দারিদ্র্যের মুখে ভারতের মধ্যবিত্তরা

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৪৫ এএম

করোনাভাইরাসের থাবায় ভারতের অর্থনীতি অনেকটা নিম্নমুখী। অর্থনীতির এই টানাপড়েনে বিপাকে পড়েছে দেশটির মধ্যবিত্ত শ্রেণি। মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি বড় অংশই দারিদ্র্যের কবলে পড়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের বরাতে গত শুক্রবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মহামারীর প্রথম ধাক্কায় গত বছর ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকে নিচে নেমে গেছে। তাদের অর্ধেকই ভারতীয় এবং এই সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ। দারিদ্র্য বিমোচনে কয়েক দশক ধরে একটি দেশ যে অগ্রগতি অর্জন করেছিল, মহামারীর কারণে তা যেন হারাতে বসেছে। ক্ষয়িষ্ণু মধ্যবিত্ত শ্রেণিকেই এর দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা সামলাতে হবে।

ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টের অধ্যাপক ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জ্যোতি ঘোষের মতে, ‘সম্ভাব্য যেকোনো পথেই এটা খুবই খারাপ খবর। আমাদের প্রবৃদ্ধির গতিপথকে পেছনে টেনে ধরেছে এটা এবং আরও বেশি বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্য মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ সামান্যই বিকল্প রেখেছে। শুক্রবার ভারতে নতুন করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে রেকর্ড ২ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ।

অনেক রাজ্যেই লকডাউন ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কাজের অভাবে অভিবাসী শ্রমিকরা গত বছরের মতোই বাসে-ট্রেনে চেপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন। সে দেশে টিকাদান কার্যক্রমও ধীরে চলছে, যদিও সরকার গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি এখন পর্যন্ত গত বছরের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কঠোর লকডাউন ঘোষণায়। ওই লকডাউনে ১০ কোটির বেশি ভারতীয়কে কর্মহীন করেছিল।

নরেন্দ্র মোদি সরকার যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য অনেক দেশের মতো সরকারি ব্যয় বাড়াতেও খুব আগ্রহী না। অথচ বাজেটে অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে ব্যয় বাড়ানো হলে তা ঋণ কমাতেও ভূমিকা রাখবে। মহামারী পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের ভূমিকার পক্ষে সাফাই গেয়ে নয়াদিল্লি বলছে, টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতি হচ্ছে এবং এর ফলে অর্থনীতিতেও গতি ফিরে আসছে। অর্থনীতিবিদরাও অবশ্য আসন্ন বছরে ভারতের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছেন, যদিও সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় টিকাদানের হার কমেছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের সংজ্ঞায় যে বাড়িতে দিনে ১০ থেকে ৫০ ডলারের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থাকে, তারা মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত। এই পরিমাণ আয় একটি ভারতীয় পরিবারকে ভালো এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস, একটি গাড়ি বা স্কুটার ব্যবহার করা এবং সন্তানদের বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ানোর সক্ষমতা দেয়। বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ ভারতীয় এই সংজ্ঞায় পড়েন, গত বছর মহামারী শুরুর আগে এই সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৯০ লাখ, জানাচ্ছে পিউ রিসার্চ সেন্টার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত