করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা

প্রণোদনার অর্ধেক টাকা অনুদান চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ১২:০২ এএম

ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠানকে করোনার ধাক্কা মোকাবিলায় বড় অঙ্কের প্রণোদনা দিয়েছিল সরকার। করোনা মহামারীর প্রভাবে ব্যবসায়ের ক্ষতির রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতে নতুন করে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের এই করোনার প্রভাব ঠেকাতে এবার ব্যবসায়ীরা প্রণোদনা অর্থের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অনুদান হিসেবে  ঘোষণার দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল রবিবার অতীতের ধারাবাহিকতায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই যৌথভাবে ৪১তম পরামর্শক কমিটির ঐ সভা আয়োজন করে। এতে শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই নেতারা এমন দাবি করেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আসন্ন বাজেটে ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবির প্রতিফলন থাকবে। ব্যবসায়ীরা ঠকবে না।

সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, চলমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বাস্তবতার আলোকে এবং গত বাজেটের ধারাবাহিকতায় রাজস্ব ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণীত হবে বলে আশা করি। করোনাভাইরাস ও লকডাউন পরিস্থিতিতে এবার ভার্চুয়ালি এ সভার আয়োজন করা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগামী জুনের শুরুতে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবে সরকার। বাজেটের আগে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পরামর্শমূলক আলোচনা হয়েছে। গতকাল ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ ও সবচেয়ে বড় সভা।

সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আয়কর, ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ও শুল্ক বিষয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবে তিনি অগ্রিম আয়কর (এআইটি), আগাম করসহ (অ্যাডভান্স ট্যাক্স বা এটি) সব ধরনের অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ে লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে প্রতিটি ক্ষেত্রে চালানভিত্তিক লেনদেন প্রক্রিয়া চালু করার প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, এটি কার্যকর করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং তা জিডিপিতে করের অবদান বাড়াতে সহায়ক হবে।

ব্যবসায়ীদের পণ্যের মূল্য ঘোষণায় (সেলফ ডিক্লারেশন) তিন বার পর্যন্ত সুযোগ দেওয়ার পরও কেউ মিথ্যা ঘোষণা দিলে সেক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এতে তৃণমূল পর্যায়ে করের আওতা বাড়বে। বর্তমানে লাভ লোকসান নির্বিশেষে মোট প্রাপ্তি তিন কোটি টাকার ওপরে ০.৫ শতাংশ করের বিধান বহাল রয়েছে। তিন কোটির স্থলে তা ৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। এছাড়া ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর বা এ জাতীয় ব্যবসায়ীদের প্রকৃত মূল্য সংযোজনের ওপর ভিত্তি করে ভ্যাট আরোপ, করপোরেট কর ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে স্বয়ংক্রিয় ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসাসহ বেশ কিছু  প্রস্তাব দেওয়া হয় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে।  

এফবিসিসিআই সভাপতি করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের দেওয়া সহযোগিতার জন্য সন্তোষ প্রকাশ করে গতবারের মতো এবারও ব্যবসাবান্ধব বাজেট করার ওপর জোর দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবির প্রতিফলন আগামী বাজেটে থাকবে বলে আশ^স্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বর্তমান করোনা ভাইরাসের এ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া ও রাজস্ব প্রদান করায় ব্যবসায়ীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনাদের কোনো প্রস্তাব অযৌক্তিক নয়। গত বছরও ব্যবসাবান্ধব বাজেট করেছি। এবারও তার প্রতিফলন দেখতে পাবেন। আপনাদের (ব্যবসায়ীদের) আরও শক্তিশালী হয়ে এগুতে হবে। আপনারা ঠকবেন না।

সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। এছাড়া বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারাও তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেন।

 এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম হিসাবে স্বচ্ছতা আনতে আইসিএবি’র সঙ্গে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা অনিয়ম করতে পারবেন না। সঠিক হিসাব হলে রাজস্ব আদায় বাড়বে, ফলে ভবিষ্যতে করপোরেট করহার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এছাড়া স্বচ্ছতার লক্ষ্যে এনবিআর অটোমেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি জসিম উদ্দিন, বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান, বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, বেসিস-এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত