দেশের বাজারে নতুন পণ্য সংযোজনের ফলে মহামারীর মধ্যেও নিট বিক্রি বেড়েছে সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের। বাজারে নতুন সিমেন্ট ও অ্যাগ্রিগেট ব্যবসার সংযোজনে চলতি ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির নিট বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ২৩ শতাংশ। এ সময় উৎপাদন ব্যয় ও সুদবাবদ খরচ কমে যাওয়ায় লাফার্জহোলসিমের নিট মুনাফা দ্বিগুণ হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।
জানা গেছে, চলতি বছর অ্যাগ্রিগেট ব্যবসার সংযোজন লাফার্জহোলসিমের পণ্য বিক্রি থেকে আয় বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ‘হোলসিম ওয়াটার প্রটেক্ট’ নামে পানি প্রতিরোধী বিশেষ সিমেন্ট বাজারে এনেছে। নতুন সিমেন্ট ও অ্যাগ্রিগেট ব্যবসার সংযোজন কোম্পানির বিক্রি ও মুনাফা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
চলতি প্রথম প্রান্তিকে পণ্য বিক্রি থেকে কোম্পানির আয় হয়েছে ৬৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এ সময় উৎপাদন ব্যয়ও কমেছে। ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় ছিল মোট বিক্রির ৭৭ শতাংশ, যা চলতি প্রথম প্রান্তিকে ৭০ শতাংশে নেমে আসে।
উৎপাদন ব্যয়ের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিমের মোট আয় হয়েছে ১৮৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি। চলতি প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ হিসেবে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ১০৫ শতাংশ।
চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির সুদবাবদ ব্যয়ও কমেছে। সুদ ব্যয়ের পর লাফার্জহোলসিমের করপূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। চলতি প্রান্তিকে কোম্পানির কর পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে। এ সময় কর পরিশোধ করে ৩২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিমের নিট মুনাফা হয়েছে ১০৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এ হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে ৯৮ শতাংশ। চলতি প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৫ পয়সা।
আর্থিক প্রতিবেদন সম্পর্কে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজেশ সুরানার বলেন, ‘উদ্ভাবন ও টেকসই ব্যবসায় সুনির্দিষ্ট আলোকপাতের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে দারুণ ফলাফল অর্জন করতে আমরা সমর্থ হয়েছি। আমাদের নতুন পানি প্রতিরোধী সিমেন্ট এবং নতুন বিপণন চ্যানেল ‘ডিরেক্ট টু রিটেইল’ ভালো সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। নতুন নতুন নির্মাণ পণ্য উদ্ভাবনের আমাদের যে সক্ষমতা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ ও সেবা প্রদান করার যে অঙ্গীকার আমরা করেছি এটা তারই বহিঃপ্রকাশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রান্তিকে আমরা ক্লিয়ার সাইজ অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা শুরু করেছি যার শতভাগ চাহিদা এর আগে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হতো, ফলে এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। গ্রাহকদের কাছ থেকে এই পণ্যের ইতিবাচক চাহিদা আমরা পাচ্ছি। এ ছাড়া কোম্পানি ডিজিটাল উদ্যোগের সাহায্যে আমাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অধিকতর গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, যার মাধ্যমে বাজারে কোম্পানির অবস্থান দৃঢ় হয়েছে।’
