১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পেশাদার লিগ কমিটির জরুরি সভায় ক্লাবগুলোকে লকডাউন শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয়পর্ব শুরুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তিন দিন পর আরেকটি জরুরি সভায় লকডাউন শেষ হওয়ার দু’দিনের মধ্যে লিগ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিত অনুমতিও চেয়েছে বাফুফে। কিছু ক্লাবের আপত্তি সত্যেও তারা চায় ঈদুল ফিতরের ছুটির আগেই কমপক্ষে তিন রাউন্ডের খেলা শেষ করতে।
প্রায় দু’ঘণ্টাব্যাপী ভার্চুয়াল সভায় পয়েন্ট তালিকার নিচের সারির চারটি ক্লাব তড়িঘড়ি দ্বিতীয়পর্ব শুরুতে আপত্তি জানায়। চলমান লকডাউনের কারণে ব্রাদার্স ইউনিয়ন, উত্তর বারিধারা, মুক্তিযোদ্ধা ও আরামবাগ বন্ধ রেখেছে ক্যাম্প। ফুটবলাররা ফিরে গেছেন যার যার বাসায়। লকডাউনের মধ্যে তাদের ক্যাম্পে ফিরিয়ে অনুশীলন শুরু করা তাদের জন্য কঠিন। কিন্তু বাফুফে বিশ্ব ফুটবলের উদাহরণ টেনে চাইছে দ্রুত খেলা শুরু করতে। পেশাদার লিগ কমিটির প্রধান ও বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী সভা শেষে জানান, ‘সব ক্লাবই খেলার পক্ষে মত দিয়েছে। যেহেতু ২৮ তারিখ পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা আছে। সেটা বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি। আমরা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছি এবং ফোনে প্রতিমন্ত্রীর (জাহিদ আহসান রাসেল) সঙ্গে কথাও বলেছি। আমরা বলেছি যে, বহির্বিশ্বে এই মহামারীর মধ্যেই ফুটবল হচ্ছে। পাশের দেশ ভারতেও ফুটবল, ক্রিকেট নিয়মিত চলছে। তাই আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলা আয়োজন করার কথা বলেছি। আমরা তিনটি জিনিসকে বিবেচনায় এনেছিÑ ঈদের ছুটি, আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের এএফসি কাপের খেলা এবং জাতীয় দলের সূচি। সব কিছু চিন্তা করে প্রথমপর্ব যে চার ভেন্যুতে হয়েছিল সেভাবেই লিগ শুরু হবে।’
খসড়া সূচি অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংস টঙ্গীর শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে উত্তর বারিধারার। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ব্রাদার্স-শেখ রাসেল ম্যাচের পর হবে পুলিশ-আবাহনী ম্যাচ। আর কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মোহামেডান খেলবে আরামবাগের বিপক্ষে।
সালাম জানান, ঈদের ছুটির আগে কমপক্ষে তিন রাউন্ডের খেলা শেষ করতে চান। ‘লিগের যে খসড়া সূচি হয়েছে তাতে লিগ শেষ হয় ৭ আগস্ট। যদিও ক্লাবগুলোর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার ব্যাপারে অনুরোধ আছে। এএফসি কাপে আবাহনী ও কিংসের বেশ কিছু খেলা আছে। সেই ম্যাচগুলো ঈদের ছুটির মধ্যেই হয়ে যাবে। তারপরও এই দুটি দলকে বলেছি এএফসি কাপের পর একটু ঘন ঘন লিগের ম্যাচ খেলতে। তারা সম্মতি দিয়েছে’ জানান সালাম।
৬ মার্চ প্রথমপর্বের খেলা শেষ হয়েছিল। এরপর ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলেছে মধ্যবর্তী দলবদল। ১৩টির মধ্যের ১২টি ক্লাব দ্বিতীয়পর্বের জন্য ৪৪ জন নতুন ফুটবলার নিবন্ধন করে। সবচেয়ে বেশি ফুটবলার পরিবর্তন করেছে নিচের দিকে থাকা চার দল। অবনমন এড়াতে তারা দল পুনর্গঠন করলেও প্রস্তুতির ঘাটতির জন্য লিগ ৩০ এপ্রিল শুরুতে আপত্তি জানিয়েছিল। বড় ক্লাবগুলোর অবশ্য সেই সমস্যা নেই। তারা অনুশীলনের মধ্যেই রয়েছে।
