চট্টগ্রামে বেড়েছে মাছ মাংস সবজির দাম

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০২:১৩ এএম

করোনাভাইরাস মহামারীর ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশব্যাপী চলছে ‘লকডাউন’। ‘লকডাউনের’ তৃতীয় দিন গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাঁচাবাজারে ভিড় থাকলেও দামের উত্তাপে ক্রেতারা পড়ে বিপাকে। তৃতীয় রমজানের এই দিনে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারগুলোতে ছিল মাংস, মাছ ও সবজির অস্বাভাবিক দাম। গত তিন দিনের ব্যবধানে গরুর মাংস, বেগুন, শসার দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে নিম্নবিত্তরা। তবে বিক্রেতাদের দাবি ‘লকডাউন’ ও রোজার কারণে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কমায় দাম বাড়ছে।

গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার, বক্সিরহাট, কাজির দেউড়ি, চকবাজার ও ফিরিঙ্গি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০০ টাকা। বর্তমানে হাড় ছাড়া এক কেজি মাংসের দাম ৭৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৫০ টাকা। এদিকে, আর হাড়সহ মাংসের দাম ৬৫০ টাকা। লালখান বাজার এলাকার কসাই মো. আকিবুল বলেন, ‘রমজান শুরুর আগে দিন থেকে ৭৫০ টাকা হয়েছে। চট্টগ্রামে গরুর মাংসের চাহিদা বেশি। ১ লাখ ২০ হাজার টাকার গরু এখন কিনতে হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। লকডাউনের কারণে গরুবোঝাই ট্রাক নগরীর বাজারে আসতে পারছে না।’

এদিকে, নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে গত তিন দিনের ব্যবধানে বেগুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা। গত তিন দিন আগে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া বেগুন গতকাল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা। একা হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। শসার কেজি ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা। ২০ টাকা কেজি দরের টমেটো গত ৩ দিনের ব্যবধানে বেড়ে ৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে। পটোলের কেজি ৬০, ঢেঁড়স ৫০, আলু ২০-২৫, বরবটি ৬০, কাঁকরোল ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ‘লকডাউনে’ সবজিবোঝাই পিকআপ আসতে না পারা এবং চাহিদার তুলনায় জোগান না থাকায় দাম বাড়ছে।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মামুন বলেন, ‘লকডাউনে উত্তরবঙ্গ থেকে সবজিবোঝাই ট্রাক আসছে হাতে গোনা। উপজেলা পর্যায়ের ট্রাকও সবজি আনছে চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই মাঠ পর্যায় থেকে দাম বেড়েছে। রমজানে বেগুন ও শসার দাম বাড়তি থাকে। তারমধ্যে লকডাউন হয়ে যাওয়ায় সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে।’

নগরীতে বেড়েছে সব ধরনের মাছের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে রুই বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ২৪০। আর কাতলা ২৬০-২৮০। তেলাপিয়া কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০, লইট্ট্যার কেজি ১২০, পাবদা ৩৫০, সামুদ্রিক বাইলা ৩৫০-৪০০, চিংড়ি ৫০০-৯০০ এবং রূপচাঁদা ৬০০-৮০০, পাঙ্গাশ ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

সাব এরিয়া বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সেলিম বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চল থেকে চাষের মাছ আসছে না। তাই কোল্ড স্টোরেজে থাকা সামুদ্রিক মাছের জোগানে চলছে বাজার। তাই সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নেই। প্রতিদিন বাড়ছে মাছের দাম।’

মো. আকিব নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘রমজান এলেই কাঁচাবাজারে দাম বাড়তে থাকে। এবার লকডাউনের ফলে দাম আরও বেড়েছে। অতিরিক্ত দামে মাছ-মাংস  বিক্রি হলেও বাজার তদারকিতে কেউ নেই। তিন দিনের ব্যবধানে বাজারে দাম লাগামহীন।’

বক্সিরহাট কাঁচাবাজারে আসা ক্রেতা মো. আরাফাত বলেন, ‘লকডাউনের অজুহাতে সবজির দাম বাড়িয়েছে বিক্রেতারা। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। এখন আয় নেই, অল্প দামে ছিল সবজি। অথচ এক সপ্তাহ না হতেই সবজির দাম দ্বিগুণ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত