ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরির প্রথম স্ত্রী ক্যাথেরিন। তিনি ছিলেন স্পেনের রাজা ফার্দিনান্দ ও রানী ইসাবেলের কন্যা। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায়। সাহসী ক্যাথেরিনকে নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
তিন মাস বয়সে বাগদান
ক্যাথেরিনের বাবা ছিলেন এরাগনের রাজা ফার্দিনান্দ ও মা ক্যাস্টাইলের মেয়ে ইসাবেলা। ১৪৮৫ সালে দক্ষিণ মাদ্রিদের প্রাসাদে তার জন্ম হয়। ইংল্যান্ডের সঙ্গে জোরদার রাজনৈতিক সম্পর্কের খাতিরে ক্যাথেরিনের বাবা ইংল্যান্ডের হবু রাজা আর্থারের সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করেন। তখন আর্থারের বয়স ছিল আঠারো মাস, অন্যদিকে ক্যাথেরিনের বয়স তখন মাত্র তিন মাস।
এই বিয়ে উপলক্ষে ১৪৮৯ সালের ২৭ মার্চ দুটো দেশের ভেতরে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তি মেডিনা ডেল ক্যাম্পো নামে পরিচিত। এই চুক্তির আওতায় স্পেন ও ইংল্যান্ডের রাজ্যগুলোতে বাণিজ্য শুল্ক হ্রাস করা হয়, ফ্রান্সকে সাধারণ শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই চুক্তি পরবর্তী ৯৬ বছর বলবৎ ছিল। কনের বাবার পক্ষ থেকে এই বিয়েতে রাজা সপ্তম হেনরি প্রচুর উপঢৌকন পান।
ক্যাথেরিনের মা ইসাবেলার স্বল্পজ্ঞান ফার্দিনান্দের রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছিল। তার অক্ষমতা যেন তার মেয়েকে স্পর্শ না করে তাই তিনি মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার সমস্ত আয়োজন করেন। রাজ্যের সেরা শিক্ষকদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন ক্যাথেরিন। তিনি নিজের মাতৃভাষা স্প্যানিশের পাশাপাশি ফ্রেঞ্চ ও ল্যাটিন ভাষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। কমবয়সে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে তাকে দ্রুতই ইংল্যান্ডে চলে যেতে হয়। ইংরেজিতে স্বল্পজ্ঞান নিয়েই তাকে বিদেশ বিভুঁইয়ে পাড়ি দিতে হয়।
তখন ক্যাথলিক চার্চ কট্টরভাবে বাইবেলকে ল্যাটিন ভাষায় রাখার পক্ষপাতী ছিল। ফলে অন্য কোনো ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করা সম্ভব ছিল না। অন্যদিকে ক্যাথেরিনের শিক্ষা ক্যাথলিক চার্চ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল বলে এটি ল্যাটিন ভাষায় তার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, বাবা-মাকে একইসঙ্গে রাজ্য পরিচালনায় দেখতে দেখতে ক্যাথেরিন বেড়ে উঠেছিলেন। রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসাবেলা সেনাবাহিনীর সামরিক কৌশল নির্ধারণ করেছেন, রাষ্ট্রীয় খরচে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ভ্রমণের দায়িত্বও নিয়েছেন।
প্রথম স্বামী আর্থারের মৃত্যু
১৫০১ সালে যখন ক্যাথেরিন ও আর্থারের বয়স ১৫ তখন সেইন্ট পল ক্যাথেড্রালে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের পরে ক্যাথেরিন ইংল্যান্ডের রাজপ্রাসাদে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের ছয় মাসের মাথায় হুট করে আর্থার মারা যান। প্রিন্সেস অব ওয়েলস নামে পরিচিত ক্যাথেরিন মাত্র পনের বছর বয়সে বিধবা হয়ে অকূল পাথারে পড়ে যান। আর্থারের আকস্মিক মৃত্যুতে স্পেন ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়। রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ঠিকঠাক রাখার লক্ষ্যে তখন আর্থারের ছোটভাই অষ্টম হেনরির সঙ্গে ক্যাথেরিনের বিয়ে ঠিক করা হয়। রাজা অষ্টম হেনরি ছিলেন আর্থারের পাঁচ বছরের ছোট।
সেকালের প্রথা অনুযায়ী উচ্চবংশীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে নবদম্পতির সুখের আশায় কনের পরিবারের পক্ষ থেকে বিশাল অঙ্কের যৌতুক পাঠানো হতো। অনেক ক্ষেত্রেই এই যৌতুক ঘুষ হিসেবে ব্যবহার করে নানারকম সুবিধা আদায় করে নেওয়া হতো। সে সময়ের নিয়ম মেনে ক্যাথেরিন রাজা আর্থারের বিয়েতে ২ লাখ ডাকেট (বাণিজ্যিক মুদ্রা) প্রদান করা হয়।
এই যৌতুক নিয়ে বিয়ের সময়ে একটি ঝামেলার সূত্রপাত হয়েছিল। তখন ক্যাথেরিনের বাবা-মা ফার্দিনান্দ ও ইসাবেলা যৌতুক ও মেয়েকে স্পেনে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন বলে বরপক্ষকে হুমকি দেন। বেশ কয়েক বছর পরে ক্যাথেরিন তার বাবা-মাকে জানান ইংল্যান্ডে তিনি জীবনের সুখ খুঁজে পাচ্ছেন না, তিনি স্পেনে ফিরে গির্জার সন্ন্যাসী হতে চান।
অষ্টম হেনরির সঙ্গে বিয়ে
হেনরির সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে যৌতুকসহ আরও অনেক বাধা এসে উপস্থিত হয়। ক্যাথলিক চার্চের নিয়মানুসারে তখন ভাইয়ের বিধবা বউকে বিয়ে করা সমাজে নিষিদ্ধ ছিল। ফলে হেনরি ও ক্যাথেরিনকে পোপের বিশেষ অনুমতির অপেক্ষা করতে হয়েছিল। হেনরিকে বিয়ে করতে গেলে ক্যাথেরিনকে সামাজিকভাবে আর্থারের সঙ্গে বিয়েকে অবৈধ প্রমাণ করতে হয়েছিল, প্রমাণ করতে হয়েছিল আর্থারের সঙ্গে তার বিয়ে কখনোই অনুষ্ঠিত হয়নি। আর্থারের মৃত্যুর আট বছর পরে অনেক সামাজিক বাধা অতিক্রম করে ক্যাথেরিন ও হেনরি ১৫০৯ সালের ১১ জুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময়ে হেনরির বয়স ছিল ১৯ ও ক্যাথেরিনের ২৪ বছর। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই বিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উদযাপিত হয়। শ্বশুর ফার্দিনান্দকে হেনরি লিখে পাঠান, ‘সত্যিকারভাবে আমি ও আমার স্ত্রী পরস্পরের প্রেমে পড়েছি।’
ক্যাথেরিন ও হেনরির বিয়ের ঠিক তিনমাস আগে হেনরির বাবা রাজা সপ্তম হেনরি মারা যান। ঘটনার পরিক্রমায় উত্তরাধিকার সূত্রে ইংল্যান্ডের সিংহাসন তখন হেনরির অপেক্ষায়। ক্যাথেরিন ও হেনরি যৌথভাবে অভিষেক অনুষ্ঠান উদযাপন করেন।
ক্যাথেরিন ধার্মিক রানী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। বুদ্ধিমতী ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন বলে ধীরে ধীরে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। ছোটবেলায় শেখা শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা তাকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক রক্ষায় সাহায্য করেছিল। ১৫০৯ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপের ইতিহাসে তিনি স্পেনের নারী এম্বাসেডর হিসেবে নির্বাচিত হন।
সে সময়ের সাহসী নারীদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ১৫১৩ সালে হেনরি চারমাসের জন্য ফ্রান্সে গেলে রাজ্য পরিচালনার ভারও ক্যাথেরিনের ওপরে বর্তায়। এই সময়ে সুযোগ বুঝে স্কটল্যান্ডের রাজা চতুর্থ জেমস ইংল্যান্ড আক্রমণ করে বসেন। ক্যাথেরিন পাল্টা লড়াই করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেন। ইংল্যান্ডের পাল্টা আক্রমণে পরাস্ত হয়ে জেমসের সেনাবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।
সুখকর বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছিলেন এই দম্পতি। একই সঙ্গে শিকারে যেতেন, খাওয়া-দাওয়া করতেন, দুজনের প্রতি দুজনের অন্যরকম বিশ্বস্ততা ছিল। বেশ কয়েকবার গর্ভপাতের পরে হেনরি তার উত্তরাধিকারের আশায় মুষড়ে পড়েন। এই সময়ে দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। হেনরি অন্যান্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার প্রেমিকার গর্ভে হেনরি ফিটজ্রয় নামক এক পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।
গর্ভধারণ
ছয়বার গর্ভধারণ করেন ক্যাথেরিন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম দেন তিনি। দুটো ছেলের নামই হেনরি ডিউক অব কর্নওয়াল, তারা দুজনেই মাত্র কয়েক মাস বয়সে মারা যায়। একমাত্র জীবিত সন্তান মেয়ে মেরি। নিজের ছেলেবেলার মতো মেয়ের জন্যও শিক্ষালাভের সর্বাত্মক ব্যবস্থা করেন তিনি। মেয়ের জন্য তিনি একটি বই লিখেছিলেন। জন লুইস ভাইভস লিখিত ‘দি এডুকেশন অব ক্রিশ্চিয়ান উইমেন’ নামের বইয়ে লেখক উল্লেখ করেছেন তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় নারীশিক্ষার বিস্তার নিয়ে লেখা বইটি বেশ আলোড়ন তুলেছিল। ১৫২৪ সালে প্রকাশিত এই বই তখনকার সমাজে বেশ সমালোচনার সৃষ্টিও করেছিল। কারণ সময়ের চেয়ে সাহসী এই নারী তার জীবনে বিদ্যা অর্জনের ভূমিকা ব্যক্ত করেছিলেন এই বইয়ে। একইসঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে নারী ও পুরুষে যে কোনো পার্থক্য নেই সেটিও এই বইয়ে তুলে ধরেন তিনি।
বাল্যবিবাহ ও কিশোরী বয়সে বিধবা হওয়ার অভিজ্ঞতা, বারবার গর্ভধারণ তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছিল। এই সমস্ত কিছু তিনি ভুলে থাকতেন প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। এই করে করে চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হলে তিনি বুঝতে পারেন তার গর্ভধারণের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে, তিনি হেনরিকে কোনো পুত্রসন্তান উপহার দিতে পারবেন না।
বিবাহবিচ্ছেদ
ক্যাথেরিনের স্বাস্থ্যের অবনতির সঙ্গে সঙ্গে এরই মধ্যে রাজা হেনরির সঙ্গে তার দরবারের সভাসদ অ্যান বুলিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি হেনরির প্রতি এতটাই বিশ^স্ত ছিলেন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হেনরি বিবাহবিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক বিয়েতে গড়াবে না। অ্যান ছিলেন শিক্ষিত নারী। রাজার ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে এই সম্পর্ক গোপন রেখেছিলেন দুজনেই। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়াল ক্যাথলিক চার্চ। ক্যাথলিক চার্চ বিয়ে বিচ্ছেদকে স্বীকৃতি দেয় না। চার্চ হেনরিকে সতর্ক করে দিল – বিবাহবিচ্ছেদ মানে চার্চের রীতিকে অবজ্ঞা করা, যার সামগ্রিক অর্থ দাঁড়ায় চার্চের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করা।
সেকালে ইউরোপের সব রাজকীয় বিয়ে বা বিচ্ছেদ, সরাসরি পোপের অনুমোদনক্রমে হতো। হেনরি পোপের সাহায্য চাইলে পোপ অনুমতি দিলেন না। সে সময় ইংল্যান্ডে ক্যাথলিক চার্চবিরোধী একটি সামাজিক আন্দোলন দানা বেঁধে উঠেছিল। এই আন্দোলন ল্যাটিন ভাষার বাইবেল অনুবাদ করার সর্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হয়। ক্যাথলিক চার্চের প্রবল বিরোধিতার মুখেও আন্দোলন চলছিল সগর্জনে। এই আন্দোলনটি পরে প্রটেস্টেন্ট মুভমেন্ট নামে পরিচিত হয়। রাজা হেনরি প্রোটেস্টেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং রাজকীয় অনুদানের মাধ্যমে তাদের জন্য চার্চ অফ ইংল্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। এই চার্চ অফ ইংল্যান্ড রাজসহায়তায় ক্যাথলিক চার্চ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজস্ব ক্ষমতা বলয় সৃষ্টি করে। এর বিনিমিয়ে রাজা হেনরি নিজের প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমোদন লাভ করেন।
নির্বাসন
ক্যাথেরিন হেনরিকে তালাক দিতে অস্বীকৃতি জানালে মেয়ে মেরিকে তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন হেনরি। হেনরি ভেবেছিলেন মেয়েকে ফিরে পেতে ক্যাথেরিন বিচ্ছেদের অনুমতি দেবেন। যেহেতু ক্যাথেরিন তার মত পরিবর্তন করেননি তাই সারা জীবনের জন্য মেয়েকে দেখার সুযোগ হারান। ইতিমধ্যে চার্চ অব ইংল্যান্ড বিয়ে বিচ্ছেদের অনুমতি দিলে তিনি ১৫৩৩ সালের জানুয়ারি মাসে অ্যান বুলিনকে বিয়ে করেন।
ইংল্যান্ডের মানুষ অ্যানকে রানী হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানাল। কিন্তু রাজা হেনরি দমে যাওয়ার পাত্র নন। অ্যানের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নানারকম সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি অ্যানকে নিয়ে যাওয়া শুরু করেন। ধীরে ধীরে লন্ডনের উঁচু মহলে অ্যানের প্রতি বিশ্বাস বাড়তে থাকে।
১৫৩৩ সালে অ্যানের মেয়ে এলিজাবেথের জন্ম হয়। হেনরি আগে থেকেই ক্যাথেরিনের ওপরে ক্ষেপে ছিলেন। এলিজাবেথের জন্মের পরে ক্যাথেরিনের সঙ্গে সবধরনের সম্পর্কচ্ছেদের জন্য তিনি নতুন আইন পাস করেন। এই আইনে মেরিকে উত্তরাধিকারী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করা হয় এবং রানী হিসেবে তার সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।
১৫৩৪ সালে মেরি অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্যাথেরিন তার মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আবেদন জানান। হেনরি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক শাশুড়ি ইসাবেলা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজাবেন কি না তা নিয়েও চিন্তিত ছিলেন হেনরি। আশাবাদী ক্যাথেরিন সন্তান ফিরে পাওয়ার আশায় নতুন পোপকে চিঠি লিখলেন। কিছুতেই কিছু হলো না। অসুস্থ সন্তানকে একটিবার দেখতে না পাওয়ার দুঃখ তার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছিল। ১৫৩৬ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা যান ক্যাথেরিন।
নির্বাসনের পরেও অ্যানকে রাজ্যাভিষেকের রাজকীয় গহনা ফিরিয়ে দেননি তিনি। মৃত্যুর আগে হেনরিকে লেখা তার শেষ চিঠিতে তিনি জানান, ‘আর যা বলার বাকি, আমাদের মেয়ে মেরির ভার তোমার ওপরে রইল, এই আশায় যে বাবা হিসেবে তুমি ভালোই হবে। সবশেষে শপথ করে বলছি – আমার চোখ জোড়া শুধু তোমাকেই খুঁজে ফেরে। বিদায়। ইংল্যান্ডের রানী ক্যাথেরিন।’
কন্যা মেরির সিংহাসন লাভ
ক্যাথেরিনের মেয়ে মেরি টিউডরের ছেলেবেলা কেটেছে পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে। ছেলেবেলা থেকে তার প্রতি বাবার ঔদাসীন্য তাকে হেনরির প্রতি বিদ্রোহী করে তুলেছিল। একই সঙ্গে মায়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সবকিছুর জন্য সে তার বাবার প্রতি বিরক্তও ছিল। ১৫৪৭ সালে রাজা অষ্টম হেনরি মারা যাওয়ার পরে তিনি সিংহাসনে বসেন। ইংল্যান্ড ও ক্যাথলিক চার্চের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করেন তিনি। তার মায়ের শুরু করা কাজ শেষ করার জন্যই যে তার সিংহাসনে বসা। কিন্তু তার রাষ্ট্রীয় শাসন শেষ হয়ে যায় ১৫৫৩ সালে। সৎবোন প্রথম এলিজাবেথ তাকে হত্যা করিয়ে সিংহাসন দখল করেন।
ক্যাথেরিনের আইনি উপদেষ্টা ইস্টেস চাপুই জানতেন, ইংল্যান্ড ক্যাথেরিনকে ফিরে পেতে বিদ্রোহ করবে। ইসাবেলা, ক্যাথেরিনের শক্তিশালী উত্তরসূরি হিসেবে মেরি টিউডর ইতিহাসে তার যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। আর ক্যাথেরিন অব অ্যারাগন ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন রাজা হেনরির নিষ্ঠুরতার বলি হিসেবে। যোগ্য ও দৃঢ়চিত্তের নারী হিসেবে ক্যাথেরিনকে ইংল্যান্ডের ইতিহাস সবসময় স্মরণ করে যাবে।
