বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্ট আজ থেকে

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৫৭ এএম

১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই শ্রীলঙ্কা স্পিন-সাম্রাজ্য। সেখানে সব দলই খেলতে গিয়ে খাবি খেয়েছে স্পিনারদের ঘূর্ণিতে। বিশেষ করে এক মুত্তিয়া মুরালিধরনের সামনেই। ১৩৩ টেস্টে ৮০০ উইকেট নিয়ে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এই স্পিন কিংবদন্তি। সঙ্গে ৯৩ টেস্টে ৪৩৩ উইকেট নেওয়া রঙ্গনা হেরাথ ক্রিকেটে সবচেয়ে সফল বাঁহাতি স্পিনার। ২০১৮ সালে হেরাথের অবসরের পর এই অবস্থার বদল এসেছে। পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কা এখন স্পিন ছেড়ে পেস শক্তির পেছনে ছুটছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে আজ থেকে শুরু দুই টেস্টের সিরিজে তাদের শক্তি পেসাররা। এদিকে বাংলাদেশও একই পথের যাত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে পেস বোলিংয়ে ব্যাপক উন্নতি করা বাংলাদেশও পেসনির্ভর দল হয়ে ওঠার চেষ্টায়। তাই এই সিরিজে ঐতিহ্যবাহী স্পিনের মাটিতে পেসারদের লড়াই দেখার অপেক্ষা।

দু’দলই পেসারনির্ভর হওয়ার কারণ উইকেট। ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের পিচে ঘাস আছে। তাই স্পিনে বাড়তি নজর দিতে চাচ্ছে না কোনো দল। ম্যাচের একদিন আগে দল ঘোষণা করেছে দুই দলই। তাতে পেসারদের আধিক্য। সবশেষ টেস্ট সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন নাঈম হাসান। তিন স্পিনার থেকে দুই স্পিনারে নেমেছে বাংলাদেশ। পেসার চারজন। নতুন মুখ শরিফুল ইসলাম। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুমিনুল হক জানিয়ে গেলেন পেসনির্ভর বোলিং অ্যাটাক দিয়েই সফল হওয়ার চেষ্টা তার ‘হ্যাঁ, আমাদের বোলিং অ্যাটাক পেসনির্ভর হবে। আমাদের সফলতা এতে কম হবে না আশা করি। পেসারদের প্রতিযোগিতাই বেশি হবে। যারা আগে খেলেছে তারাই তো সবচেয়ে বেশি ডিপেন্ডেবল আমার কাছে। রাহী, এবাদত, তাসকিন। তারপর যদি বলেন শরিফুল। যারা নিয়মিত খেলছেন তাদের ওপরই আস্থা রাখছি বেশি।’ 

শ্রীলঙ্কা একধাপ এগিয়ে। আনকোরা ও অভিজ্ঞ মিলিয়ে চার পেসার নিয়েছে স্বাগতিকরা। স্পিনার মাত্র একজন। লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে রেখে নিজেদের স্পিন ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা লঙ্কার। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পেস দুর্বলতায় আঘাত দেওয়ার কথা জানালেন অধিনায়ক দিমুথ করুনারতেœ, ‘আমরা উইকেট দেখেছি। সবুজ ঘাস আছে, পেসারদের জন্য ভালো। আর আমরা তো জানি যে বাংলাদেশ পেসে দুর্বল। দলে তাই পেসার বেশি আছে। আমরা চাচ্ছি তিন পেসার খেলাতে। বেশিও হতে পারে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এখনো নেইনি। তবে এ সিরিজে পেস আমাদের বোলিং আক্রমণের মূল শক্তি হবে এটা নিশ্চিত।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের মাটিতে ২০১৭ সালে সবশেষ টেস্ট ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ, যা ১০০তম টেস্ট ছিল বাংলাদেশের। ওই জয়ে সিরিজ ড্র করে টাইগাররা। সেই দলের মাত্র চারজন বর্তমান দলে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। তাই চার বছর আগের জয় বাংলাদেশকে কতটা আত্মবিশ্বাস জোগাবে সেটাই প্রশ্ন। অবশ্য মিরাজ বলেছিলেন সেই জয় থেকে অনুপ্রেরণা নেবেন। কিন্তু সম্প্রতি টেস্টে বাংলাদেশের যা পারফর্ম, বিশেষ করে উইন্ডিজের বিপক্ষে গত সিরিজে তাতে আশা করার মতো কিছু নেই। কিন্তু অধিনায়ক মুমিনুল এতে চাপ নিচ্ছেন না মোটেই। উল্টো জয়ের খোঁজে আছেন, ‘আমি তো কোনো চাপে নেই। আমার দলও কোনো চাপে নেই। আমরা এখানে এসেছি ম্যাচ জেতার জন্য। পুরোপুরি চেষ্টা করব ম্যাচ জেতার, এটাই। অবশ্যই শ্রীলঙ্কা ভালো অবস্থানে আছে। আমরা শেষ দুইটা টেস্ট ভালো খেলতে পারিনি। কিন্তু আগেও বলেছি ক্রিকেটে অতীত নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। যদি প্রসেস ঠিক থাকে, পাঁচ দিন ভালো খেলি ইনশাআল্লাহ জয় পাব।’

চার বছর আগের হেরে যাওয়া দলের পাঁচজন অধিনায়ক দিমুথ করুনারতেœ, দিনেশ চান্দিমাল, সুরঙ্গ লাকমল, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও নিরোশান ডিকভেলা আছেন বর্তমান শ্রীলঙ্কা দলে। বাকিদের নিয়ে তাদের সাম্প্রতিক পারফর্ম ভালো। উইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টই লড়াই করে ড্র নিয়ে ফিরেছে তারা। তাই আত্মবিশ্বাসে বাংলাদেশের চেয়েও এগিয়ে স্বাগতিকরা। করুনারতেœ জানান, ‘উইন্ডিজে আমাদের একটা ভালো সিরিজ হয়েছে। পেসাররা ভালো করেছে। দুর্ভাগ্য যে এম্বুলদেনিয়াকে পাচ্ছি না। গত সিরিজে না জিতলেও আমাদের পারফর্ম ভালো ছিল। চেষ্টা থাকবে সেই ধারাবাহিকতা রেখে এই সিরিজটা জিততে।’

লঙ্কানদের সঙ্গে মোট ২০ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। জয় একটি ও ড্র তিনটিতে। বাকি ১৬ ম্যাচে হার। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জয়ের আশা কেমন এমন প্রশ্নে ঝাঁঝালো উত্তর মুমিনুলের, ‘আশার তো কোনো শেষ নেই। আশা তো সব সময় থাকতে হবে। আপনি এই জায়গায় এসেছেন শুধু অংশ নিতে তাহলে তো হবে না। এই জায়গায় যদি শুধু অংশ নিতে আসেন তাহলে ক্রিকেট না খেলাই ভালো আমার মতে। যেখানেই যান, যত খারাপ পরিস্থিতি থাকুক অবশ্যই জেতার আশা থাকতে হবে, স্পৃহা থাকতে হবে। এটা নিয়েই আমরা মাঠে নামব।’

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সবচেয়ে গুরুত্বহীন সিরিজ সম্ভবত এটাই। তবে বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন। ৯ দলের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেরই কোনো পয়েন্ট নেই। সেই শূন্যতা ঘোচানোর সিরিজ মুমিনুলদের। শ্রীলঙ্কার জন্য ১০ ম্যাচে ১২০ পয়েন্টের ঘরটা আরেকটু বাড়িয়ে নেওয়ার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত