতে। বাইরে থেকে বাজার আনার পর এমন জায়গায় প্রথমে রাখতে হবে, যেন সে জায়গা সাবান দিয়ে মোছা বা ধোয়া যায়। পরিধেয় কাপড় ও জুতা এমন স্থানে খুলে রাখতে হবে, যাতে বাসায় পরার কাপড়ের সংস্পর্শে না আসে। অপচনশীল বাজার সাত দিনের জন্য এমন স্থানে রাখতে হবে, যাতে কেউ সাত দিনের আগে স্পর্শ বা ব্যবহার না করে। পচনশীল বাজার ২০ সেকেন্ড সাবান পানিতে ডুবিয়ে রাখার পর তা পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে সাবানমুক্ত করতে হবে। এরপর মুছে বা শুকিয়ে ফ্রিজে রাখতে হবে।

লিফট ও সিঁড়িতে

করোনা মহামারীতে লিফট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সাবধানতা মেনে চলতে হবে। লিফটে ঢোকার আগে মুখে মাস্ক পরবেন। লিফটের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াবেন না। লিফটের বোতাম টেপার ক্ষেত্রে টুথপিক, ইয়ারবাড বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন। যে জিনিসটি বোতাম টেপার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন, সেটি যাতে শরীরের কোনো অংশে না লাগে । এরপর ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলে দিন। হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন অথবা স্যানিটাইজার লাগান। যদি সিঁড়ি ব্যবহার করেন, সে ক্ষেত্রেও কিছু নিয়মবিধি মেনে চলা আবশ্যক। সিঁড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন সিঁড়ির রেলিংগুলোতে আপনার হাতের স্পর্শ না লাগে। কারণ, কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি রেলিং স্পর্শ করে থাকলে তা থেকে আপনিও সংক্রমিত হতে পারেন। আর স্পর্শ করলে দ্রুত সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

অফিসে

 স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের আশঙ্কা কম। যারা অফিসে যাবেন তারা সঙ্গে রাখুন অ্যালকোহল বেসড্ হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান, ডাবল বা ট্রিপল লেয়ারের মাস্ক, হাতের গ্লাভস। সঙ্গে নিন ঘরের খাবার ও পানি।

 বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে মাস্ক, গ্লাভস নিন। পারলে দুটি মাস্ক ব্যবহার করুন। বাড়ির বাইরে বেরোনোর পর থেকে অফিস পৌঁছানো পর্যন্ত মাস্ক খুলবেন না।

 চেষ্টা করুন রাস্তায় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করতে। ফোনের মাধ্যমেও ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অফিসে বা বাড়িতে পৌঁছে হাত স্যানিটাইজ করার পর মোবাইল ব্যবহার করুন। অফিসের ব্যাগে এক্সট্রা মাস্ক ও গ্লাভস রাখুন। বাইরে পরে যাওয়ার জন্য দুই জোড়া জুতো রাখুন। এমন জুতো ব্যবহার করুন যা সহজেই ধুয়ে ফেলা যায়।

 অফিসে পৌঁছানোর পর পেছন দিক থেকে মাস্কটি খুলে নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিন। গ্লাভস খুলে হাত ও মুখ ধুয়ে নিন। নিজের কাজের জায়গার টেবিল, চেয়ার, কম্পিউটার, টেলিফোন স্যানিটাইজ করে নিন। কাজ করার সময় কিছুক্ষণ পর পর স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিন।

 বাড়ি ফিরে বাইরের জুতো খুলে, পা ধুয়ে ঘরে ঢুকুন। সুযোগ না থাকলে জুতো হাতে নিয়ে বাথরুমে যান। বাথরুমে জামা-কাপড় পরিবর্তন করে সেগুলো সাবান পানিতে ধুয়ে গোসল করুন। জুতো, মাস্ক ও গ্লাভস সাবানপানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অফিসের ব্যাগ প্রতিদিনই সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে বা মুছে নিন। স্যানিটাইজার দিয়ে মোবাইল পরিষ্কার করে তারপর ফোন ব্যবহার করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত