আমার মনে হয়েছিল কবরী আপাও ফিরে আসবেন: ববিতা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫১ পিএম

কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেছেন ৷ তার প্রস্থানে শোকের ছায়া নেমে আসে সংস্কৃতি অঙ্গনে। তার সহকর্মীরাও শোক জানিয়েছেন। কবরীর সহকর্মী নায়িকা ববিতা বিষণ্ন মনে জানালেন কবরীকে নিয়ে নানা স্মৃতি।

ববিতা বলেন, ‘আমার কাছে খবরটা শোনার পরেই অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। মনে হয়েছে এটা গুঞ্জন। কিছুটা বিরক্তও হয়েছি। কিন্তু পরে যখন টিভি খুলে দেখলাম, সত্যিই উনি মারা গেছেন তখন বুকটা ধড়ফড় করা শুরু করল। এরপর আর ঘুমাতে পারিনি। অনেকেই তো করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও ফিরে এলো। আমার মনে হয়েছিল কবরী আপাও ফিরে আসবেন। কিন্তু এলেন না।’

কবরীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কবরী আপার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ। ওনার সাথে আমার অসংখ্য স্মৃতি আছে। এগুলো সব বলে শেষ করা যাবে না। ১৯৬৯ সালে জহির ভাইয়ের (জহির রায়হান) ‘শেষ পর্যন্ত’ ছবির শুটিং করতে এফডিসিতে যাই, তখনই কবরী আপা রাজ্জাক ভাইকে শুটিং করতে দেখি। তাদের ‘ময়নামতি’ নামের ছবি আমি নিজে হলে গিয়ে দেখেছি। আমি উনার ভক্ত ছিলাম। তার সঙ্গে মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গিয়েছিলাম। এত এত দশকে অজস্র আড্ডায় সময় পার করলেও তার সঙ্গে কাজ করেছি মাত্র দুটি ছবিতে। এর মধ্যে ‘সোনার হরিণ’ সিনেমায় প্রথম কাজ করি (পরিচালক সিরাজুল ইসলাম)। এতে অনেক তারকাই ছিলেন (কবরী, শাবানা, ববিতা, রাজ্জাক, বুলবুল আহমেদ, সুচরিতা)। তবে আমাদের শুটিং হয়েছিল আলাদা। সর্বশেষ কাজ করি ‘রাজা সূর্য খাঁ’ ছবিতে। ওনার সঙ্গে আমার সর্বশেষ দেখা হয় রাজ্জাক ভাই যেদিন মারা গেলেন। সেদিন এফডিসিতে কবরী আপার সাথে শেষ দেখা হয়েছিল। তারপর আর দেখা হলো না।’

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কবরী। তার পারিবারিক নাম ছিল মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণ দাস পাল ও মা লাবণ্য প্রভা পাল। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় কবরীর। তার অন্যান্য জনপ্রিয় ছবির মধ্যে রয়েছে জলছবি, বাহানা, সাত ভাই চম্পা, আবির্ভাব, বাঁশরি, যে আগুনে পুড়ি,  দীপ নেভে নাই, দর্পচূর্ণ, ক খ গ ঘ ঙ, বিনিময়, সুজন সখী, আগন্তুক, নীল আকাশের নীচে, ময়নামতি, সারেং বৌ, দেবদাস, হীরামন, চোরাবালি, পারুলের সংসার, আরাধনা, দুই জীবন ও তিতাস একটি নদীর নাম।

৫ দশকের বেশি সময় চলচ্চিত্রে রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল ও বুলবুল আহমেদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ঢাকার চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন রাজ্জাক-কবরী। ফারুক ও বুলবুল আহমেদের সঙ্গেও তার জুটি জনপ্রিয়তা পায়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-সহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন কবরী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত