রোজাদারের প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদত

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৫৫ এএম

মুমিনের অপার সম্ভাবনার মাস রমজান। এই মাসটি পাওয়া অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘এই মাসের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান।’ ইসলামি স্কলারদের মতে, এই মাসে যত বেশি ইবাদত করা যায় ততই ভালো। রমজানে রোজাদারের প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদতে গণ্য হয়। রোজা অবস্থায় অন্য ইবাদত করলে বাড়তি সওয়াব হিসেবে তা যুক্ত হবে। যেহেতু এই মাসের প্রতিটি ইবাদতে ৭০ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়ার কথা হাদিসে উল্লেখ আছে এজন্য প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতে লাগানো উচিত।

রমজানে ইবাদতের পাশাপাশি একনিষ্ঠ তওবার গুরুত্ব অনেক বেশি। এই মাসের তওবা সহজেই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। রমজান আমাদের জীবনে যে শুদ্ধতার ও শুভ্রতার আবহ নিয়ে এসেছে, তাতে তওবা করে জীবনকে আলোকিত করার সুযোগ সবার গ্রহণ করা উচিত। রমজানে তওবা করে তার ওপর টিকে থাকা যত সহজ তা আর কখনো সম্ভব না। রমজানে চলতে-ফিরতে সংঘটিত নানা ধরনের পাপের জন্য আল্লাহর কাছে আমরা দিন শেষে অথবা গুনাহ হয়ে যাওয়া মাত্রই ইস্তেগফার করতে পারি। মুমিনের জীবনে অত্যন্ত সৌভাগ্যপূর্ণ নেয়ামত হচ্ছে আন্তরিক ইস্তেগফারের সু-অভ্যাস। রমজানে এই আমলটি আমরা শুরু করতে পারি।

বান্দা যখন তার নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে, তার কাছে মাগফিরাত তলব করে এটা আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। কোরআনের বিভিন্ন স্থানে দোয়া কীভাবে করতে হবে এর পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। আল্ল­াহ বান্দার আহ্বানে সাড়া দেবেন বলে কোরআনে ওয়াদা করেছেন, ‘হে বান্দারা! তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা মুমিন : ৬০)

বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে ডাকলে আল্লাহ বান্দার ডাকে বেশি সাড়া দেন বলেও হাদিসে উল্লেখ আছে। তাই রমজান মাসে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এ মাসে অনেকগুলো মুহূর্ত আছে যখন দোয়া করলে তা কবুলের নিশ্চয়তা অনেক বেশি। যেমন ইফতারের সময় দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। তারাবি, তাহাজ্জুদ, সাহরির সময় দোয়া কবুলের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কেউ যখন রোজা অবস্থায় আল্লাহর দরবারে হাত তোলেন তখন আল্লাহর রহমত তার দিকে ধাবিত হয়। তার মনের আকুতি আল্লাহতায়ালা সহজেই গ্রহণ করেন।

রমজানে চারটি আমল বেশি বেশি করার কথা হাদিসে উল্লেখ আছে। সেগুলো হলো কালেমা পাঠ, ইস্তেগফার করা, জান্নাত লাভের প্রত্যাশা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের জন্য প্রার্থনা করা। আমরা আমাদের অপরাধের কারণে আল্লাহর দরবারে ধরা পড়ে গেলে কোনো উপায় নেই। এজন্য আল্লাহ মহান দরবারে যেন আমি ধরা না খাই সেই আকুতি রমজানে বেশি বেশি জানাতে হবে।

লেখক : আলেম ও ধর্মীয় নিবন্ধকার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত