দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গতকাল শনিবারও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ১০১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে ৬২২ জন করোনা রোগী মারা গেছেন, যা এ যাবৎ এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শেষ এক সপ্তাহে আগের এক সপ্তাহ থেকে প্রায় ৪০ ভাগ মৃত্যু বেশি হয়েছে। আগের এক সপ্তাহে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৬৪ জন করে মোট ৪৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে শেষ এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৯ জন করে মারা গেছেন ৬২২ জন। অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই এক সপ্তাহের মৃত্যু গত মার্চ মাসের মোট মৃত্যুর সমান। পুরো মার্চে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২১ জন করে মোট মারা গিয়েছিল ৬৩৮ জন। অন্যদিকে চলতি এপ্রিলের গত ১৭ দিনে মারা গেছে মোট ১ হাজার ২৩৭ জন, যা গত মার্চের প্রায় দ্বিগুণ।
এদিকে করোনায় মৃত্যু যখন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, তখন নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ব্যাপক মাত্রায় কমেছে। গত ১২ এপ্রিল দেশে এ যাবৎ সর্বোচ্চ ৩৪ হাজার ৯৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হওয়ার পর গতকাল নাগাদ পরীক্ষা কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে মাত্র ১৬ হাজারের কিছু বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় ৩ হাজার ৪৭৩ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন রোগী শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, যা আগের দিনের চেয়ে কম।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ এক সপ্তাহে মোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৬ হাজার ৩১৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তার আগের সপ্তাহে ২ লাখ ২০ হাজার ৮২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৮ হাজার ৬৬০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। অর্থাৎ শেষ এক সপ্তাহে পরীক্ষা প্রায় ২০ শতাংশ এবং রোগী শনাক্ত ২৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শেষ এক সপ্তাহে সুস্থ বেড়েছে ৬১ শতাংশের বেশি।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪০৬তম দিন। অধিদপ্তরের গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২৫৭টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৪টি জিন-এক্সপার্ট, ১০২টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২১টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৫ হাজার ৪১৩ জনের। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ১৮৫ জনের। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ৫১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ১৫ হাজার ২৫২ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১০ হাজার ২৮৩ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৯০৭ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৮ হাজার ৮১৫ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৬৯ ও নারী ৩২ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৬৩৫ পুরুষ ও ২ হাজার ৬৪৮ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৪ দশমিক ২৫ ও নারী ২৫ দশমিক ৭৫ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ৬৭ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৩, খুলনা ও ময়মনসিংহে ৩ জন করে, রাজশাহী ও সিলেটে ২ জন করে এবং বরিশালে ১ জন মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৫৮, ৫১-৬০ বছরের ২৯, ৪১-৫০ বছরের ৮, ৩১-৪০ বছরের ৩ এং ২১-৩০ বছরের ছিলেন ৩ জন। এদিন ৯৯ জন হাসপাতালে এবং ২ জন বাড়িতে মারা গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৮০ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ১ হাজার ৭৫১ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৭ হাজার ৮১১ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫০ হাজার ৯১৬ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১০ হাজার ৬৬৭টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিলেন ৫ হাজার ৪২৩টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৮২৩টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিলেন ৬৬৬টিতে।
