দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ

ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ থেকে জীবিত দিনাজপুরের সহিদা

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৪:২৪ এএম

এক যুগ আগে মারা যাওয়া স্বামীর অবসর ভাতায় সংসার চলছিল দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের সহিদা বেগমের (৮৪)। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় মৃত দেখানোয় এক বছরের বেশি সময় ধরে (১৪ মাস) স্বামীর অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারছেন না তিনি। পাচ্ছেন না নাগরিক অন্যান্য সুবিধাও। অবশেষে জীবিতের তালিকায় নাম উঠেছে এই সহিদার।

বেঁচে থেকেও মৃতের তালিকায় নাম ওঠা ওই নারীর ভোগান্তির বিষয়ে ১৮ এপ্রিল দৈনিক দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ হলে টনক নড়ে নির্বাচন কমিশনের। বৃদ্ধা সহিদা বেগমকে পুনরায় জীবিত হিসেবে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচন কমিশন।

সহিদা বেগম চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেড়াই গ্রামের প্রয়াত ফজির উদ্দিন ইসাহাকের স্ত্রী। ফজির উদ্দিন ইসাহাক ভূমি অফিসের চতুর্থ শ্রেণির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন। তার মৃত্যুর পর অবসর ভাতার টাকা দিয়ে সহিদা একমাত্র ছেলেকে নিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। আগে তিনি পাস বইয়ের মাধ্যমে টাকা তুলতেন। গত বছর পাস বইয়ের পরিবর্তে ব্যাংকে গিয়ে টাকা উত্তোলনের নিয়ম শুরু হয়। এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকে গিয়ে টাকা গ্রহণের সময় সহিদা বেগমকে জানানো হয় যে তিনি টাকা পাবেন না। কারণ নির্বাচন কমিশনের তালিকায় তাকে মৃত দেখাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এমন গাফিলাতির কারণে ১৪ মাস ধরে তিনি কোনো টাকা তুলতে পারেননি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেছেন সহিদা। নাম সংশোধনের জন্য আবেদনপত্র, চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, পাস বই, ব্যাংকের চেক বইসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নির্বাচন কার্যালয়ে জমাও দেন। কিন্তু এত সবকিছুর পরও জীবিতের তালিকায় সহিদার নাম ওঠায়নি নির্বাচন কমিশন। শত চেষ্টায়ও ‘মৃত’ থেকে জীবিত হতে পারেননি তিনি। সহিদা বেগম ১৪ মাস ধরে ‘জীবিত’ হওয়ার চেষ্টায় ঘুরছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে। এ বিষয়ে ১৮ এপ্রিল প্রতিবেদন প্রকাশ হয় দৈনিক দেশ রূপান্তরে। আর এরপরই টনক নড়ে নির্বাচন কমিশনের। ভোটার তালিকায় তার নাম জীবিত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মালেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় একটি ভুলের কারণে সহিদা বেগমের বিষয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা তার নাম পুনরায় জীবিত হিসেবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করেছি।’

এদিকে জীবিতের তালিকায় নাম ওঠায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সহিদা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপনারা আমাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এ জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আপনাদের সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আমার নাম জীবিত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সার্টিফিকেট দিয়েছে। সেই সার্টিফিকেট আমি ব্যাংকে জমা করে টাকা উত্তোলনও করতে পারছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত