বৈশ্বিক জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের প্রতি চার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মনে করেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখতে উন্নত দেশগুলোকে তাৎক্ষণিক ও উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ পরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) গ্রহণ করতে হবে। চার পরামর্শ হলো কার্বন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ুর ক্ষতি প্রশমন ও পুনর্বাসনে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার ফান্ড নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে বেশি মনোযোগী হওয়া।
গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্যোগে ও আমন্ত্রণে জলবায়ুবিষয়ক দুদিনব্যাপী ‘লিডার্স সামিট’-এর উদ্বোধনী সেশনে ভিডিও বার্তায় এসব পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। ভার্চুয়ালি এ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভøাদিমির পুতিনসহ উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের ৪০ জন বিশ্বনেতা অংশ নেন, যার উদ্বোধন করেন জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরে আসা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আগ্রহকে বাংলাদেশ প্রশংসা করে বলে জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে উন্নত দেশগুলোকে তাৎক্ষণিক ও উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ পরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) গ্রহণ করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকেও প্রশমন ব্যবস্থার দিকে মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ১০০ মার্কিন ডলার তহবিল নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে এ তহবিলের ৫০ শতাংশ অভিযোজন ও ৫০ শতাংশ প্রশমনের জন্য কাজে লাগাতে হবে। কভিড-১৯ মহামারী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, বৈশ্বিক সংকট শুধু সবার সম্মিলিত দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমেই মোকাবিলা করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ভাবন এবং জলবায়ু অর্থায়নে (কনসেশনাল ক্লাইমেট ফিন্যান্সিং) বড় অর্থনীতির দেশ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সেক্টরগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সবুজ অর্থনীতি এবং কার্বন নিরপেক্ষ প্রযুক্তিতে ট্রান্সফার হওয়া প্রয়োজন।’ সম্পদের সীমাবদ্ধতার সঙ্গে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও অভিযোজন এবং প্রশমনে বিশ্বে বাংলাদেশের সফলতার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতি বছর বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। যা আমাদের জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ।’ মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে আশ্রয় এবং এর ফলে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে মুজিববর্ষ পালন করছে। সারা দেশে আমরা তিন কোটি গাছের চারা রোপণ করছি এবং কম কার্বন উৎপাদন করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মুজিব ক্লাইমেট প্রোসপারিটি প্ল্যান গ্রহণ করেছি। ভি-টুয়েন্টি ও ক্লাইমেট ভলনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরা। আমরা গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের দক্ষিণ এশিয়া কার্যালয় নির্মাণ করছি যা স্থানীয় অভিযোজন সংক্রান্ত বিষয় সমাধান করবে।’
এর আগে গত ৮ এপ্রিল সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে আসেন জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি। আমেরিকার সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশের জলবায়ু মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ এবং রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, জন কেরি সফরকালে সুন্দরবনের পাশর্^বর্তী এলাকা রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওইদিন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জলবায়ু মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের জন্য দেশটির পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননার কথা জানানো হয়।
