ব্র্যাক ব্যাংকের নিট মুনাফা ৪৫৪ কোটি টাকা

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:৪৩ এএম

করোনা মহামারীর মধ্যেও ব্র্যাক ব্যাংক মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছে। ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার কমিয়ে আনার কারণে সুদ বাবদ আয় কমলেও নিট মুনাফায় তেমন প্রভাব ফেলেনি। ২০২০ সালে ব্যাংকটির সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ৪৫৪ কোটি টাকা। মহামারীতে ব্যাংকটির আমানতে প্রবৃদ্ধি হলেও ঋণ বিতরণে সতর্ক ছিল ব্র্যাক ব্যাংক। গত ২১ এপ্রিল ব্র্যাক ব্যাংক যে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে, তা পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনে ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২০ সালে একক ভিত্তিতে ৪৫৪ কোটি টাকা ও সমন্বিত ভিত্তিতে (সব সহযোগী সংস্থাসহ) ৪০৩ কোটি টাকার কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে। এ সময় সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৩৩ পয়সা।

২০২০ সাল শেষে ব্র্যাক ব্যাংকের বছরপ্রতি গ্রাহক আমানতে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। তবে এ সময় গ্রাহক ঋণ পোর্টফোলিওর ব্যাপারে বেশ সতর্ক ছিল ব্র্যাক ব্যাংক। এক্ষেত্রে বছরপ্রতি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ। গ্রাহকদের ঋণ প্রদানের ব্যাপারে শক্তিশালী সূচনার পরও মহামারীর কারণে পরবর্তীতে তার প্রভাব পড়ে। এ সময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) খাতে বছরপ্রতি ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশ হলেও করপোরেট, বাণিজ্যিক এবং রিটেইল ব্যাংকিংয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে খুব সংবেদনশীল ছিল।

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঋণ ও বিনিয়োগের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনায় পুরো ব্যাংকিং খাতের সুদ আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে যায়। তা সত্ত্বেও ব্র্যাক ব্যাংক ৪ দশমিক ৬ শতাংশ নিট সুদের মার্জিনের মাধ্যমে বছরের শেষ করেছে। তবে সুদের আয় পুনরুদ্ধারে ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগ শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে ২০২০ সালে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকে বছরপ্রতি আয় প্রবৃদ্ধি ছিল ৫৩ শতাংশ। ২০২০ সালে ব্যাংকের নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) অনুপাত হ্রাস পেয়ে ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মহামারী থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ব্যাংকের এনপিএল কভারেজ অনুপাত ১৭১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ব্যাংকিং শিল্পে এটি অন্যতম উচ্চ এনপিএল কভারেজ অনুপাত।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সেলিম রেজা ফরহাদ  হোসেন বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংক তার গ্রাহক এবং স্টেকহোল্ডারদের মাঝে যে সুনাম নিয়ে বছর শুরু করেছিল, মহামারী চলাকালীন অনবদ্য পারফরম্যান্সের কারণে বছর শেষে তা অনেক গুণ বেড়েছে।’ তিনি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেও পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতার সঙ্গে কাজে সর্বোচ্চ মান প্রদর্শন করায় ব্যাংকের ৯ হাজার ৫০০ কর্মীর প্রশংসা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত