ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ খুবই তীব্র হয়েছে। প্রতিদিনই দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড হচ্ছে। গত শুক্রবার ভারতে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এক দিনে এত রোগী পৃথিবীর কোনো দেশেই শনাক্ত হয়নি। আগের দিনে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৩০ জন শনাক্তে বিশ্বরেকর্ড হয়েছিল, যা গত ২৪ ঘণ্টায় ভেঙে গেল।
শনাক্তের সঙ্গে শুক্রবার মৃত্যুতেও ভারতে রেকর্ড হয়েছে। এদিন ২ হাজার ৬২৪ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। আগের ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৬৩ জন। গতকাল শনিবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ নিয়ে সংক্রমণের সংখ্যা ১ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার ৪৮১ জন। আর মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪৪ জনে পৌঁছেছে।
এনডিটিভি বলছে, হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের সংকট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রাতে দিল্লির জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে আরও ২৫ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আগের দিনই দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে একই কারণে চিকিৎসাধীন ২৫ করোনা রোগী মারা যান।
সংকট মোকাবিলায় সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অক্সিজেন সহায়তা চেয়ে গতকাল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল চিঠি লিখেছেন। ইতিমধ্যে অক্সিজেনের সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জার্মানি থেকে অক্সিজেন তৈরির ২৩টি প্ল্যান্ট আনার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। গতকাল সরকারের তরফ থেকে অক্সিজেন, টিকাসহ করোনা প্রতিরোধের সরঞ্জাম আমদানিতে ডিউটি পুরো মওকুফের ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে বর্তমান সংক্রমণকে ‘সুনামি’ আখ্যায়িত করে গতকাল ভারতের হাইকোর্ট বলেছে, কেউ অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ‘আমরা তাকে ফাঁসিতে ঝুলাব’। গুরুতর রোগীর জন্য অক্সিজেন সরবরাহে হাসপাতালের এক আবেদনের শুনানিতে এ হুমকি দেয় উচ্চ আদালত।
ভারতের গণমাধ্যমগুলো বলছে, হাসপাতালগুলোতে রোগী উপচে পড়ছে; খালি নেই কোনো শয্যা। বেশিরভাগ হাসপাতালে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার চলছে। মৃতের সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে, গণঅন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করা হচ্ছে। তারপরও অনেকে সরঞ্জামের অভাবে লাশ বাড়িতে দিনের পর দিন রেখে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অতুল যোগিয়া বলেন, ‘রোগীর সংখ্যা এত বেড়েছে যে, জরুরি বিভাগে তিলধারণের জায়গা নেই। আমাদের সবগুলো অক্সিজেন পয়েন্ট রোগীতে পূর্ণ। আমরা তাদের সাহায্য করতে চাই। কিন্তু আমাদের কাছে যথেষ্ট শয্যা বা অক্সিজেনের সরবরাহ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘রোগীর স্বজনদের ফোনের চাপে টেলিফোন লাইনগুলো জ্যাম হয়ে গেছে। হাসপাতালের বাইরেও প্রচণ্ড ভিড়; রোগীদের নিয়ে তাদের স্বজনরা ভেতরে ঢোকার সুযোগের অপেক্ষায় আছেন। আমরা তাদের জন্য কিছুই করতে পারছি না, এর চেয়ে কষ্টের কিছু নেই।’
