চট্টগ্রামে তারিখের আগেই টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিচ্ছেন অনেকে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৫৮ এএম

চট্টগ্রামে ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণের মধ্যে টিকার মজুদ নিয়ে একটি মহল গুজব ছড়িয়েছে। এরপরই কেন্দ্র কেন্দ্রে টিকাগ্রহীতাদের ভিড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। অনেকে নির্দিষ্ট তারিখের আগেই দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, টিকার পর্যাপ্ত ডোজ মজুদ রয়েছে। গুজবে কান দিয়ে ভিড় করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। আর নির্দিষ্ট সময়ের আগে দ্বিতীয় ডোজ নিলে ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামে গণটিকাদান কার্যক্রমে দ্বিতীয় ডোজ শুরু হয় গত ৮ এপ্রিল। এর সঙ্গে প্রথম ডোজের টিকাদানও চলমান রয়েছে। চট্টগ্রামে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩৩ জন প্রথম এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৩ জন টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। শুক্রবার বাদে প্রতিদিন টিকাদান কার্যক্রম চলছে। নগরীর বাসিন্দাদের মধ্যে টিকা গ্রহণের আগ্রহ বাড়লেও করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি কেউই মানছেন না। টিকা নিতে এসেও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।

সরেজমিনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে এক কেন্দ্রের টিকাগ্রহীতাকে অন্য কেন্দ্রে এবং নির্দিষ্ট তারিখের আগেই দ্বিতীয় ডোজ নিতে দেখা গেছে। টিকা নিতে আসা অনেকের অভিযোগ, বুথ ও বুথের বাইরে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। তথ্য ঘাটতির কারণে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের বুথ পেতে ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। সব মিলে নগরীতে সমন্বয়হীনতা ও গুজবে টিকা কেন্দ্রগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার নগরীর সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতালে (মেমন-২) গিয়ে দেখা যায়, টিকাগ্রহীতাদের ভিড়ে নিচতলা ও দ্বিতীয়তলায় পা রাখার জায়গা নেই। বাঁশখালীর গুনাগরী থেকে টিকা দিতে আনা বৃদ্ধ অনিল রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লকডাউনে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। টিকা শেষ হয়ে যাচ্ছে শুনে ৭০০ টাকা সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে এসেছি। নিচতলায় অনেকক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখার পরে জানাল, দ্বিতীয় ডোজ দ্বিতীয়তলায় দেওয়া হচ্ছে। টিকার প্রথম ডোজের কার্ডের ফটোকপি চাইলেও, আগে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি।’ নগরীর সদরঘাট থেকে আসা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী মাসে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার তারিখ ছিল। সে সময় ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকব। তাছাড়া টিকা নাকি ফুরিয়ে যাচ্ছে, এজন্য ৮ দিন আগেই নিয়ে নিচ্ছি।’

সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতাল ও ছাফা মোতালেব টিকা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, এখানে কোনো নিয়মনীতি না মেনে নির্দিষ্ট তারিখের আগেই টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ডোজ অন্য কেন্দ্রে নিলেও দ্বিতীয় ডোজ এখানে নিতে এসেছেন অনেকে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক কলেজ শিক্ষিকা বলেন, ‘আমরা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে রয়েছি দীর্ঘক্ষণ। অথচ নির্দিষ্ট তারিখের আগে এসে কর্র্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে অনেকে টিকা নিয়ে চলে যাচ্ছেন।’

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর ১২ কেন্দ্রে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ৯ হাজার ৭৬৪ জন। ১৪ উপজেলায় এ সংখ্যা ৮ হাজার ৭৪ জন। সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, চট্টগ্রামে নগর, উপজেলা এবং জেলা ইপিআই স্টোরে এখনো ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮০ ডোজ টিকা মজুদ রয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টিকার পর্যাপ্ত ডোজ মজুদ রয়েছে। একটি মহল গুজব ছড়িয়েছে। মানুষ তথ্য যাচাই-বাছাই না করে কেন্দ্রে ভিড় করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মেসেজ ছাড়া কাউকে টিকা না দিতে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। এখন থেকে মেসেজ, টিকা কার্ডের উল্লিখিত তারিখ ও নির্দিষ্ট কেন্দ্র দেখেই টিকা দেওয়া হবে। কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘নির্দিষ্ট তারিখের আগে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া উচিত নয়। শরীরে এন্টিবডি তৈরি হওয়ার আগেই দ্বিতীয় ডোজ নিলে টিকার কার্যকারিতা ভালো হবে না। এ বিষয়ে কর্র্তৃপক্ষের কঠোর হওয়া উচিত।’ তিনি পরামর্শ দেনÑ ‘জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কারও টিকা নেওয়া ঠিক হবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত