১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকা দেবে ভারত

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০০ এএম

১৮ বছরের ঊর্ধ্বের সবাইকে করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। বর্তমানে ভারতে ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ মে থেকে নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সেকেন্ড ওয়েভে কমবয়স্করা বেশি করোনায় আক্রান্তে হচ্ছেন বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে এক বৈঠকে গতকাল সোমবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মোদি দাবি করেন, ন্যূনতম সময় যাতে সর্বাধিক ভারতীয়ের কাছে করোনার টিকা পৌঁছে দেওয়া হয়, সেজন্য গত এক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করছে সরকার। রেকর্ড গতিতে টিকাকরণ চালাচ্ছে ভারত। আগামী দিনে সেই টিকাকরণের গতি আরও বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সেই বৈঠকের পর তৃতীয় দফায় ‘উদারীকরণ এবং ত্বরান্বিত’ টিকাকরণ প্রক্রিয়ার জন্য নতুন কৌশলও ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

গত ১৬ জানুয়ারি থেকে দেশে করোনার টিকাকরণ শুরুর পর প্রাথমিকভাবে করোনা যোদ্ধাদের টিকা প্রদান করা হচ্ছিল। তারপর ধাপে ধাপে টিকাকরণের সীমা আরও বাড়ানো হয়। সেভাবে আপাতত ৪৫ বছর এবং তার ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণের জেরে সেই বয়সসীমা তুলে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে আসছিলেন বিরোধীরা।

বিশেষত বিশেষজ্ঞদের মতে, সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউয়ে অধিক সংখ্যক কমবয়স্করা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি দিল্লির একটি ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং অধিকর্তা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, বয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি কমবয়স্করা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। সেই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের দাবি মেনে পুরো বয়সসীমা তুলে না দেওয়া হলেও প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণ শুরুর পথে হেঁটেছে কেন্দ্রে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই সিদ্ধান্তের ফলে যারা কাজ করেন, তারা টিকা পাবেন। ফলে কাজের স্বার্থে তাদের বাড়ির বাইরে যেতে হলেও সংক্রমণের আশঙ্কা কমবে। সেক্ষেত্রে সার্বিকভাবে ভারতের সংক্রমণের গ্রাফও কিছুটা নিম্নমুখী হবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত